বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
![]() |
| ডানহাতের বন্ধন |
পোস্টটির প্রকাশকালঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
"পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডান হাতের মালিকানা বলতে কী বোঝানো হয়েছে!? কোন্ কোন্ শ্রেণীর নারীকে বিয়ে ব্যতীত ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে!? এবং কোন্ কোন্ শ্রেণীর পূরুষদের এ মালিকানা পাওয়ার অধিকার থাকবে!? আবার এ মালিকানা প্রদান করার ক্ষমতা সহ এর বৈধ কর্তৃপক্ষ কে হবে!? এ ডানহাতের মালিকানা বিষয়ক বিস্তারিত মাসআলা কী হতে পারে!?"
(ইহা একটি রিভিউ ফতোয়া! সবিস্তার লিখতে গিয়ে অনেক লিখতে হয়েছে! যদি ফতোয়াই বুঝতে চান, তবে অনুগ্রহপূর্বক প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোনকিছু বাদ না দিয়ে একটানা পড়ুন)
২। বিশেষ বুলেটিনঃ
লজ্জ্যা নয়, জানতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সের ছেলে-মেয়েদেরকে বা অবিবাহিতদেরকে এ মাসআলাটি না পড়ার জন্য এবং কোন ধরনের কমেন্টস না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
৩। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ
আপাতদৃষ্টিতে আমার অনেকগুলো কর্ম বা ফতোয়া প্রদান আপনাদের কাছে খারাপ মনে হবে বা আমাকে অযোগ্য মনে হবে! তবুও এ কর্মগুলো কেন আমার রব সরাসরি নিষেধ করেননি, বা কী রহস্য লুকিয়ে আছে এতে, এবং কেন করেছেন; এ দু'য়ের মাঝে মানুষের কী উপকারীতা বা কী অপকারীতা রয়েছে; মূলত আমি তা বুঝতে চেষ্টা করছি বা করেছি এবং ভবিষ্যতেও হয়তো এভাবেই আমি বুঝতে চেষ্টা করবো। তাই, আপনাদের অনেকে আমার এ ধরনের কর্ম বা ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি হয়তো নাও বুঝতে পারেন। আমি মনেকরি, আদেশের সাথে সাথে মান্য করা, এটা উচ্চতর ঈমান, কিন্তু এর বিপরীতে ঐ আদেশের কারণ জানা থাকলে বা জানতে চেষ্টা করা, সেটা আরো উচ্চতর ঈমান! এবং আমার মতে, এভাবে আমার ঈমান আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে ইনশা'আল্লাহ! তাই প্লিজ আমাকে কেউ অসৎ বা আল্লাহবিমুখ বা আল্লাহর দুশমন ভাববেন না! ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা আসলে আমি আল্লাহর বন্ধু ছাড়া আর কেউ নই!
৪। দৃষ্টি আকর্ষণঃ
'ফতোয়ায়ে আরিফ' কিতাবের মাসআলা হিসেবে এর উপরোক্ত বিষয়ের যে উত্তর নিম্নে লিখা হয়েছে এর মধ্যেকার কোনরূপ সংশোধনী আছে কিনা, এ উদ্দেশ্যে এর ২য় ধাপের অফলাইন মিটিংয়ের এজেন্ডা হিসেবে মাসআলাটি নির্ধারিত!
৫। মাসআলা নং (চয়ন)-
৪
৬। মাসআলা নং (কিতাব)-
&
৭। পাঠের নামঃ
বিয়ে / ডানহাতের মালিকানা
[পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডানহাতের মালিকানা বলতে কী বোঝায়? এ বিষয়ক বিস্তারিত মাসআলা কী হতে পারে? এ পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হলো]
৮। পরিচিত নং-
#.*.১.২.৩.৪.&
৯। প্রশ্ন/মাসআলাঃ
পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডান হাতের মালিকানা বলতে কী বোঝানো হয়েছে!? কোন্ কোন্ শ্রেণীর নারীকে বিয়ে ব্যতীত ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে!? এবং কোন্ কোন্ শ্রেণীর পূরুষদের এ মালিকানা পাওয়ার অধিকার থাকবে!? আবার এ মালিকানা প্রদান করার ক্ষমতা সহ এর বৈধ কর্তৃপক্ষ কে হবে!? এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিষয় সমুহ পরিপূর্ণ ভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি!?
১০। উত্তর/সমাধান/রায়/হুকুমঃ
এ মাসআলায় আসলে বাইশটি প্রশ্ন রয়েছে! প্রথমে প্রশ্নগুলো একে একে তুলে ধরছি-
১। ডানহাতের মালিকানার বন্ধনে যারা আবদ্ধ হবে তাদের মধ্যেকার পূরুষ এবং নারীর উপাধি বা বৈশিষ্ট্যগত নাম কী হবে? এবং এ সম্পর্কের বা এ আকদ অনুষ্ঠানের বা এ বন্ধনের নাম কী হবে!?
২। ডান হাতের মালিকানা বলতে কী বুঝায়?
৩। কোন্ কোন্ শ্রেণীর নারীকে বিয়ে ব্যতীত ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে?
৪। যেসব শিশু ও নারীকে ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ করা যাবে তাদের কী যোগ্যতা থাকতে হবে!? কোন্ কোন্ শ্রেণীর পূরুষদের তাদের এ মালিকানা পাওয়ার অধিকার থাকবে? এবং তাদেরও কী যোগ্যতা থাকতে হবে?
৫। যিনি কারো বৈধ ডানহাতের মালিকানা পাবেন, তিনি যাদের বৈধ মালিকানা পেয়েছেন, তিনি তাদের প্রতি কেমন আচরণ বা ব্যবহার করতে পারবেন!? এবং তাদেরকে তিনি কী কী কাজে খাটাতে পারবেন বা কী কী কাজ বা কী কী দায়িত্ব তাদেরকে দিতে পারবেন!? আর কী কী কাজ বা কী কী দায়িত্ব তাদেরকে দিতে পারবেন না!?
৬। ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাওয়া নারী অথবা পুরুষকে কি মোহরানার মতো কোন অর্থের বিনিময় করতে হবে?
মালিক, লাইফ পার্টনারকে অর্থ দিবে? নাকি লাইফ পার্টনার, মালিককে অর্থ দিবে?
অর্থের পরিমাণ কিরূপ হবে?
৭। এ মালিকানা প্রদান করার ক্ষমতা সহ এর বৈধ কর্তৃপক্ষ কে হবে? তাদের বিয়ে বন্ধন পড়ানোর নিয়ম কী হবে এবং কে তাদের বিয়ে পড়াবেন!?
এবং তাদের কর্তৃপক্ষ কী কী দেখে বা যাচাই করে প্রার্থীত নারী ও মালিকদেরকে চুক্তিপত্র দলিল বা সার্টিফাই সনদ বা রেজিস্ট্রি সনদ প্রদান করবেন?
৮। এ চুক্তিপত্র দলিল, সর্বনিম্ন কত টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প এর মধ্যে হতে হবে?
এবং চুক্তিপত্র দলিলের ক্রয় মূল্য বাবদ যে খরচ, এটি কে দিবেন? এটি কি মালিক কে দিতে হবে? না লাইফ পার্টনার কে দিতে হবে? এ চুক্তিপত্র দলিলটি কার দায়িত্বে লিখতে হবে ও রেজিস্ট্রি করতে হবে? রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ কে বহন করবে?
৯। চুক্তিপত্র দলিলটি কোন্ ভাষায় লিখতে হবে?
এটি কি লাইফ পার্টনার জানেন, এরকম ভাষায় লেখা হবে? না মালিক যে ভাষা জানেন সে ভাষায় লিখতে হবে?
এ দলিলটি কার নিকট সংরক্ষিত থাকবে? অর্থাৎ এর স্বত্ত্বাধিকারী কে হবে এবং কে এটি হেফাজত করবে?
১০। বিয়ের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে, কিন্তু ডান হাতের বন্ধনে মালিকের সাথে যারা আবদ্ধ হবেন, সেখানে পার্টনারের সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে? তা কি কোরআন হাদিস অনুযায়ী নির্দিষ্ট? না এটি আনলিমিটেড?
১১। এ ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারী ও পুরুষের বন্ধন ছিন্ন হবে কিভাবে?
এ ছিন্ন করার অধিকার সংশ্লিষ্ট ঐ নারী ও পুরুষের উভয়ের থাকবে কিনা?
এবং এ ছিন্নকরণ কর্তৃপক্ষ কে হবে?
তারা কোন্ কোন্ বিষয় যাচাই-বাছাই করার পর এ ছিন্নকরণ নিশ্চিত করে ডিভোর্স লেটার প্রদান করবে?
১২। কোন পার্টনারের সাথে যদি তার মালিকের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তাহলে উক্ত পার্টনারকে যেদিন ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে সেদিন থেকে ইদ্দত পালন করতে হবে কিনা? কোন্ দিন থেকে ইদ্দতের দিন গণনা আরম্ভ হবে?
এবং ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর ইদ্দত চলাকালীন সময়ে মালিকের সাথে আর সহবাস করতে পারবেন কিনা?
ইদ্দতের মেয়াদ শেষ হওয়া ছাড়া অথবা ইদ্দত পালন অবস্থায়, বিয়ে বন্ধনে অথবা অন্য কোনো মালিকের সাথে ডানহাতের মালিকানার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন কিনা?
ইদ্দতের মেয়াদ কতদিন হবে?
১৩। ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারীর যদি তার মালিকের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তবে ওই পার্টনারের গর্ভে যদি মালিকের সন্তান থাকে, তাহলে এই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ পর্যন্ত, ওই পার্টনার পুনরায় বিয়ে বন্ধনে অথবা ডানহাতের বন্ধনে অন্য কোন পুরুষের সাথে আবদ্ধ হতে পারবেন কিনা?
১৪। ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারী ও পুরুষের যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, এবং ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর তারা পরস্পর ভুল বুঝতে পেরে যদি আবার একই বন্ধনে অথবা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হতে চান, তবে পারবেন কিনা!?পারলে কীভাবে পারবে? এর প্রক্রিয়া কী হবে?
১৫। নারী ও পুরুষ পরস্পর ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, কিছুদিন ঘর-সংসার করে, পরবর্তীতে আবার এ অবস্থায় থাকা কালীন তারা আবার সম্মানার্থে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের জন্য বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে কিনা?
১৬। ডান হাতের বন্ধনে মালিক ও তার পার্টনারের যদি সন্তান হয়, তবে তার পরিচয় কার হবে? অর্থাৎ এই সন্তান কার পরিচয়ে পরিচিত হবে!?
মালিকের, না পার্টনারের?
এবং এই সন্তানের
অভিভাবক কে হবে!? মালিক না তার পার্টনার!?মালিকের যদি স্ত্রী থাকে, তবে স্ত্রীর সন্তান ও তার পার্টনারের সন্তানের মধ্যে মূল্যায়নগত বা মিরাস প্রাপ্তির দিক থেকে বা যে কোন দিক থেকে কোন পার্থক্য থাকবে কিনা!?
১৭। ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চেয়ে, কোন চুক্তিভিত্তিক বন্ধন, মানে একটা নির্দিষ্ট প্রয়োজন পূরণের জন্য অথবা শুধু নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য বন্ধন সৃষ্টি করা জায়েজ হবে কিনা!?
১৮। জীবনের অন্যান্য সকল বিষয়ে ইসলামী শরীয়ত স্বামী-স্ত্রীর,
জীবন পরিচালনার মাঝে, যে আইন কানুন বা মাসআলা সমূহ নির্দিষ্ট করেছে; যা তাদেরকে মেনে চলতে হয়, এখানে মালিক এবং তার পার্টনারদেরও কি এ মাসআলা সমূহ অনুরূপভাবে মানতে হবে?
না মাসআলাটিতে অন্য আর কোথাও ভিন্নতা রয়েছে?
১৯। এ মাসআলাটি কি একটি ইজমা ও কিয়াস ভিত্তিক মাসআলা!? যদি এটি ইজমা ও কিয়াস ভিত্তিক হয়, তবে এ মাসআলায় পূর্বোক্ত ইসলামিক স্কলার গণ যে রায় দিয়েছিলেন; তা পরিবর্তনের সুযোগ আছে কিনা!?থাকলে কেন? এবং এ মাসআলায় পূর্বোক্ত রায়ের সাথে আরো কিছু সংযোজন বা
পরিবর্ধন করা যাবে কিনা?
২০। বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া একজন স্ত্রী এবং ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া একজন লাইফ পার্টনারের মধ্যে পার্থক্য গুলো কী কী হতে পারে!?
২১। ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাওয়া পুরুষ এবং মহিলার ক্ষেত্রে, মহিলা যদি শিশু হয়, তাহলে তার জন্যে এ মাসআলায় কোন রূপ ভিন্নতা থাকবে কিনা? থাকলে কী কী ভিন্নতা থাকবে?
২২। ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিধান বিষয়ক এ ফতোয়াটির ক্ষেত্রে জিন এবং মানুষের জন্যে ভিন্নতা রয়েছে কিনা? ভিন্নতা থাকলে মানুষের জন্যে কোথায় কোথায় ব্যতিক্রম হবে এবং জিনের জন্যে কোথায় কোথায় ভিন্নতা থাকবে?
উত্তরঃ
আসুন আমরা পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফ অনুযায়ী প্রত্যেকটা প্রশ্নের পৃথক পৃথক উত্তর প্রদান করার চেষ্টা করছি!
তবে প্রথমে এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কী বলা আছে তা তুলে ধরছি!
পবিত্র কুরআনের সূরা নিসা এর ২৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলছেন,
۞ وَٱلْمُحْصَنَـٰتُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْۖ كِتَـٰبَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَآءَ ذَٲلِكُمْ أَن تَبْتَغُواْ بِأَمْوَٲلِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَـٰفِحِينَۚ فَمَا ٱسْتَمْتَعْتُم بِهِۦ مِنْهُنَّ فَـَٔـاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةًۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَٲضَيْتُم بِهِۦ مِنۢ بَعْدِ ٱلْفَرِيضَةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (আল-কুরআন ৪ : ২৪)
উত্তর প্রদানের শুরুতে আমরা সবাইকে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, এ মহা সৃষ্টিতে মহান আল্লাহু তা'আলা প্রত্যেক প্রাণীকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন! তাই সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে হলে পুরুষের লাগবে নারী, আর নারীর লাগবে পুরুষ!
উপরোক্ত আয়াতে মহান আল্লাহু তা'আলা, পুরুষ নারীকে পাওয়ার এবং নারী পুরুষকে পাওয়ার, উপায় বা বৈধ তরিকা রেখেছেন দুটি!
এক. বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।
দুই. ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়া।
তবে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর নূরানী জিন্দেগী, এবং যুগ যুগ ধরে মানুষের পারিবারিক বন্ধন যেহেতু বিয়ে বন্ধনের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে, তাই বিয়ে বন্ধন, ডান হাতের বন্ধন থেকে অনেক অনেক উত্তম হবে!
এবং যে সকল নারী বিয়ে বন্ধনের মাধ্যমে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে পেরেছেন তারা নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যবান!
তবে যেহেতু কুরআনে উল্লেখ রয়েছে তাই ডানহাতের বন্ধনকে অস্বীকার বা অবমূল্যায়ন করা যাবে না!
সুতরাং যে কোন পুরুষের যদি নারীর প্রয়োজন পড়ে, বা যে কোন নারীর যদি পুরুষের প্রয়োজন পড়ে, তবে তার অবস্থা ও যোগ্যতা অনুযায়ী, হয় তিনি উত্তম তরিকা হিসেবে বিয়ে করবেন, না হয় পরষ্পর ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হবেন!
আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ডানহাতের মালিকানার বিষয়ে!
আসলে প্রত্যেক মানুষের মালিক বা অভিভাবক একমাত্র আল্লাহ তাআলা!
তবে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে দুনিয়াতে, আল্লাহু তা'আলার বিধান অনুযায়ী কাউকে যদি দায়িত্ব পালন করতে মনোনীত করা হয়, তবে অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে এ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়!
এটি হচ্ছে মূল মালিকানা বা অভিভাবকত্ব নয়, এটি শুধুমাত্র দায়িত্ব পরিচালনার জন্য আল্লাহু তাআলার প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বিধান অনুযায়ী মনোনীত নির্দিষ্ট ব্যক্তি!
এখানে ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে পবিত্র কুরআন খুব বেশি শর্তারোপ করেনি!
এমনকি বিয়ের মতো মোহরানা, কিংবা টাকা ব্যয়ের আবশ্যকতা বা বাধ্যবাধকতা এখানে নেই!
তবে উপরোক্ত আয়াতে শুধু একটি শর্ত দেয়া হয়েছে, যেখানে লিখা রয়েছে, 'আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই'!
এখানে এমন কোন শর্ত নাই যে, সবল মহিলাগণ কিংবা স্বাধীন মহিলাগণ, ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে পারবে না! শুধু অসহায়েরাই ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে পারবে!
এমন কোন শর্তারোপ উপরোক্ত আয়াতে করা হয় নাই!
মানে ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে হলে, উভয় পক্ষকে নিজেদের মতো করে, নিজেদের চাওয়া পাওয়া নিয়ে, পরস্পর চুক্তি করে সে চুক্তির আলোকে উভয়ে সম্মত হতে হবে ও এতে রাজি খুশি থাকতে হবে!
এক্ষেত্রে চুক্তিপত্র দলিলই হল, ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়া পুরুষ ও নারীর কাবিননামা!
এ চুক্তির বিষয়ে উপরোক্ত আয়াতে বা পবিত্র কোরানের কোথাও নির্ধারিত করা হয় নাই যে, অমুক অমুক ধরনের নারীকে, ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ করতে পারবে না, বা অমুক অমুক ক্যাটাগরির পুরুষ ডান হাতের মালিকানায় কাউকে আবদ্ধ করতে পারবে না!
শুধু ধনী বা বাদশা টাইপের পুরুষেরা পারবে, অথবা শুধু অসহায় মিসকিন টাইপের মহিলারা পারবে!
এ রকম কোন বিধি-নিষেধ পবিত্র কোরআন কিংবা হাদীস শরীফের কোথাও নেই।
এরপরও কিছু মানুষ যদি নিজেদেরকে ইবলিশের মতো অতি বিজ্ঞ মনে করে নিজেদের মস্তিষ্ক অনুযায়ী কোনো বিধিনিষেধ আরোপিত করে, তবে তা হবে সরাসরি কোরআন অবমাননার শামিল!
তবে পুরুষের যদি ডান হাতের মালিকানায় কোন নারীকে আবদ্ধ করতে হয়, তবে ঐ পুরুষকে সামর্থ্যবান হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওই নারী পিতৃমাতৃহীন বা বৈধ অভিভাবকহীন বা মালিকবিহীন হতে হবে! আর নিজেদের যোগ্যতা, চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে উভয়ে সম্মত হতে হবে!
এখানে ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারী-পুরুষের যদি সন্তান হয় তবে এ সন্তান ওই নারী পুরুষের বৈধ সন্তান হিসেবে তারা হবেন এর মা- বাবা!
স্ত্রীর সন্তান হলে যেমন পিতার ওয়ারিশ হিসেবে পিতার সম্পত্তির মিরাস পাবে, ঠিক তেমনি স্ত্রীর সন্তানের সমান হারে এ সন্তানেরাও পিতার মিরাস পাবে! পিতা সহ যে কারো কাছে-
স্ত্রীর-সন্তানের যে মূল্যায়ন হবে, ডান হাতে আবদ্ধ নারীর এ সন্তানেরও ঠিক একই মূল্যায়ন হবে!
এবং স্ত্রীর সন্তান কর্তৃক বাবা যেরূপ লাভবান বা সম্মানিত হবে, ডান হাতে আবদ্ধ নারীর সন্তান থেকেও বাবা ঐ একই রকম লাভবান বা সম্মানিত হবে!
অর্থাৎ এ সন্তানদের দ্বারা মা-বাবা পরিপূর্ণ ভাবে উপকৃত হবেন, যেমনটি স্ত্রীর গর্ভে বা স্বামীর ঔরশের সন্তান থেকে পাওয়া যেত!
এখানে সমাজের মানুষদের ডানহাতে আবদ্ধ নারীর সন্তান বলে তাকে বা তাদেরকে ছোট করে দেখা, অপমানিত ভাবে মূল্যায়ন করা, বা যে কোন কাজে- কারবারে তাদেরকে সুযোগ না দেয়া বা অযোগ্য মনে করা, অবশ্যই একটি কবীরা গুনাহ হবে!
পবিত্র কুরআন অনুযায়ী-
উপরোক্ত আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর সময়ে চার ধরনের দাসীদেরকে গ্রহণের অনুমতি দিয়েছিলেন; যাদের সাথে তাদের মালিকগণ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন!! যেমন-
১। যুদ্ধ লব্ধ দাসী ২। ক্রয়কৃত দাসী ৩। দানকৃত বা উপহার প্রাপ্ত দাসী ৪। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দাসী।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এ চার ক্যাটাগরির বাইরে অন্য কোন ক্যাটাগরির অসহায় নারীকে ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করা যাবে না, এ রকম নিষেধাজ্ঞা তিনি হাদীস শরীফের কোথাও দেন নাই এবং পবিত্র কুরআন শরীফেও এ ধরনের কোনো সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা মূলক কিছুই নাই!
তাই আমরা যদি উপরের চার ক্যাটাগরিকেই শুধু ডান হাতের মালিকানায় বিবেচনা করি, তাহলে পবিত্র কোরআনের নির্দেশনাকে, ভুল বুঝা হয় অথবা অমান্য করা হয়!
যা আসলে কোরআনের বিপরীত!
মানে কোরআনে নেই, তবুও আমরা নির্দিষ্ট করে ফেললাম!
কুরআনে যা নাই, হাদিসে যা নাই, এ জাতীয় কাজ করার এখতিয়ার মানুষের নাই!
আমি মনে করি এটি শুধু কবীরা গুনাহ'ই নয়, এটি কুরআন অবমাননারও শামিল!
তবে কথা হচ্ছে, আরো কাউকে যদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে নবীজি (সাঃ) যে বৈশিষ্ট্যের আলোকে, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শিশু ও নারীদের নির্ণীত করে গিয়েছেন, ঠিক একই বৈশিষ্ট্যের আলোকে নির্বাচিত বা মনোনীত করতে হবে!
তাহলে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর দেখানো বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীই যদি ডানহাতে আবদ্ধ হওয়া শিশু ও নারীদেরকে শ্রেণীভূক্ত করা হয়, তবে উপরের চার ক্যাটাগরির'ই বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা সবাই অসহায় ও দুর্বল প্রকৃতির! তাদের কোনো অভিঅভিভাবক নেই!
উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যের আলোকে ডান হাতে আবদ্ধ হওয়ার একই যোগ্যতা রয়েছে এ রকম শিশু ও নারীদেরকে নিয়ে গবেষণা করলে, উপরোক্ত চার ক্যাটাগরির সাথে আরো কয়েকটি ক্যাটাগরি সংযুক্ত করার যথেষ্ট যুক্তি ও উপযুক্ততা পাওয়া যায়!
সুতরাং ইহা স্পষ্টই প্রমাণিত যে, আলেমগণ ইজমায়ে উম্মত এবং কেয়াসের মাধ্যমে উপরোক্ত ডান হাতের মালিকানায়, অন্যান্য শিশু ও নারীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন! এতে কুরআন ও হাদিস থেকে কোন বাধা নাই!
এবার আমরা উপরোক্ত প্রথম প্রশ্নের দিকে আলোকপাত করছি!
এখানে যে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে তা হচ্ছে, বিয়ের বন্ধনের পর পুরুষের বৈশিষ্ট্যগত নাম যেমন স্বামী এবং মহিলার নাম স্ত্রী হয়, তেমনি ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারীর বৈশিষ্ট্যগত নাম কী হবে এবং পুরুষের বৈশিষ্ট্যগত নাম কী হতে পারে, সে সাথে এ সম্পর্কের বা এ আকদ অনুষ্ঠানের বা এ বন্ধনের নাম কী হবে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে !
এক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত কোন বৈশিষ্ট্যগত নাম নির্দিষ্ট করে নাই।
তবে আমাদের ব্যক্তিগত অভিমত অনুযায়ী, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারীর বৈশিষ্ট্যগত নাম 'লাইফ পার্টনার', এবং পুরুষের নাম 'মালিক' রাখা যেতে পারে!
যেহেতু 'মালিক' নামটি কোরআন শরীফেরই এ বিষয়ক পরিভাষা; তাই 'মালিক' নাম রাখা উপযুক্ত মনে করছি!
আবার সকলকে মনে রাখতে হবে, আল্লাহু তা'য়ালার এক নাম মালিক, এটা সেই হিসেবে নয়! এটি শুধু পারিভাষিক ভাবে প্রচলিত আল্লাহু তা'আলার প্রতিনিধিত্বমূলক নাম!
তাই এ নাম রাখা আল্লাহু তা'আলার প্রতি অসম্মান বা অনুপযুক্ত মনে করছি না!
আবার এ সম্পর্কের বা এ বন্ধনের বা এ আকদ অনুষ্ঠানের নাম একই, মানে বিয়েই হবে!
অর্থাৎ, সম্পর্কের নাম একই হবে! শুধু মেথড ভিন্ন হবে!
একটি হচ্ছে বিয়েবন্ধনে বিয়ে, আর অন্যটি হচ্ছে ডানহাতের বন্ধনে বিয়ে!
মাসআলায় আমরা ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে এ দু'টি বৈশিষ্ট্যগত নাম এবং এ সম্পর্কের নাম আমরা ডানহাতের বন্ধনে 'বিয়ে' বা সংক্ষেপে 'বিয়ে'ই উল্লেখ করবো!
এবার আমরা উপরোক্ত ২য় প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি যে, ডান হাতের মালিকানা বলতে কী বুঝায় !
উপরোক্ত প্রশ্নে দুটি শব্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ! একটি ডানহাতের, এবং অপরটি মালিকানা!
ডান হাতের মানে হল উত্তম এবং ত্রুটি মুক্ত এক জন যোগ্য ও ভালো মানুষ।আর মালিকানার মানে হল যিনি এরূপ পূর্ণ মালিক হবেন, যিনি জালেম হবেন না। তাহলে ডান হাতের মালিকানা বলতে বুঝায় সৎ চরিত্রবান মানুষ এর পরিপূর্ণ মালিকানা!
বিষয়টি আরো ক্লিয়ার করার উদ্দেশ্যে আমি এটি আরও ব্যাখ্যা করে বলছি-
দুনিয়ার জমিনে মেয়েদের একজন না একজন পূরুষ মালিক বা অভিভাবক থাকতে হবে এটা ইসলামের বিধান!
তাই বাবার ঔরশে যখন একজন মেয়ের জন্ম হয় তখন তার দুনিয়াবী মালিক থাকেন বাবা! কিন্তু এই মেয়ে যখন উপযুক্ত হন, তখন তার কর্মজীবন পরিচালনায়, তাকে স্বামীর ঘরে যেতে হয়, অথবা দুর্ভাগ্যক্রমে মালিকের ঘরে যেতে হয়!
একটা মেয়েকে তার বাবা, বিয়ে বন্ধনের বিধান মোতাবেক, বিয়ে দেয়ার মানে তাকে সত্ত্ব ত্যাগ করে, প্রদান করা নয়, তাকে তার কর্মজীবনের অভিভাবক হিসেবে স্বামীর নিকট প্রদান করা; এটিই বুঝায়!
অর্থাৎ ঐ মেয়ের, বর্তমান ঠিকানা যদিও ওর স্বামীর বাড়ি হবে, কিন্তু তার স্থায়ী ঠিকানা বাবার বাড়িই হবে!
তার মানে এই মেয়ের সত্ত্ব বা দুনিয়াবী মালিকানা তার বাবাই থাকবে!
কিন্তু একজন অসহায় নারী, যখন ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হন, তখন তার পূর্ণ মালিকানা শুধু মালিকেরই থাকে; এখানে তার স্থায়ী ঠিকানা, মালিকের ঠিকানাই হবে! এবং বর্তমান ঠিকানাও মালিকের ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিকট থাকলে, মালিকেরই ঠিকানা হবে!
অর্থাৎ এই ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ নারীর, অন্য কোন মালিক দুনিয়াতে থাকবে না!
যেমন তার মা-বাবা বা অন্য কোনো অভিভাবক, কেউই থাকবেনা!
তার দুনিয়াবী মালিকানা শুধুমাত্র যার সাথে তিনি ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, সেই পুরুষই হবে তার সম্পূর্ণ মালিকানার অধিকারী!
সুতরাং, ডানহাতের মালিকানা বলতে বুঝাচ্ছে, ওই সকল অসহায় শিশু ও নারীর বা নারীদের একজন যোগ্য, ধনাঢ্য, চরিত্রবান ও সক্ষম মানুষের পরিপূর্ণ মালিকানা, যার বা যাদের দ্বিতীয় কোনো মালিক বা অভিভাবক দুনিয়াতে নেই!
তাহলে ডান হাতের মালিকানায় নেয়া যাবে, শুধুমাত্র ঐ সকল নারী ও শিশুদেরকে, যাদের দুনিয়াতে, সে বা তারা ব্যতীত, তাদের আর কোন অভিভাবক নাই!
এবার ৩য় প্রশ্নে আমরা বলছি যে, কোন্ কোন্ শ্রেণীর নারীকে, ডান হাতের মালিকানায় প্রদান করা যাবে! যেখানে সে বৈধভাবে যৌন ক্ষুধা ও মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে!
যে সকল নারীকে ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করা যাবে, তাদের বৈশিষ্ট্য বা উপযুক্ততা সমূহ বা তারা কোন্ কোন্ শ্রেণীর হবে তা নিম্নে ক্রমান্বয়ে তুলে ধরলাম-
১। বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর যেমন বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা শরীয়তে নেই, ঠিক তেমনি, ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে চাওয়া নারী ও পুরুষেরও বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না!
তবে যেহেতু এখানে নারী-পুরুষের মধ্যে চুক্তির একটি বিষয় রয়েছে এবং বয়স কম হলে সাধারণত মানুষের স্টেটমেন্ট গ্রহণযোগ্য হয় না, বা সে নিজেও সঠিক কোনটি বা বেঠিক কোনটি তা বুঝতে পারে না; তাই যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়া নারী-পুরুষের, চুক্তিপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করা হবে, সেই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যিনি ১৮ বছরের কম বয়সের শিশু অথবা নারী যে কারো, তার পক্ষে অভিভাবক হিসেবে যাচাই-বাছাই করে এর পরই কেবল চুক্তিপত্র দলিলটি রেজিস্ট্রি করবেন!
২। শুধু তারাই ডানহাতের কোন ভালো মালিককে পেতে তার নিকট আবেদন করতে পারবে, বা কোন মালিক নিজ থেকে এরূপ কোন অসহায় নারীর প্রতি আবেদন জানাতে পারবে, যাদের পিতা-মাতা বা কোন ধরনের অভিভাবক দুনিয়াতে নেই!
তারমানে দুনিয়াতে যে বা যারা অভিভাবক বা মালিকহারা, যাদেরকে দেখার মত কেহই নাই, মানে কোন মালিক বা কোন অভিভাবকই নাই, শুধুমাত্র এ ধরনের নিরীহ শিশু ও নারীরাই ডান হাতের কোন মালিককে পেতে উপযুক্ত হবে!
৩। যিনি ডানহাতের কোন ভাল মালিককে পেতে আবেদন করবেন, তাকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে, কারণ অধীন নারীর তো এমনিতেই একজন না একজন অভিভাবক বা মালিক রয়েছেন, না হয় তিনি অধীন কিভাবে হলেন? কার অধীন হলেন!?
যেহেতু আল্লাহু তা'আলা নারীদেরকে পুরুষের অধীন করেছেন; তাই একজন নারীর অবশ্যই একজন দুনিয়াবী অভিভাবক বা মালিক থাকতে হবে!
সে হিসেবে যোগ্যতা, অভিভাবকত্ব ও সক্ষমতা থাকা সাপেক্ষে, যে নারীর স্বামী প্রয়োজন, তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন এবং যে নারীর মালিক প্রয়োজন, তিনি ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন!
বিয়ে করা আল্লাহু তা'আলার রাসূল (সাঃ) সুন্নত ঘোষণা করেছেন!
একজন পিতা তিনি তার মেয়েকে অবশ্যই বিয়ে দিবেন!
তিনি ডানহাতের মালিকানায় কোন পুরুষের সাথে তার মেয়েকে আবদ্ধ করতে পারবেন না!
কারণ, তিনি তার পিতৃত্ব, বা মেয়ের মালিকানা স্বত্ব অস্বীকার করতে বা মেয়েকে নাদাবী দিতে; বৈধ কারণ ব্যতীত এগুলো আইনগতভাবে তিনি করতে পারবেন না!
সাধারণভাবে এগুলো করার কোন অধিকার তার থাকবে না!
তাই যে কোন নারীর জন্য নেতা বা অভিভাবক হিসেবে যেহেতু স্বামী বা মালিক একজন না একজন থাকতেই হবে, এবং যেহেতু অভিভাবকহীন বা মালিকহীন কোন নারীর সমাজে বসবাস করার অধিকার ইসলামী শরীয়তে নেই; তাই অভিভাবকহীন, মালিকহীন যে কোন নারীই নিয়মানুযায়ী ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে পারবে!
পবিত্র কোরআন এবং হাদীস শরীফ থেকে কোন্ কোন্ শ্রেণীর মহিলা ও পুরুষ গণ, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন এবং কোন্ কোন্ শ্রেণীর নারী ও পুরুষগণ ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না, এ বিষয়ে কিছুই বলা না থাকায়; ডান হাতের বন্ধন বিষয়ক উক্ত মাসআলাটি এ প্রবন্ধে লিখিত নিয়ম অনুযায়ী এভাবে প্রদান করা যায়!!
এর বাইরে এ আইন নিয়ে জটিলতা করার, কুরআন বা হাদীসে উল্লেখ নাই বা কোনো বাধা-নিষেধ নাই, তবুও প্যাঁচ সৃষ্টি করার, এবং ইসলাম সহজ ধর্মকে জটিল করে ফেলার, কোন আইনি সুযোগ কারো নাই!
অতএব অভিভাবক বা মালিকহীন কোন অসহায় নারী ইচ্ছে করলে সে স্বামী চাইবে, অথবা সম্ভব না হলে বা ইচ্ছে করলে সে মালিক চাইবে, এ বিষয়ে তাকে বাধা দেওয়ার কোন এখতিয়ার বা অধিকার কোরআন হাদিস থেকে কারো নাই!!
অবশ্য যে অসহায় নারী ডান হাতের মালিকানায় তার পছন্দমতো কোন উপযুক্ত পূরুষের সাথে আবদ্ধ হতে চান, তাকে অবশ্যই নিরীহ, মালিকহীন, বা অভিভাবকহীন হতে হবে! এটা আমি আগেও বলেছি !
কারণ যার মালিক বা অভিভাবক রয়েছে, তিনি আবার মালিকের জন্য, অভিভাবকের জন্য আবেদন করবেন কেন?
তাই যেসব নারীর কোন মালিক বা অভিভাবক নেই, শুধু তারাই ডান হাতের মালিকানার জন্য কোন ভালো মানুষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন!
তবে কোন লাইফ ফার্মাটনারের মালিক বা অভিভাবক যদি, সীমাহীন অত্যাচারী বা জালেম হয় এবং তিনি যদি কোন জালিমের নিকট বর্বর অত্যাচারের মধ্যে জর্জরিত অবস্থায় অধীন বা বন্ধী থাকেন, তাহলে তিনি আবেদনের উপযুক্ত হবেন!
অন্যদিকে কোন মালিক বা অভিভাবক, যদি সীমাহীন অত্যাচার না করেন, তাহলে এই ধরনের নারী কোন ডানহাতের মালিকের প্রতি, আবেদনের উপযুক্ত হবেন না!
আবার চরম অত্যাচার বা জুলুম যদি নিজ মা-বাবাও করেন, যেমন কোন বাবা নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করল বা দিনকে দিন করতে থাকলো, অথবা মেয়ের মনের বিরুদ্ধে বা বাধ্য করে তাকেই, বিয়ে করে সংসার করতে থাকলো অথবা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করলো অথবা হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করলো, অথবা আরেক বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেলো, এদিকে মেয়েদের কোন খোঁজ খবরই রাখে না, ভরণপোষণ দেয় না এবং বাবার কাছে গিয়ে থাকতে চাইলে থাকতেও দেয়না, বরং সীমাহীন অত্যাচার করে, এভাবে জুলুমের সীমা যদি ছাড়িয়ে যায়, এ রকম জঘন্য কাজগুলো যখন বাবা কর্তৃক করা হয়, আর তখন মা কিংবা অন্য কেউ বাবাকে এই কাজগুলোতে থামিয়ে রাখতে পারেনা, তখন ঐ মেয়ে সন্তান বাবাকে অস্বীকার করে, কারো ডান হাতের মালিকানায় চলে যাওয়ার বা আবেদন করার যোগ্য হবে!
তেমনি ভাবে মাও যদি, পরকীয়া করে, বা বাবার ইন্তেকালের পর আরেক বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়, আর মেয়েদের কোন খোঁজ খবরই রাখে না, বা খোঁজ খবর রাখার কোন সুযোগও থাকে না বা মেয়েরা মায়ের নতুন বাড়িতে যেতেও পারে না; এমতাবস্থায় কার্যত তাদের কোনো অভিভাবক বা মালিক না থাকায়, এ ধরনের মেয়েরাও আবেদনের যোগ্য হবে!
৪। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবদ্দশায় চার ক্যাটাগরির নারী; যুদ্ধ লব্ধ নারী, ক্রয় কৃত নারী, দানকৃত বা উপহারকৃত নারী এবং ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত নারী; এই চার ক্যাটাগরির নারী; ডান হাতের মালিকানায় উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছিল!
কিন্তু পৃথিবী থেকে দাস-দাসী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে ক্রয় ক্রীতদাসী এবং এ সিলসিলায় এ ধরনের দাসীদেরকে দান বা উপহার দেয়ার নিয়ম, বা এ ধরনের দাসীদেরকে বংশানুক্রমিকভাবেপ্রাপ্তির সুযোগ বর্তমানে আর নেই!
বর্তমানে শুধু যুদ্ধলব্ধ দাসীগণ ব্যতীত অন্য কোন ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারীর ক্ষেত্রে দানকৃত দাসী বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দাসীর নিয়ম প্রযোজ্য হবে না!
৫। ডান হাতের মালিকানা বলতে, শুধু দাস-দাসীকেই বুঝায় না বিধায়, অন্যান্য আরো অনেকগুলো ক্যাটাগরির শিশু ও নারী, এই ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে! যেমন-
ক.
ক. কারো দ্বারা চরম নির্যাতনের শিকার অভিভাবকহীন, মালিকবিহীন মজলুম নারী!
খ. ভবঘুরে ঠিকানাহীন পরিচয়হীন মানসিক রোগী বা পাগলী নারী!
উপরোক্ত ক ও খ ক্রমিকে উল্লেখিত নারীগণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আমি একটি পোস্ট পাবলিস্ট করেছি! নিম্নে ক্লিক করে ঐ পোস্টটি পড়তে পারেন!
https://fatwaarif1.blogspot.com/2026/09/blog-post_13.html?m=1
গ. কোন শিশু বা নারী যদি অমুসলিম থেকে মুসলিম হন, এবং মুসলিম হওয়ার পর তাদের আর কোন অভিভাবক বা কেহই না থাকায়, তবে এ ধরনের শিশু বা নারীগণ, কারো ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য হবেন!
ঘ. সড়ক দুর্ঘটনায় বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে বা এ ধরনের কোন মানবসৃষ্ট বা কোন প্রাকৃতিক কারণে, যেমন ভূমিকম্প, বন্যা, মহামারী ইত্যাদি; এগুলোর ফলে, যদি কোন পরিবার বা বংশের সকলেই নিহত হয়ে যায়; শুধু দু' চারজন নারী ও শিশু বেঁচে থাকে, তবে এই ধরনের শিশু বা নারীকে দেখাশোনার যদি এখন আর কেউ'ই না থাকে, মানে কোন অভিভাবক বা মালিক না থাকে, অর্থাৎ তারা এখন এমন যে, দুনিয়াতে এখন আর তাদের কেহই নাই!
তবে এ ধরনের শিশু ও নারীগণ, ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন!
ঙ. যাদের বাবা মারা গিয়েছে, এরকম শিশু ও নারীদের, অভিভাবক বা মালিক হিসেবে, এখন আর কেহ নাই, অর্থাৎ তাদেরকে দেখাশোনার জন্য দুনিয়াতে এখন আর কেহ'ই নাই এরকম অভিভাবক বা মালিকহীন যদি কোন নারী ও শিশু থেকে থাকে তবে তারাও ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য হবেন!
চ. স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে অভিভাবকহীন হয়ে গেছেন এবং বাবাও আর তাকে গ্রহণ করছেন না, তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা তার মেয়ের মালিকানা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবেন না; তারা তাকে নাদাবী দিয়েছেন!
আদালত থেকে এ রকম না দাবির সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত হলে বা বাবার অপরাধ প্রমাণিত হলে, তবে এ ধরনের নারীগণ, ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য হবেন!
ছ. ডানহাতের মালিকানা বলতে, শুধু যে দাস-দাসীর মালিকানাকে বোঝাবে, এমন কোন কথা নেই!
আবার স্বাধীন ব্যক্তি যে ডান হাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে পারবে না এমনও কোন কথা নেই!
যেমন একজন অমুসলিম যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং গ্রহণ করার পর তার কোনো অভিভাবক বা দুনিয়াবী মালিক না থাকে, এমতাবস্থায় সে যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছলও হয়, তখন মেয়ে শিশু বা মহিলা হওয়ার কারণে, যেহেতু তার একজন নেতা বা অভিভাবক থাকতে হবে, তাই সে দাসদাসী না হওয়া সত্ত্বেও, এবং স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও, বা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও, যেহেতু সবল বলতে শুধু আর্থিক সচ্ছলতা কে বুঝায় না, তাই, অর্থ থাকলেও মানুষ সবসময় সবল হতে পারে না বিধায়, তখন তিনি ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে !
অতএব যার বা যাদের অভিভাবক বা মালিক নেই, সে বা তারাই, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য শ্রেণীভূক্ত হবে!
এখন ৪ নং প্রশ্নের উত্তরে, আমরা লিখব যে, যে সকল শিশু ও নারী ডানহাতের বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে তাদের কী যোগ্যতা থাকতে হবে!? এবং কোন্ কোন্ শ্রেণীর এবং কোন্ কোন্ যোগ্যতার পূরুষদের তাদের এ মালিকানা পাওয়ার অধিকার থাকবে, তা বলার চেষ্টা করছি?
উপরে উল্লেখিত সূরা নিসা এর ২৪ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাওয়া নারীকে পাওয়ার জন্য, পুরুষদের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন শ্রেণী বা নির্দিষ্ট কোন শ্রেণীর কথা উল্লেখ করা হয় নাই!
পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এটি নির্দিষ্ট করা হয় নাই যে, শুধুমাত্র আমির শ্রেণীর বা রাজা-বাদশাগণ, ডান হাতের মালিকানায় শিশু ও নারীদেরকে আবদ্ধ করতে পারবেন; সাধারণ মুসলিমগণ এটি পারবেন না!
তাহলে এতে এই'ই বুঝা যাচ্ছে যে, সাধারণ মুসলমান এবং আমির বা ধনী শ্রেণী বা রাজা-বাদশা, যেই হোক তাদের যদি প্রয়োজন পড়ে তবে যোগ্যতা ও সক্ষমতা থাকা সাপেক্ষে তারা যেকোনো দাস দাসী, বা ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মতো উপযুক্ত যেকোনো শিশু ও নারীকে সংযুক্ত বা আবদ্ধ করতে পারবে! কোন শ্রেণীভেদ এখানে থাকবে না!
এখন আসা যাক যোগ্যতার বিষয়ে!
অর্থাৎ শিশু ও নারীদের কী যোগ্যতা থাকলে তারা ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য কোন পুরুষের নিকট আবেদন করতে পারবে!
এবং একইভাবে কী যোগ্যতা থাকলে একজন পুরুষ, শিশু ও নারীকে তার ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য আবেদন জানাতে পারবে, সে বিষয়ে!
যদিও এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদীস, নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেনাই, তবু সাধারণ বিবেচনায়, প্রার্থিত ব্যক্তির, নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকতে হবে-
প্রথমে শিশু ও নারীদের বা লাইফ পার্টনারদের কী যোগ্যতা থাকতে হবে তা লিখছিঃ-
১। প্রথমত শিশু এবং নারীদেরকে বা লাইফ পার্টনারকে মুসলিম হতে হবে! এবং ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তাকে বা তাদেরকে মেনে চলতে হবে! (শুধুমাত্র যুদ্ধলব্ধ দাসি ব্যতীত)
২। যেহেতু এখানে যৌনমিলনকে বৈধ করা হয়েছে, তাই বিয়ের ক্ষেত্রে যেমন কনেকে যেসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে, এখানেও লাইফ পার্টনারকে ঠিক সে রকম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে!
অর্থাৎ কার সাথে বিয়ে জায়েজ এবং কার সাথে বিয়ে জায়েজ নাই এই বিষয়টি লাইফ পার্টনার এর ক্ষেত্রেও একই হবে! এছাড়া লাইফ পার্টনার সহবাসে উপযুক্ত কিনা বা সন্তান ধারণে সক্ষম কিনা এগুলোও বিবেচ্য হবে! এবং বিয়ে-পরবর্তী স্ত্রীকে তার পর্দা ও ব্যবহার নিয়ে যা মানতে হয় লাইফ পার্টনারকেও একই ভাবে তা মানতে হবে!
৩। যে প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মালিক তার লাইফ পার্টনারকে পেতে চেয়েছে, সে প্রয়োজনীয়তা ওই শিশু বা নারীর মধ্যে থাকতে হবে!
মালিকগণ সাধারণত তার কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য, অথবা তার জীবন সঙ্গী হয়ে তার সন্তানের মা হওয়ার জন্য, বা মালিকের মনোরঞ্জনের জন্য
লাইফ পার্টনার চাইতে পারে,
এবং তখন লাইফ পার্টনারদের মধ্যে এই গুণাবলী সমূহ থাকতে হবে!
৪। এছাড়া ধার্মিক হওয়া, শিক্ষিত হওয়া, রূপবতী হওয়া, মিষ্টি ও কোমল ব্যবহার থাকা, পর্যাপ্ত সেক্সুয়াল এবিলিটি থাকা, বেশি বেশি সন্তান জন্মদানে সক্ষম হওয়া, এতিম হওয়া, মজলুম হওয়া, অসহায় হওয়া, ইত্যাদি মালিকগণ যেরূপ চান; সে রূপ গুণাবলী, লাইফ পার্টনারদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা!
এবার লিখছি পুরুষদের বা মালিকদের কী যোগ্যতা থাকতে হবে তাঃ-
১। মালিকদের জন্যে লাইফ পার্টনারদের অভিভাবক হিসেবে জীবনের নিরাপত্তা প্রদান ও জীবন পরিচালনা, উপযুক্ত মোতাবেক ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে পারা, প্রেম প্রীতি ও ভালবাসা প্রদানের মানসিকতা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে জীবন মরণের উপযুক্ত সাথী হওয়া, শিক্ষা চিকিৎসা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারা, হাট-বাজার ও দৈনন্দিন কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করা, লাইফ পার্টনারদের পূর্বোক্ত ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা, লাইফ পার্টনারদের চাহিদা মোতাবেক মালিকদের নিকট এ ধরনের যোগ্যতা থাকা!
২। উপরে উল্লেখিত লাইফ পার্টনারদের যোগ্যতার মধ্যে যে চারটি বৈশিষ্ট্যের কথা লিখা আছে মালিক হিসেবে উপরোক্ত সে চারটি বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী মালিকের নিকট বিদ্যমান থাকা!
এক কথায় যে প্রয়োজনে একজন শিশু ও নারী একজন মালিকের নিকট ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাচ্ছে সে বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী বা প্রয়োজনীয়তা বা চাহিদা, উক্ত মালিকের নিকট বিদ্যমান থাকা!
এখন আমরা ৫ নং প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই, মালিকগণ তাদের ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ করা লাইফ পার্টনারদের কী কী কাজ বা কী কী দায়িত্ব দিতে পারবেন আর কী কী কাজ বা কী কী দায়িত্ব দিতে পারবেন না সে সম্পর্কে-
মালিকগণ তাদের লাইফ পার্টনারদেরকে দিয়ে কী কাজ করাতে পারবেন, বা কী কাজ করাতে পারবেন না, এর কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফে নেই!
তবে এতটুকু আছে যে, মালিকের সাথে তাদের লাইফ পার্টনারদের যৌন সম্পর্ক বৈধ, এবং এর মাধ্যমে সন্তানের মা হওয়া বা বাবা হওয়া উভয়টি'ই বৈধ ও সম্মানের!
তাছাড়া আরও একটি বিষয় রয়েছে যে, লাইফ পার্টনার গণ তাদের মালিকের অধীনস্থ হবেন!
অবশ্য অধীনস্থদের বিষয়ে কেমন ব্যবহার করতে হবে বা কী রূপ কাজ দিতে হবে, আর কী রূপ কাজ দেয়া যাবেনা, এ বিষয়ে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কিছু দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন! এবং
আল্লাহু তা'আলার রাসূল (সা.) সবসময় শ্রমিক বা অধীনদের অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছেন। যারা শ্রমিকের অধিকার আদায়ে অবহেলা করে তাদের সতর্ক করে বিভিন্ন শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তবে এখানে লাইফ পার্টনার গন সবসময় যে তার দাসী বা নিম্ন শ্রেণীর হবে তা কিন্তু না!
কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, একজন অমুসলিম থেকে যখন কোন একজন নারী শিশু বা মহিলা মুসলিম হয়, তখন সে মহিলার কোন অভিভাবক না থাকায়, সে তখন ডানহাতের মালিকানায়, কোন মালিকের সাথে জীবন সঙ্গী হিসেবে আবদ্ধ হন, কিন্তু আদতে তিনি অর্থনৈতিকভাবে হয়তো গরিব নয়!
এভাবে আরো ক্যাটাগরি থাকতে পারে যারা আসলে লাইফ পার্টনার হওয়া সত্ত্বেও একেবারে অসহায় নয়!
হয়তো তাদের পুরুষ নেতা বা পুরুষ অভিভাবক কেউ না থাকায় বা আপনজন বলতে কেউ না থাকায় তাকে বা এ ধরনের মহিলাদেরকে একজন মালিকের অধীনস্ত হতে হয়েছে!
একজন মালিক তার লাইফ পার্টনারকে কিরূপ কাজ করাবেন বা করাতে পারবেন, এ বিষয়ে নিম্নোক্ত হাদীসসমূহ তার মেনে চলা উচিত!
এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যারা তোমাদের কাজ করছে, তারা তোমাদেরই ভাই।
আল্লাহু তা'য়ালা তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তোমরা যা খাবে, তা তাদের খাওয়াবে এবং যা পরিধান করবে, তা তাকে পরিধান করতে দেবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
অপর এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘তোমরা অধীনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে এবং তাদের কোনো রকমের কষ্ট দেবে না। তোমরা কি জানো না, তাদেরও তোমাদের মতো একটি হৃদয় আছে। ব্যথাদানে তারা দুঃখিত হয় এবং কষ্টবোধ করে। আরাম ও শান্তি প্রদান করলে সন্তুষ্ট হয়। তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন করো না।’ (বুখারি)
মহানবী সা. আরও বলেন, ‘মজুরদের সাধ্যের অতীত কোনো কাজ করতে তাদের বাধ্য করবে না। অগত্যা যদি তা করাতে হয়, তবে নিজে সাহায্য করো।’ (বুখারি)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী সা. বলেন, ‘শ্রমিককে এমন কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না, যা তাকে সেটির দুঃসাধ্যের কারণে অক্ষম ও অকর্মণ্য বানিয়ে দেবে।’ (বুখারি)
শ্রমিকের ওপর নির্যাতন করার পরিণাম সম্পর্কে মহানবী সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে স্বীয় দাস-দাসীকে (শ্রমিককে) প্রহার করবে, কিয়ামতের দিন তাকে তার পরিণাম দেওয়া হবে।’ (বায়হাকি)
শ্রমিকের মজুরি যথাসময়ে পরিশোধ করার প্রতি মহানবী (সা.) গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মজুরকে তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি পরিশোধ করে দাও।’ (ইবনে মাজাহ)
এখানে একমাত্র, যুদ্ধলব্ধ দাসি ব্যতীত বাকি সকল লাইফ পার্টনারের সাথে, তাদের মালিকের মধ্যে যে চুক্তিপত্র দলিল হয়েছে, সে অনুযায়ী লাইফ পার্টনারদেরকে যে কোন কাজ বা দায়িত্ব দিতে পারবেন!
চুক্তিপত্রের বাহিরে তাদেরকে কোন কাজ বা কোন দায়িত্বের বোঝা দেয়া জায়েজ হবে না!
আর চুক্তিপত্রের মধ্যে, তারা যে সব কাজকর্ম করবে, বা দায়িত্ব পালন করবে, এগুলোর মধ্যে উপরে বর্ণিত হাদিস সমূহ অবশ্যই মালিকগণকে মেনে চলতে হবে!
সুতরাং, হাদিসে উল্লেখিত নির্দেশনা মেনে, তাদেরকে তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, যে কোনো কাজ বা দায়িত্ব দিতে পারবেন! তবে তাদের দ্বারা ধর্মীয়ভাবে অবৈধ এবং দেশীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ এমন কোন কাজ মালিকগণ করাতে পারবেন না!!
অপরদিকে মালিকগণ, তাদের লাইফ পার্টনারের অধীনস্থ নয় বিধায়, লাইফ পার্টনার, তার মালিককে কোন প্রকার কাজে বা কোন প্রকার দায়িত্বে নিয়োজিত করতে বাধ্য করতে পারবেন না!
তবে মালিকগণকে যদিও বাধ্য করা যাবে না, তবুও মালিকদের কিছু সাধারণ দায়-দায়িত্ব থাকবে! তা নিজ থেকেই সম্পাদন করতে হবে! যা উপরে আমি তাদের বৈশিষ্ট্য লিখতে সেখানে লিখেছি!
বিশেষ করে চুক্তিপত্রে যদি কোনো লাইফ পার্টনার, তার মালিকের প্রতি, কোন দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন, তবে তার মালিক নিজ থেকেই সে দায়িত্ব পালন করতে হবে!
কিন্তু এ দায়িত্বের কাজে তার লাইফ পার্টনার তাকে বাধ্য করতে পারবেন না!
এ ধরনের কাজ যেমন, লাইফ পার্টনারের পূর্বোক্ত সন্তানের অভিভাবকত্ব পালন করা!
এছাড়া বাকি দায়িত্বসমূহ ধর্মীয়দৃষ্টিকোণ থেকে অটোমেটিক ভাবেই তাকে পালন করতে হবে!
এখন ৬ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা আপনাদেরকে জানাবো যে, মালিকগণ তাদের লাইফ পার্টনারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে লাইফ পার্টনারকে কোন টাকা দিতে হবে কিনা!?
বা টাকা না দিলে চুক্তিপত্র বৈধ হবে কিনা!?
অথবা লাইফ পার্টনার কোন উপযুক্ত মালিকানায় আবদ্ধ হতে তার মালিককে, কোন প্রকার টাকা পয়সা দিতে হবে কিনা?
বা না দিলে তাদের যে চুক্তি পত্র, তা বৈধ হবে কিনা? এ বিষয়টি আমরা এখন আপনাদেরকে জানাবো!
আপনারা উপরোক্ত নিসা এর ২৪ নম্বর আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাওয়া নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে, টাকা লেনদেনের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ নেই!
তবে একটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে যে, পরস্পর সম্মত হতে হবে! মানে চুক্তিপত্র অনুযায়ী তাদের বন্ধন সিদ্ধ হবে!
তাই লাইফ পার্টনার তার মালিকের সাথে যেভাবে চুক্তি করবেন, অর্থাৎ যদি অর্থের বিনিময়ে তার মালিকের লাইফ পার্টনার হওয়ার বিষয়ে সম্মত হন, তবে যেভাবে সম্মত হবেন, যে পরিমাণ টাকার বিনিময়ে সম্মত হবেন, বা যে সিস্টেমে টাকা প্রদানের নিয়ম রাখবেন, তার মানে প্রতি মাসে মাসে দিতে হবে, না চুক্তিপত্র করাকালীন একসাথে দিতে হবে, যেভাবে চুক্তিপত্র করবেন, ঠিক সেভাবেই তার মালিক তাকে টাকা প্রদান করতে হবে!
আর যদি, চুক্তিপত্রে টাকা-পয়সার লেনদেন এর কোন নিয়ম না রাখেন, তাও রাখতে পারবেন! যেহেতু পবিত্র কোরআন, টাকা-পয়সার লেনদেনকে আবশ্যক করে নাই!
এছাড়া মালিক যদি ইচ্ছে করে তার লাইফ পার্টনারকে নিজ থেকে টাকা দিবেন, তাও তিনি দিতে পারবেন! এতে কোনো বাধা-নিষেধ থাকবে না!
অপরদিকে ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাওয়া শিশু ও নারীগণ, তাদের মালিকের অধীনস্থ বিধায়, এ লাইফ পার্টনারগণ তাদের মালিককে কোন টাকা পয়সা দিতে হবে না! কারণ তারা অধীনস্থও থাকবেন, আবার টাকাও দিবেন, এমনটি যুক্তিযুক্ত হতে পারে না!
৭ নং প্রশ্নের উত্তরে এখন লিখবো ডান হাতের মালিকানার বন্ধন কে পড়াবেন এবং এর নিয়ম কী হবে!? এ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারী ও পুরুষের চুক্তিপত্র দলিল কোন্ কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রি করবেন এবং তারা মালিক ও লাইফ পার্টনারদের কী কী বিষয় বিচার করে এরপর এ চুক্তিপত্র দলিলটি রেজিস্ট্রেশন করবেন
প্রত্যেক দেশেই আদালত রয়েছে! এ বৈচারিক কার্য বিচার-বিশ্লেষণ করে চুক্তিপত্র দলিল স্বাক্ষরিত করবেন বা রেজিস্ট্রিকৃত করবেন সেই আদালত! যেহেতু এখানে লাইফ পার্টনারের এফিডেভিট প্রয়োজন হবে, তাই প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটই এর বৈধ কর্তৃপক্ষ!
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বা তিনি কর্তৃক নিযুক্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত বা অর্পিত কর্মকর্তা কর্তৃক মালিক এবং তার লাইফ পার্টনার উভয়ের বক্তব্য শুনে এবং যদি আদালত মনে করে যে, যিনি মালিক তিনি যেমন তার প্রয়োজনে এবং তিনি সামর্থ্যবান হওয়ার কারণে বা ক্ষমতা থাকার কারণে তিনি তার লাইফ পার্টনার চেয়েছেন, ঠিক একইভাবে যিনি লাইফ পার্টনার হবেন, তিনি কি আসলেই মালিকহীন কিনা, বা অভিভাবকহীন কিনা! দুনিয়ায় তার কোন পুরুষ নেতা বা পুরুষ নেতৃত্ব নেই কিনা! এ বিষয়টি তিনি ভালো করে যাচাই বাছাই করে এবং গণ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন প্রচার করে, এরপরও যদি দেখেন যে, এই লাইফ পার্টনারের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করার জন্য কেউ নেই! ইত্যাদি বুঝতে পারার পর, তিনি নিজে অথবা একজন সৎ চরিত্রবান, প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন এবং মোটামুটি ইসলামী আইন জানেন ও মানেন, এ রকম একজন লোকের অধীনে, এবং স্বাক্ষী হিসেবে কমপক্ষে দুইজন সাবালক মোমেন ব্যক্তির উপস্থিতিতে অথবা একজন মোমেন (পূরুষ) ও দুইজন মোমেনা (নারী)
ব্যক্তির উপস্থিতিতে উপরোক্ত যোগ্যতার যেকোনো একজনকে দায়িত্ব দিবেন! তিনি তাদের উভয়ের চুক্তিপত্র পাঠ করে এবং তা উভয় পক্ষকে সামনাসামনি শুনিয়ে ও তাদের চুক্তির এবারতের উপর উভয় পক্ষের স্বাক্ষ্য ও সাক্ষীদের সাক্ষর গ্রহণ করে, এরপর চুক্তিপত্রটি রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন!
আদালতের অনুমতিক্রমে ইজাব কবুল এর এ অনুষ্ঠানটি, মালিকের বাড়িতেও হতে পারবে!
আর এটি শুধু মালিকের বাড়িতেই, মালিকের তত্ত্বাবধানে এবং মালিকের অর্থনৈতিক ব্যয়েই সম্পন্ন হবে!
এখানে লাইফ পার্টনার এক টাকা ব্যয় করারও কোন নিয়ম নেই বা থাকবেনা!
এ চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রেশন করতে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে যেসব বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ বা যাচাই-বাছাই করতে হবে তার প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলি নিম্নে ক্রমিক আকারে উল্লেখ করছিঃ-
১। মালিক ও লাইফ পার্টনারের তরফ হতে চুক্তিপত্র দলিল জমা প্রদান করার পর, এ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, লাইফ পার্টনার অভিভাবকহীন অসহায় কিনা, তা যাচাই করার লক্ষ্যে জাতীয় পত্রিকায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে, এতে যদি কেউ তার ওই লাইফ পার্টনারের অভিভাবক হিসেবে দাবি না করে, এবং মালিকের ক্ষেত্রেও আসলে তার শারীরিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বা সার্বিকভাবে তার সামর্থ্য আছে কিনা ও তিনি সৎ চরিত্রবান কিনা, এবং আসলে তিনি লাইফ পার্টনারের সাথে কোনো জুলুম মূলক কিছু করবেন কিনা, এসব যাচাই করে এরপর চুক্তিপত্রটি আমলে নেয়া!
২। সংশ্লিষ্ট দেশে যদি আদালত কর্তৃক জাতীয় পত্রিকায় বা সোস্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিয়ম না থাকে, তবে যিনি এ চুক্তিপত্রের মালিক তাকে তার খরচে বিজ্ঞাপন দিয়ে সে বিজ্ঞাপনের একটি কপি চুক্তিপত্রের সহিত দাখিল করতে হবে এবং চুক্তিপত্রের মধ্যে "বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে, লাইফ পার্টনার এর কোনো অভিভাবক পাওয়া যায় নাই" এই কথাটি উল্লেখ করতে হবে
৩। মালিক এবং তার লাইফ পার্টনার, এরা দেশদ্রোহী বা ধর্মদ্রোহী এবং এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত আছেন কিনা! অর্থাৎ তাদের অপরাধপ্রবণতা যাচাই করা!
৩। মালিক এবং তার লাইফ পার্টনার উভয়ে মুসলিম কিনা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে যাদের সাথে বা যে সম্পর্ক গুলোর সাথে বিয়ে হারাম হবে, একজন মালিক এবং তার লাইফ পার্টনার এর ক্ষেত্রেও ঐ সম্পর্কগুলো হারাম হবে, তা মেনে এই চুক্তিপত্র করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা!
৪। এ চুক্তি পত্রের মধ্যে যা লিখা রয়েছে, তাতে উভয়পক্ষ স্বাধীনভাবে সজ্ঞানে সন্তুষ্টচিত্তে রাজি খুশি রয়েছেন কিনা!
এ উদ্দেশ্যে এ কর্তৃপক্ষের প্রথম কাজ হচ্ছে চুক্তিপত্রটি উভয়ের সামনে উভয়কে পাঠ করে শোনানো বা শোনানোর ব্যবস্থা করা এবং এতে যদি তারা উভয়ে ঠিক আছে বা রাজি আছেন বলে সাক্ষ্য দেয়, এরপর তাদের সে স্বাক্ষ্যের পক্ষে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর এই চুক্তি পত্রের মধ্যে প্রদান করানো!
৫। লাইফ পার্টনারের অভিভাবকের সন্ধানে জাতীয় পত্রিকায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয়ার পর, যদি কেউ ওই লাইফ পার্টনারের অভিভাবক দাবি করে, যেমন পিতা দাবি করল বা দাদা দাবি করল বা অর্পিত অভিভাবক হিসাবে মা, দাদি, চাচা, চাচি বা বড় ভাই দাবি করল!
বা যেই'ই দাবি করুক, তখন দেখতে হবে লাইফ পার্টনার এতে রাজি আছেন কিনা!
যদি রাজি না থাকে, তাহলে কেন রাজি নেই সে বিষয়টি বের করার উদ্দেশ্যে, বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে, এবং এতে যদি দেখা যায়, যিনি অভিভাবকত্বের দাবি করে এসেছেন, তিনি আসলে তার মেয়ের সাথে, বা যে সম্পর্কেরই হোক; তিনি খারাপ ব্যবহার করেছেন এবং বর্তমানেও তিনি যদি তার মেয়েকে বা তার নাতনিকে নিয়ে যান তাহলে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন এবং যদি এরকম হয় যে, নিজের বাবাই তার কন্যাকে ধর্ষণ করেন অথবা এ ধরনের কোনো জঘন্য কাজে নিয়োজিত করেন, অথবা মেয়েদের ভরন-পোষণতো দেন'ই না, উল্টো যে কোন ভাবে নির্যাতন করেন; তাহলে সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত কর্তৃক যিনি অভিভাবক দাবি করে এসেছেন, তার সাথে এবং লাইফ পার্টনারের সাথে একটি বিচার পরিচালনা করতে হবে; বিচারে যদি, দাবী করা ঐ অভিভাবক দোষী সাব্যস্ত হন; তবে তাকে উক্ত নারী বা শিশুকে দেয়া যাবেনা!
তখন যিনি ঐ শিশু ও নারীর অভিভাবক হিসেবে দাবি করেছেন, তা প্রত্যাখ্যাত হবে এবং তিনি মালিকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন!
এ বিষয়টি যাচাই করা ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সঠিক রায় প্রদান করা, ও রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া ঐ কর্তৃপক্ষ বা আদালতের একটি দায়িত্ব হবে!
৬। তাদের উভয়ের স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে এবং স্থানীয় মানুষদের সাথে আলাপ আলোচনা করে, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যে, তাদের ঠিকানা সঠিক এবং তারা কোনো দুষ্ট গোচের বা ক্রিমিনাল টাইপের মানুষ নয়! তারা সাধারণ মানুষ!
অর্থাৎ আবেদন এবং সম্পর্ক যুক্তিযুক্ত ও উপযুক্ত কিনা, এ বিষয়টি তাদের যে পাড়া-প্রতিবেশী রয়েছে বা পরিচিত রয়েছে তাদের সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করে সঠিক ও ইনসাফপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়! এককথায় পুলিশ ভেরিফিকেশন করা!
৭। এছাড়া চুক্তিপত্রের মধ্যে এমন কিছু যদি থাকে যে, তা বিচার বিশ্লেষন করতে হবে, তবে তা যাচাই বাছাই বা বিচার বিশ্লেষণ করা।
৮। এছাড়া চুক্তি পত্রের আলোকে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করা!
আবার এমনও হতে পারে যে, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এফিডেভিট গ্রহণ করার পর, তিনি রেজিস্ট্রিকৃত এফিডেভিট দলিল এবং সবকিছু যাচাই-বাছাইয়ের পর ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে বলে মেজিস্ট্রেড স্বাক্ষরিত ছাড়পত্র দিয়ে বিয়ে যারা রেজিস্ট্রেশন করেন সেই কর্তৃপক্ষকে রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দিতে পারেন!
যে দেশে যে নিয়ম প্রচলিত থাকবে সেই দেশে সেই নিয়ম অনুযায়ী ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিধানটি বলবৎ থাকবে!
এবার ৮ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখতে চাই চুক্তিপত্র দলিল কত টাকার স্ট্যাম্প এর মধ্যে লিখতে হবে?
এবং এই স্টাম্প এর ক্রয় মূল্য কে বহন করবে? মালিক, নাকি তার পার্টনার? চুক্তিপত্র দলিলটি রেজিস্ট্রি করা বিষয়ক যাবতীয় কাজ কার দায়িত্বে থাকবে, ও এর যাবতীয় খরচ কে বহন করবে?
যেহেতু এ ধরনের চুক্তিপত্র কত টাকার স্ট্যাম্প এর মধ্যে হবে, তা এখনো এ পৃথিবীর কোন দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত করা হয় নাই!
এবং এধরনের চুক্তিপত্র লেখার সিস্টেম সরকারিভাবে এখনো নাই! তাই আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এটি ২০০০ টাকা করে মোট দুটি, বা মোট দুই সেট, মানে সর্বমোট ৪ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে লিখতে হবে!
অর্থাৎ নিয়মানুযায়ী ২০০০ টাকা মালিকের ষ্ট্যাম্প এবং ২০০০ টাকা তার লাইফ পার্টনার এর ষ্ট্যাম্প!
তবে ভবিষ্যতে যদি সরকার এই ধরনের চুক্তিপত্র লেখার জন্য কত টাকার স্ট্যাম্প এর মধ্যে লিখতে হবে, তা নির্ধারিত করেন, তাহলে সরকার নির্ধারিত ওই নির্দিষ্ট মূল্যের স্ট্যাম্প এর মধ্যে, এ চুক্তিপত্রটি লিখতে হবে! এ চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক যাবতীয় কাজ, এবং এর সব ধরনের খরচ মালিককে বহন করতে হবে!
এখন ৯ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখবো যে, চুক্তিপত্র দলিল কোন্ ভাষায় হবে এবং কার নিকট সংরক্ষিত থাকবে-
দু'টি বা দুই সেট চুক্তিপত্র দলিল প্রস্তুত করতে হবে!
এর একটি বা একসেট চুক্তিপত্র দলিল থাকবে মালিকের নিকট এবং আরেকটি বা আরেক সেট চুক্তিপত্র দলিল থাকবে লাইফ পার্টনারের নিকট! উভয় চুক্তিপত্র দলিলে তাদের উভয়ের স্বাক্ষর থাকতে হবে!
মালিকের চুক্তিপত্র দলিল হবে, তিনি যে ভাষা সবচাইতে ভালো জানেন সে ভাষায়! এবং তার পার্টনারের চুক্তিপত্র দলিল হবে, তিনি যে ভাষা ভাল জানেন সে ভাষায়!
উভয় চুক্তিপত্র বা উভয় সেট চুক্তিপত্র দলিল এর ভাষা ও এর মর্মার্থ একই হবে!
এবং উদ্ভূত কোন জটিল সমস্যায়, যার সমস্যা হবে, তার হাতে যে চুক্তিপত্র দলিলটি রয়েছে এর মাধ্যমেই সমাধান দেয়া হবে!
উভয় চুক্তিপত্র বা উভয় সেট চুক্তিপত্র দলিল এর প্রত্যেক পৃষ্ঠায় প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমোদন বিষয়ক স্বাক্ষর থাকতে হবে! বা ঐ সংশ্লিষ্ট আদালতের নিজস্ব নিয়ম-নীতি মোতাবেক রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে!
যার চুক্তিপত্র তার নিকট সংরক্ষিত থাকবে এবং তিনিই এর হেফাজত করবেন!
১০ নং প্রশ্নের উত্তরে এখন আমরা লিখছি যে, একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারলেও, একজন পুরুষ তার ডান হাতের বন্ধনে সর্বোচ্চ কতজন নারীর সাথে আবদ্ধ হতে পারবেন অথবা এটি আনলিমিটেড কিনা!?
বিয়ের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে, কিন্তু আল-কুরআনের সূরা নিসা এর ২৪ নং আয়াতে ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নাই! এটি আনলিমিটেড হবে!
সুতরাং, একজন মালিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী এবং তার যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সংখ্যক লাইফ পার্টনার গ্রহন করতে পারবেন!
কিন্তু কখনই একজন লাইফ পার্টনার একের অধিক মালিককে গ্রহন করতে পারবেন না!
এখন ১১ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখছি যে, কিভাবে ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারী ও পুরুষের ডিভোর্স হবে?
অর্থাৎ এ ডিভোর্সের প্রক্রিয়া কেমন হবে? এবং নারী ও পুরুষ উভয়েই ডিভোর্স দিতে পারবেন কিনা?
এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা আরো লিখেছি যে, এ ডিভোর্স প্রদান কর্তৃপক্ষ কে হবে? অর্থাৎ কার স্বাক্ষরে ডিভোর্স লেটার চূড়ান্ত হবে!?
পারিবারিক জীবনে যদি দুর্বিসহ যন্ত্রনা সৃষ্টি হয়, তবে মালিক ইচ্ছে করলে তার পার্টনারকে ডিভোর্স দিতে পারবেন এবং তার পার্টনার ও প্রয়োজন মনে করলে তার মালিককে ডিভোর্স দিতে পারবেন!
তবে কে কাকে ডিভোর্স দিবেন এবং কি কারণে বা কোন অপরাধের কারণে ডিভোর্স দিবেন; তা সে ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় তারা উভয়ে যে চুক্তি করেছিলেন সেই চুক্তি পত্রে উল্লেখ থাকতে হবে!
এক্ষেত্রে কমপক্ষে এক মাস আগে কী কারণে তিনি তার পার্টনারকে বা তার মালিককে ডিভোর্স দিচ্ছেন তা মৌখিকভাবে সতর্ক করে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে হবে!
এবং এ এক মাসের মধ্যে তারা পরস্পর সহবাস করতে পারবেন না, যদি সহবাস করেন, তবে এ একমাসের মধ্যে তিনি যে ডিভোর্স দিবেন বলে সিদ্ধান্তটি জানিয়েছিলেন তা বাতিল হয়ে যাবে!
যদি ডিভোর্স দিতেই হয় তবে তাকে পুনরায়, মৌলিক ভাবে সতর্কীকরণ নোটিশ দিতে হবে!
সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যেও যদি মালিকের অথবা তার পার্টনারের অত্যাচার বা দোষ সমূহ পরিবর্তন না হয়, এবং এতে তার মালিক বা পার্টনার যদি সন্তুষ্ট না হন তাহলে তিনি চূড়ান্তভাবে মৌখিক ভাবে ডিভোর্স দিতে পারবেন!
ডিভোর্স দেয়ার বিষয়টি যদি মালিক বা তার পার্টনার চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিপরীতক্রমে মালিক বা পার্টনারকে ডিভোর্স দিবেন, তবে তা তাকে জানিয়ে দিতে হবে!
তবে প্রমাণপত্র হিসেবে একটি ডিভোর্স লেটার অনুমোদিত করার জন্য বা রেজিস্ট্রি করার জন্য দেশীয় আদালতের মাধ্যমে বা ইসলামিক আদালতের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট থেকে, তার সিলমোহর ও স্বাক্ষরসহ চূড়ান্ত করে আনতে হবে!
এখন ১২ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখবো যে, মালিক এবং তার পার্টনার এর মধ্যে যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তাহলে পার্টনারকে ইদ্দত পালন করতে হবে কিনা!?
এবং ইদ্দত পালন করতে হলে কতদিন ইদ্দত পালন করতে হবে?
এ হিসাব কোন দিন থেকে শুরু হবে?
এবং ইদ্দত পালন করা কালীন তিনি কি মালিকের নিকট অবস্থান করতে পারবেন? না তাকে তার মত করে তার অবস্থানে থাকতে হবে!?
এ সময়ে তারা পরস্পর সহবাস করতে পারবেন কিনা?
অথবা ইদ্দত চলাকালীন, তিনি অন্য কোন পুরুষের সাথে বিয়ে বন্ধনে অথবা ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন কি-না!?
এ বিষয়গুলো সম্বন্ধে এখন আমরা লিখবো-
মালিক এবং তার পার্টনারের মধ্যে যদি ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাহলে পার্টনারকে অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে!
যেদিন পার্টনারকে ডিভোর্স লেটার হাতে দেয়া হবে,
সেদিন থেকে পরবর্তী ৩ মাসিক শেষ হওয়া পর্যন্ত, অথবা একমাসকে ২৯ দিন ধরে পুরো তিন মাস অর্থাৎ ৮৭ দিন পর্যন্ত তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে!
এ সময়ে সে ওই মালিকের সাথে, সহবাস করতে পারবেন না! এবং অন্য কোন পুরুষের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে অথবা ডানহাতের মালিকানায় আবদ্ধ হতে পারবেন না!
ইদ্দত চলাকালীন তিনি মালিকের ঘরেই, মানে তার সাবেক স্থানেই থাকবেন!
এখন ১৩ নং প্রশ্নের উত্তরে, আমরা লিখছি যে ইদ্দত পালন করা কালীন যদি বুঝতে পারা যায় যে পার্টনার গর্ভবতী, তখন তার ইদ্দতের সময়কাল মোট কতদিন হবে? বা কিরূপ হবে? এ সময়ে তিনি অন্য কোন পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে অথবা ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন কিনা? অথবা তার পূর্বোক্ত মালিকের সাথে সহবাস করতে পারবেন কিনা? এই বিষয়টি এখন আপনাদেরকে জানাবো!
ইদ্দত পালন করা কালীন, যদি বুঝতে পারা যায় যে পার্টনার গর্ভবতী; তাহলে তার সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে!
এ সময়ে তিনি ওই মালিকের সাথে সহবাস করতে পারবেন না! এবং অন্য কোন পুরুষের সাথেও বিবাহবন্ধনে অথবা ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না!
১৪ নং প্রশ্নের উত্তরে এখন আমরা লিখব যে, ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারী-পুরুষের যদি তাদের নিজেদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তবে তারা আবার পুনরায় ডানহাতের বন্ধনে অথবা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে কিনা!?
আসলে ডানহাতের বন্ধনে বন্ধন সৃষ্টি করার এই বিধানটি পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে এসেছি!
এবং বিয়ে বন্ধনের মাধ্যমে যেমন একজন মানুষ নারী হোক কিংবা পুরুষ হোক, তারা উভয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে অর্থাৎ একটা সংসার গঠন করার সুযোগ থাকে এবং যেহেতু এর মাধ্যমে পুরুষগণ পিতা ও মহিলাগণ মাতা হতে পারে, সুতরাং এই নিয়মটি একটি সম্মানিত নিয়ম!
আবার যেহেতু এটি কোরআন শরীফের বিধান!
কিন্তু একজন মানুষ তার মনগড়াভাবে একবার সম্পর্ক সৃষ্টি করবেন, আবার সামান্যতেই সম্পর্ক ছিন্ন করবেন, এভাবে হলে পবিত্র কোরআন থেকে যে এ বিধানটি দেওয়া হয়েছে, তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়!
যদিও এটি বিয়ে বন্ধের মতো প্রথম শ্রেণীর সম্মানিত বন্ধন নয়, তবুও এটিও মানব সমাজের জন্য আল্লাহু তা'য়ালার সৃষ্টি দুনিয়াতে আগত হওয়ার জন্য একটি বিধান; আর তাই একবার যদি এ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায় পুনরায় আবার এ সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে, বিয়ের ক্ষেত্রে যে নিয়ম রয়েছে, যেমন আরেকজন পুরুষ স্বাভাবিক ভাবে যদি এই মহিলাটিকে বিয়ে করেন এবং স্বাভাবিকভাবেই যদি পরবর্তীতে দুর্ভাগ্যক্রমে সে সংসারটিও তার চ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন তার পূর্বোক্ত স্বামী ইচ্ছে করলে তাকে বিয়ে করতে পারে; ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারী পুরুষের ক্ষেত্রেও এটি'ই প্রযোজ্য হবে!
সুতরাং ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া কোন নারী-পুরুষ, একবার যদি তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে পুনরায় আবার সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে তার লাইফ পার্টনার এর অন্য কোথাও বিয়ে বন্ধন কিংবা ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে!
এবং স্বাভাবিকভাবেই আবদ্ধ হতে হবে! আবার স্বাভাবিকভাবেই ওখানেও সম্পর্ক ছিন্ন হতে হবে!
এরপর আবার পুনরায় তারা ইচ্ছে করলে আগের মালিকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে!
এখন ১৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখছি যে, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নারী এবং পুরুষ কিছুদিন ঘর সংসার করার পর সম্মানার্থে যদি তারা চায় যে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হবে; তবে তারা তা পারবে কিনা?
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনে এবং তাঁহার সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু, তাঁদের জীবনে, আমরা দেখতে পেয়েছি যে, একজন মালিক
ইচ্ছে করলে তার দাসীকে বিয়ে করতে পারতেন!
অতএব সে সূত্রে
একজন মালিক ইচ্ছে করলে, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তার লাইফ পার্টনারকে
সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত করতে তাকে বিয়ে করতে পারবেন!
শরীয়তে এতে কোনো বাধা-নিষেধ নেই!
১৬ নং প্রশ্নের উত্তরে এখন আমরা লিখছি যে, লাইফ পার্টনারের যদি সন্তান হয় তবে সে কি মালিকের পরিচয়ে পরিচিত হবে, না পার্টনার এর পরিচয়ে!?
তার আইনগত অভিভাবক মালিক হবে, না পার্টনার হবে?
এছাড়া এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা আরো লিখেছি যে,
লাইফ পার্টনারের সন্তান এবং স্ত্রীর সন্তান; এ দুয়ের মধ্যে মূল্যায়নগত বা মিরাস প্রাপ্তির দিক থেকে অথবা অন্য যে কোন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে কিনা!?
লাইফ পার্টনার ও মালিকের সন্তানের পরিচয় সবসময় মালিকেরই হবে!
এবং সন্তানের বৈধ অভিভাবক, মালিকই থাকবে!
স্ত্রীর সন্তান এবং মালিকের সন্তানের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না!
যদিও পরিচয় গত পার্থক্য থাকবে, কিন্তু পার্টনারের সন্তান যেমন বাবার সন্তান হিসেবে মূল্যায়ন পাবে, ঠিক তেমনি স্ত্রী-সন্তান সমান মূল্যায়ন পাবে!
আবার মিরাসের দিক থেকে, স্ত্রীর সন্তান বাবার সম্পত্তিতে যা পাবে; পার্টনারের সন্তানও ঠিক তাই পাবে! এখানে এ ধরনের কোনো বিষয় নেই যে, পার্টনারের ছেলেকে ছোট ও খাটো করে দেখা হবে, কিন্তু স্ত্রীর সন্তানকে অনেক মান ইজ্জত ওয়ালা বা মূল্যায়ন করে দেখা হবে, এরকম কোন সিস্টেম ইসলামী শরীয়তে নেই!
এখন ১৭ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখবো যে, কর্মব্যস্ত মানুষ, তার বাড়ির বাহিরে এ আইনকে ব্যবহার করে, সাময়িক সময়ের জন্য, চুক্তিভিত্তিক কোন নারীকে, লাইফ পার্টনার হিসেবে, আহবান করতে পারবে কিনা!? অর্থাৎ এক বছরের জন্য বা দুই বছরের জন্য বা দুই দিনের জন্য এরকম স্বম্পর্ক, অর্থাৎ চুক্তিভিত্তিক ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েজ ও হালাল হবে কিনা!? এ বিষয়টি এখন আমরা লিখবো!!
ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার নামে, কোন ধরনের প্রহসন, যেমন, কোন দেশে যাওয়ার জন্য সেই দেশের একটা নাগরিকত্ব দেখাতে,
অথবা কোথাও কর্মস্থলে সাময়িক সময়ের জন্য একজন দেহ সঙ্গীকে পাশে পেতে, এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক লাইফ পার্টনার, এটি করা জায়েজ হবে না!
পবিত্র কুরআন এ আইনটি দিয়ে মানুষের সাথে মানুষের একটা সম্পর্ক সৃষ্টি করার ব্যবস্থা করেছে!
অসহায় মজলুম জনতাকে, একজন ধনাঢ্য, সৎ চরিত্রবান মুসলিমের নিকট আশ্রয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছে!
কিন্তু এ আইনের অবমাননা করে বা অবমূল্যায়ন করে, যদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, অনুমতি দেয়া হয়, তবে তা পবিত্র কোরআনকে অবমূল্যায়ন করা বা এ আইনকে অবমূল্যায়ন করার শামিল হবে!
অতএব এটি কিছুতেই জায়েজ হবে ন!!
এখন ১৮ নং প্রশ্নের উত্তরে লিখছি যে, দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীকে, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী অনেকগুলো আইন মেনে চলতে হয়!
এ মাসআলার মধ্যে যেগুলো উল্লেখ হয়েছে এর বাহিরে স্বামী-স্ত্রী সংক্রান্ত অন্যান্য যেসব মাসআলা রয়েছে সেগুলোতে ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মালিক ও তার লাইফ পার্টনারের জন্যেও কি একই বিধান হবে?
অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর যে বিধান, মালিক ও লাইফ পার্টনারের ও কি একই বিধান প্রযোজ্য হবে!?
জ্বি, জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রে, স্বামী স্ত্রীর জন্য যে বিধান, মালিক ও তার পার্টনারের জন্য প্রায় একই বিধান প্রযোজ্য হবে!
যে কিছু নিয়মের মধ্যে ব্যতিক্রম রয়েছে তার প্রায় সবগুলো এ মাসআলায় আমরা আলোচনা করেছি!
এছাড়া ইসলামী শরীয়তে অন্যান্য ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর জন্য যে বিধান নির্ধারিত করা হয়েছে; ডানহাতের মালিক ও তার লাইফ পার্টনারের জন্যেও ঠিক একই বিধান নির্ধারিত করা হয়েছে!
তারপরও জীবনের কোন ক্ষেত্রে যদি মনে হয় যে, বিষয়টি জায়েজ না নাজায়েজ; এ বিষয়ে সন্দেহের যদি সৃষ্টি হয় তবে বিজ্ঞ মুফতিদের সাথে আলোচনা করে এর সমাধান করতে হবে!
১৯ নং প্রশ্নের উত্তরে এখন আমরা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় লিখবো যে, আজকের এই মাসআলাটি কি একটি ইজমা এবং কেয়াস ভিত্তিক মাসআলা!?
যদি ইজমা এবং কেয়াস ভিত্তিক হয় তাহলে এ মাস'আলার বিষয়ে পূর্বোক্ত বা প্রাচীন সময় থেকে এ পর্যন্ত (২০২৬ ইং পর্যন্ত) যে সিদ্ধান্ত ছিল তা কি পরিবর্তনের সুযোগ আছে!?
পরিবর্তনের সুযোগ থাকলে কী কী বিষয় পরিবর্তন হতে পারে এবং কেন!?
এ বিষয়টি আমরা এখন বুঝাতে চেষ্টা করবো!
সূরা নিসা এর ২৪ নম্বর আয়াতে ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার যে সম্পর্কের কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা পবিত্র কুরআনে যেমন পরিপূর্ণ ভাবে এ বিধানটি বলা হয়নি, ঠিক তেমনি হাদীস শরীফেও এ বিধানটির পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা নেই!
তারমানে ডানহাতের বন্ধনে কোন্ কোন্ শ্রেণী আবদ্ধ হতে পারবে, বা সর্বোচ্চ কতজন নারী একজন পুরুষের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে বা কোন্ কোন্ ধরনের নারীগণ এ আইনে সংসার গঠন করতে পারবে না; এই জাতীয় কোন কিছুই পবিত্র কোরআন এবং হাদীস শরীফের কোথাও উল্লেখ করা হয় নাই!
যেহেতু এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসে বিস্তারিত কিছু'ই নেই; তাই আলেমগণকে একত্রিত হয়ে, ইজমা এবং কেয়াসের মাধ্যমে এ মাসআলাটির সমাধান দিতে হবে!
যেহেতু পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা এ রকমই এবং এভাবেই এটিকে সমাধান দেয়ার জন্য সিস্টেম করে রাখা হয়েছে!
তাহলে এই মাসআলাটি অবশ্যই ইজমা ও কিয়াস ভিত্তিক!
এ আইনের অধীনে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জীবনে ৪ টি ক্যাটাগরির দাসীকে একজন পুরুষের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন!
কিন্তু তিনি এর বেশি কোন শ্রেণীকে তার এই চার ক্যাটাগরির নারীদের আলোকে বন্ধন সৃষ্টি করা যাবে না, সে কথা কোথাও বলেননি!
তাই পরবর্তীকালের আলেমগণ যদি বুঝতে পারেন যে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম, যে বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে নারীদেরকে এই বিধানের আলোকে বন্ধন সৃষ্টির অনুমতি দিয়েছিলেন, সে একই বৈশিষ্ট্যের অন্যান্য নারী পরবর্তী ভবিষ্যৎকালের যেকোনো সময়ে যদি পাওয়া যায়; তবে তাদেরকেও এই বিধানের আলোকে বন্ধন সৃষ্টি করা যাবে! এবং তা বুঝাতেই তিনি শুধু উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন!
এখানে এ আইনে শুধু দাসীদেরকেই
বিবেচনা করতে হবে বা নির্ধারিত করতে হবে এমন কোনো বিধান বা এমন কোনো কথা তিনি (সাঃ) হাদীস শরীফের বা তাঁর জীবদ্দশায় কোথাও বা কখনো বলেননি!
এখন কথা হচ্ছে এ আইনের আলোকে প্রাচীনকাল থেকে এ পর্যন্ত আলেমগণ তাদের ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিছু বিষয়ে যে সিদ্ধান্তগুলো দিয়েছিলেন, তার সাথে যদি আবশ্যক হয়, তাহলে আরো সংযোজন করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারবেন কিনা!?
এর সঠিক উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই পারবেন!
পূর্বোক্ত আলেমগণ এ আইনের বাস্তবায়নে তখনকার সময়ে
মানুষ ও জিনদের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য যতটুকু বুঝতে পেরেছিলেন, ততোটুকু দিয়েছেন; কিন্তু বর্তমানে এ আইনের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও পরিস্থিতির আলোকে যদি নতুন কোন সংযোজন বা এর পূর্ণতার প্রয়োজন হয় তবে অবশ্যই তা সংযুক্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন!
তাই বর্তমান আলেমগণ একত্রিত হয়ে যদি এমন কোন বিষয়ে তারা উপলব্ধি করেন যে, এ বিষয়ক আগের আইনগুলোতে আপডেটের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সকলে একত্রিত হয়ে এই আইন বিষয়ক বিভিন্ন বিধানের পরিবর্ধন ও সংযোজন এগুলো করতে হবে, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে তা করতে হবে !
যেহেতু, এগুলোতো আর পবিত্র কোরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফে সরাসরি নির্ধারিত ভাবে নেই!
এগুলো ইজমা ও কিয়াস ভিত্তিক! তাই এগুলোতে আপডেট আসা একেবারেই স্বাভাবিক!
তাহলে যুগের পরিবর্তনে, সমাজ ও পরিবেশের পরিবর্তনে, মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানে, চিন্তা ধারায়, বা আধুনিকতায় পরিবর্তন আসতেই পারে!
এবং যেহেতু এগুলো ইজমা ও কিয়াস ভিত্তিক সিদ্ধান্ত; তাই নবপ্রজন্মের উন্নতির লক্ষ্যে কোরআন হাদিসের আলোকে
এগুলোতে অবশ্যই নতুন কিছু সংযোজন যোগ্য!!
সে সাথে তৎকালীন সময়ে এগুলোতে হয়তো ব্যাপক আমল না থাকায় এর বিস্তারিত মাসআলা হয়তো তখন প্রয়োজনও ছিল না, কিন্তু যেহেতু এগুলোর মূল পবিত্র কুরআন! এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ! তাহলে এগুলোর বিস্তারিত আইন এবং তার বাস্তবায়ন থাকা আবশ্যক! কুরআনের আমল করতে হলে অবশ্যই কুরআনের প্রত্যেকটি আইন বাস্তবে থাকতে হবে!
তাই সে সময় ও যুগ যদি উপস্থিত হয়, তাহলে আলেমগণ ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তগুলো মানুষ ও জিন জাতিকে দিতে হবে!
না হয় পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত আছে, হাদীস শরীফে উল্লেখিত আছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন নেই;
তাহলে বিষয়টা অসামঞ্জস্যশীল হয়ে কোরআনের ও হাদিস শরিফের এই যে আইন, এগুলোকে অনর্থক লিখা হয়েছে, এটিই প্রমাণিত হয়!
অতএব বর্তমান সময়ের আবেদন অনুযায়ী এই আইনের আওতায় আরো কিছু আইন অবশ্যই সংযোজন করতে হবে!!
এবং যা করা আলেমদের জন্য কিছুতেই না জায়েজ হবে না;
বরং আবশ্যক হবে!!
২০ নং প্রশ্নের উত্তরে এখন আমরা জানবো যে, একজন স্ত্রী এবং একজন লাইফ পার্টনার এর মধ্যে পার্থক্য গুলো কী কী?
নিম্নে পার্থক্যগুলো ক্রমিকানুসারে উল্লেখ করছি-
১. দুনিয়াতে যার বাবা রয়েছে বা কোনো বৈধ অভিভাবক রয়েছে তারতো যেন একটা সূর্য রয়েছে!
আকাশের সূর্যের আওতায় সে থাকবে জীবন্ত!
তার মানে যেসব মহিলার বৈধ অভিভাবক আছে, যারা সচ্ছল, সম্মানিত, তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হবে; দুর্ভাগ্যক্রমে
যাদের দুনিয়াতে কোন অভিভাবক নেই, পিতা-মাতার কোন পরিচয় বা সম্পর্ক নেই, যারা অভিভাবকহীন, পরিচয়হীন, পিতৃ-মাতৃহীন, তারাই ডানহাতের বন্ধনে আবদ্ধ হবে!
২. স্ত্রীগণ তার বা তাদের স্বামীর পরিবারের সহযোগী! স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পারস্পরিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয় একটি পরিবার!
যদিও স্ত্রীর উপর স্বামীর প্রাধান্য থাকে!
অপরপক্ষে একজন লাইফ পার্টনার তার মালিকের সহকারী!
হয়তো স্ত্রী এক অর্থে স্বামীর সহযোগী; অন্যদিকে লাইফ পার্টনার আরেকটু দ্বিতীয় নিম্নতম স্তরের তার মালিকের পরিবারেব সহযোগী!
উভয়েই কিন্তু স্বামীর বা মালিকের সংসারের সহযোগী হিসেবে পারিবারিক কার্য সমূহ সম্পন্ন করতে তার স্বামী কিংবা মালিক কর্তৃক প্রদত্ত, তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন!
৩. স্ত্রী হয়তো কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করেন; কিন্তু একজন লাইফ পার্টনারকে তার মালিকের পুরোপুরি অধীনে থাকতে হয়!
৪. স্ত্রীগণ তার স্বামীর কাছ থেকে মোহরানা পান এবং স্বামীর সম্পত্তির মিরাস পান; অপরপক্ষে একজন লাইফ পার্টনার তার মালিকের সাথে চুক্তিকৃত অর্থ পান; কিন্তু তিনি তার মালিকের সম্পত্তিতে কোন মিরাস পান না!
৫. স্ত্রীগণ যেমন তার স্বামীর সন্তানের মা হতে পারে, তেমনি লাইফ পাটনার গণও তার মালিকের সন্তানের মা হতে পারে!
এখানে তেমন কোন পার্থক্য নেই!!
৬. স্ত্রী যেমন তার স্বামীর সাথে পারস্পরিক যৌনক্ষুধা মেটাতে পারেন; ঠিক তেমনি লাইফ পার্টনার গণও তাদের মালিকের সাথে পারস্পরিক যৌনক্ষুধা মেটাতে পারেন!
এখানেও স্ত্রী ও লাইফ পার্টনারের অধিকার; তাদের স্বামী কিংবা মালিকের সাথে সমান সমান!
৭. একজন স্ত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠান, অনেকটা ধুমধাম ও মর্যাদাপূর্ণ ভাবে হয়; কিন্তু একজন লাইফ পার্টনার এর বিয়ের অনুষ্ঠান অতো ধুমধাম ও সম্মানের সহিত হয় না!
৮. স্বামী এবং স্ত্রীর বিয়ের আকদ্ অনুষ্ঠান ও বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের আইন কানুনের চাইতে মালিক এবং তার পার্টনারের বিয়ের আকদ্ অনুষ্ঠান ও বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের আইন কানুন অনেকটাই জটিলতা পূর্ণ!
৯. একজন স্ত্রী তার স্বামীর নিকট এবং তার স্বামীর আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর নিকট যতটুকু সম্মানিত হন; একজন লাইফ পার্টনার তার মালিকের নিকট এবং তার আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর নিকট ততটুকু সম্মানিত হন না!
বরং অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত হন!
১০. স্ত্রীদের বাবার বাড়ি, বোনের বাড়ি, নানার বাড়ি, ইত্যাদি আত্মীয়-স্বজন থাকায় তারা বিভিন্ন বাড়িতে বেড়াতে যান; এতে স্ত্রী মানসিকভাবে অনেকটা সুস্থতা বোধ করেন!
কিন্তু একজন লাইফ পার্টনারের কোন আত্মীয়-স্বজন না থাকায় তাকে সব সময় তার মালিকের গৃহে থাকতে হয়, এতে তিনি মানসিকভাবে কষ্টে থাকেন!
১১. একজন স্বামী তার স্ত্রীর উপর, নিপীড়ন, নির্যাতন, ও অত্যাচার করতে একটু হলেও চিন্তা ভাবনা করে করতে হয়, বা তাকে বেগ পেয়ে করতে হয়; কারণ স্ত্রীর বাবা-মা-ভাই-বোন, ইত্যাদি আত্মীয় স্বজন অনেকেই রয়েছেন! সে সাথে স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনের দ্বারা স্বামীর উপকৃত হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে!
তারপরও পৃথিবীতে স্ত্রীদের উপর স্বামীগণ অত্যাচার করে চলেছেন!
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যদি মালিক অত্যান্ত ভালো মানুষ না হন, তবে সে ক্ষেত্রে লাইফ পার্টনারের ওপর নেমে আসতে পারে অমাবশ্যার মতো অন্ধকার; তার জীবন হতে পারে অনেক অনেক কষ্টের!
কারণ মালিক তার লাইফ পার্টনারের দূর্বলতা বা অসহায়ত্বের সুযোগে যে কোনো নামেমাত্র দোষ বা উচিলা ধরেই তার পার্টনারকে শারীরিক-মানসিক বিভিন্ন ভাবে চরম নির্যাতন করতে পারেন!!
১২. স্ত্রীগণ অত্যাচার সহ্য করতে না পারলে, তখন স্বামীদেরকে ডিভোর্স দিতে পারেন বা ডিভোর্স দেয়ার অধিকার রাখেন; কিন্তু একজন লাইফ পার্টনার, তার মালিককে ডিভোর্স দেয়ার অধিকার রাখলেও তিনি আসলে তার মালিককে ডিভোর্স দিয়ে যাবেন কোথায়!? তারতো হয়তো দুনিয়াতে কেউ নেই!
তাই একজন লাইফ পার্টনার তার মালিককে ডিভোর্স দেয়ার সে ক্ষমতা তার থাকে না বিধায়, তাকে মালিকের সকল অত্যাচার নীরবে সহ্য করতে হয়!
১৩. অতএব সবমিলিয়ে একজন পুরুষের স্ত্রী হওয়া এটি অবশ্যই স্বাভাবিক এবং সম্মানের!
কিন্তু একজন মালিকের পার্টনার হওয়া এটি অবশ্যই পরিস্থিতির শিকার হয়ে অস্বাভাবিকতার এবং অসম্মানের!
১৪. স্ত্রীদের বর্তমান ঠিকানা তার স্বামীর ঠিকানা; কিন্তু তাদের স্থায়ী ঠিকানা তার বাবার ঠিকানা!
অপরপক্ষে লাইফ পার্টনারদের স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা দুটি'ই তার মালিকের ঠিকানা!
তবে মালিক যদি নিজে ইচ্ছে করেই তার পার্টনারকে, তার কোন কর্ম প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়ে সেখানে রাখেন তবে সেটি মালিকের পক্ষে তার বর্তমান ঠিকানা হতে পারে!
প্রকৃতপক্ষে একজন পার্টনার এর স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা দুটির অধিকারই তার মালিকের!
১৫. একজন পুরুষের স্ত্রী সর্বোচ্চ চারজন হতে পারে! কিন্তু একজন পুরুষের লাইফ পার্টনার সর্বোচ্চ কতজন হবে তার কোনো সীমা নেই! তারমানে আনলিমিটেড হতে পারে!
যে কারণে কোন পুরুষের লাইফ পার্টনার যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে লাইফ পার্টনার এর যে হক, তা হয়তো বিঘ্নিত হতে পারে!
এখন ২১ নং প্রশ্নের উত্তরে আমরা লিখবো যে, ডান হাতের বন্ধনে আবদ্ধ নারী যদি অল্পবয়স্ক নাবালিকা বা শিশু হয় তাহলে তার ক্ষেত্রে এ আইনে কোন ভিন্নতা আছে কিনা!?
ইসলামী শরীয়ত, বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের কোন বাধ্যবাধকতা রাখে নাই!
সেই হিসেবে ডান হাতের বন্ধনে যে বিয়ে, এখানেও বয়সের কোনো লিমিটেশন থাকবে না!
তবে কনে যদি শিশু হয়, তাহলে নাবালিকা হিসেবে তার যে অধিকার, যেমন, তার ওপর শারীরিক অত্যাচার করা বা তার উপর অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বাধ্য করা, তার উপর যৌন নির্যাতন করা, উপযুক্ত হওয়ার আগেই তাকে যৌন মিলনে বাধ্য করা; এসব করা যাবে না!
তার ভাত-কাপড়, ওষুধ, চিকিৎসা, শিক্ষা, চিত্তবিনোদন এবং তার জীবনের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ প্রেম-ভালোবাসা, আদর মোহাব্বত ইত্যাদি তাকে দিতে হবে!
এছাড়া শিশু বা নাবালিকা লাইফ পার্টনার; বিকল্প অধিকার' বা 'খিয়ারুল বুলুগ' (Option of Puberty) অনুযায়ী পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পর, মানে তার এনআইডি কার্ডে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া থেকে ২১ বছর পূর্ণ হওয়া, এই সময়ের মধ্যে যদি সে মনে করে যে, মালিকের সাথে ডানহাতের বন্ধনে তার যে বিয়ে হয়েছিল তা সে মালিকের অত্যাচারের কারণে, নির্যাতনের কারণে, বা যে কারণেই হোক না কেন, সে বাতিল করবে, তবে তা সে করতে পারবে!
একজন মালিকের ডানহাতের বন্ধনে বিয়ে করা নারী যদি শিশু বা নাবালিকা হয়, তবে মালিককে অবশ্যই এগুলো মেনে চলতে হবে!
সে সাথে তাকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর নিম্নোক্ত হাদীসসমূহ মেনে চলতে বাধ্য থাকতে হবে-
১. আমর বিন শুয়াইব (রা.) তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদের ছোটদের (শিশুদের) প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান ও মর্যাদা বোঝে না।" (সুনানে তিরমিযী ও আবু দাউদ)
২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন:"প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা এবং হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" (সহীহ বুখারী)
৩. আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"তোমরা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করো না এবং অপরেরও ক্ষতি করো না। যে ব্যক্তি অপরের ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন। আর যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি কঠোর হবে, আল্লাহও তার প্রতি কঠোর হবেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, দারা কুতনী)
৪. "রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বিয়ে করেন যখন আমার বয়স ছয় বছর। এরপর আমরা মদিনায় আসলাম... তখন আমার বয়স নয় বছর এবং সেই সময় আমার দাম্পত্য জীবন শুরু হয়।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৯৪)
৫. ইমাম নববী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'শারহু সহীহ মুসলিম'-এ লিখেছেন:"রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আয়েশা (রা.)-এর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন যখন তিনি সহবাসের উপযুক্ত বা সক্ষম হয়েছিলেন। নাবালিকা স্ত্রীর সাথে সহবাসের বিষয়টি বয়স দিয়ে নির্ধারিত নয়, বরং এটি তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। যদি সে সহবাস সহ্য করতে পারে, তবেই তা বৈধ; অন্যথায় নয়।"
এখন ২২ নং প্রশ্ন অনুযায়ী আমরা এর উত্তরে লিখব যে,
এ ডানহাতের বন্ধনে বিয়ে, যদি মানুষ ও জিন এর মধ্যে সম্পন্ন হয়, তবে এ মাসআলায় কোন ধরনের ভিন্নতা থাকবে কিনা!? থাকলে সেগুলো কী কী?
জ্বি, মানুষ এবং জিন এর মধ্যে যদি ডান হাতের বন্ধন এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, তবে এ মাসআলায় লিখিত নিয়মকানুনে কিছুটা ভিন্নতা থাকবে!
যেগুলো নিম্নে ক্রমানুসারে উল্লেখ করছি-
১. যেহেতু বর্তমানে জিনদের জন্য মানুষের আদালতে কোন আবেদন পেশ করা কিংবা স্বাভাবিক নিয়মে যে বিয়ে-শাদী হচ্ছে তাতে জিনদের উপস্থিতি এটি স্বাভাবিক নয়!
সাধারণের দৃষ্টিতে এবং স্বাভাবিকভাবে একেবারেই অবাস্তব!
এবং সরকার ও মানুষজন যেহেতু তাদেরকে এখন একসেপ্ট করবে না, তাই জিনদের কেউ যদি পৃথিবীর বর্তমান এই অবস্থায় মানুষের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়, তাহলে তাদের ডান হাতের বন্ধনে বিয়ের যে রেজিস্ট্রেশন বা বিয়ের যে কাবিননামা বা বিয়ের যে প্রমান তা বিয়ে অনুষ্ঠান এর ভিডিও চিত্র এবং যারা এ বিয়ে পড়াবেন, যারা এই আনকমন বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তাদের সকলের লিখিত ও মৌখিক স্বাক্ষরটি এবং ভিডিও চিত্র অনুযায়ী এর প্রমাণপত্র হিসেবে থাকবে!
একইভাবে ডিভোর্স এর ক্ষেত্রে একমাস আগে যে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া হবে সেটি মৌখিকভাবে দিলেই হবে!
এবং এক মাস পর যদি তারা ফাইনালিই সিদ্ধান্ত নেন যে, ডিভোর্স দিবেনই, তবে সে ক্ষেত্রে সেটি মৌখিকভাবে বললেও ডিভোর্স কার্যকর হবে!
তবে প্রমাণপত্র হিসেবে যিনি ডিভোর্স দিবেন, তিনি কারো দ্বারা হলেও তিনি যে ডিভোর্স দিয়েছেন, দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষরসহ, একটি ডিভোর্স লেটার রেডি করে যাকে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে, তাকে এর একটি কপি অবশ্যই প্রদান করতে হবে!
এবং এ ডিভোর্স লেটারটি উভয়কেই সংরক্ষণ করতে হবে!
এবং বাকি নিয়ম মানুষের ক্ষেত্রে যা উপরে লেখা আছে তাই প্রযোজ্য হবে!
বর্তমান অবস্থা ও পরিস্থিতিতে, জিন এবং মানুষের বিয়ের জন্য, সরকারি আদালতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না!
ভবিষ্যতে যদি কখনো সরকার জিন এবং মানুষের বিয়েকে গ্রহণযোগ্য করেন এবং সে ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম কানুন, উভয়পক্ষকে মেনে চলতে হবে!
আর বর্তমানে ডানহাতের বিয়ের যে অনুষ্ঠান বা কাবিননামা বা প্রমাণপত্র তা মানুষ এবং জিন উভয়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও পারস্পরিক সিদ্ধান্তের আলোকে লিখতে হবে!
২. যদি ডান হাতের বন্ধনে বিয়ের মালিক মানুষ হয়, আর তার লাইফ পার্টনার মহিলা জিন হয়, তাহলে তাদের বিয়ের কাবিননামা কেমন হবে, উদাহরণস্বরূপ জিন এবং মানুষের মধ্যে বিয়ের যে কাবিননামা তদ্রুপই হবে!
নিম্নোক্ত লিংকে ক্লিক করে এ ধরনের, এ কাবিননামাটি অনুসরণ করা যেতে পারে-
https://arifstory1.blogspot.com/2026/05/blog-post.html?m=1
৩. আবার বর যদি জিন হয় এবং কনে যদি মানুষ হয় তবে তাদের চুক্তি নামা দলিলের উদাহরণ একই হবে, না কেমন হবে, তা আমরা পরবর্তীতে ইনশা'আল্লাহু তা'আলা এ মাসআলায় উল্লেখ করবো!
--: সমাপ্ত :--
ণন

0 Comments