বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
![]() |
| অত্যাচারিত ও পাগলী মেয়ে |
পোস্টটির প্রকাশকালঃ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্।
"জালেমের নিকট চরম অত্যাচারিত নারী বা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার বন্ধী নারী এবং ভবঘুরে পাগলী বা মানসিক রোগী নারী; দুনিয়াতে যাদের কেহ নাই, আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে আপনার ডানহাতের মালিকানায় নিয়ে স্ত্রীর মতোই তার সারা জীবনের দায়িত্ব নেয়া ও তার সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা জায়েজ"
(ইহা একটি রিভিউ ফতোয়া, তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোনকিছু বাদ না দিয়ে একটানা পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো)
৩। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ
আপাতদৃষ্টিতে আমার অনেকগুলো কর্ম বা ফতোয়া প্রদান আপনাদের কাছে খারাপ মনে হবে বা হতে পারে, তবুও এ কর্মগুলো কেন আমার রব সরাসরি নিষেধ করেননি, বা কী রহস্য লুকিয়ে আছে এতে, এবং কেন করেছেন; এ দু'য়ের মাঝে মানুষের কী উপকারীতা বা কী অপকারীতা রয়েছে; মূলত আমি তা বুঝতে চেষ্টা করছি বা করেছি এবং ভবিষ্যতেও হয়তো এভাবেই আমি বুঝতে চেষ্টা করবো। তাই, আপনাদের অনেকে আমার এ ধরনের কর্ম বা ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি হয়তো নাও বুঝতে পারেন। আমি মনেকরি, আদেশের সাথে সাথে মান্য করা, এটা উচ্চতর ঈমান, কিন্তু এর বিপরীতে ঐ আদেশের কারণ জানা থাকলে বা জানতে চেষ্টা করা, সেটা আরো উচ্চতর ঈমান! এবং আমার মতে, এভাবে আমার ঈমান আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে ইনশা'আল্লাহ!
তাই প্লিজ আমাকে কেউ অসৎ বা আল্লাহবিমুখ বা আল্লাহর দুশমন ভাববেন না! ইনশা'আল্লাহ আসলে আমি আল্লাহর বন্ধু ছাড়া আর কেউ নই!
৪। দৃষ্টি আকর্ষণঃ
'ফতোয়ায়ে আরিফ' কিতাবের মাসআলা হিসেবে এর উপরোক্ত বিষয়ের যে উত্তর নিম্নে লিখা হয়েছে এর মধ্যেকার কোনরূপ সংশোধনী আছে কিনা, এ উদ্দেশ্যে এর ২য় ধাপের অফলাইন মিটিংয়ের এজেন্ডা হিসেবে প্রশ্নটি নির্ধারিত!
৫। মাসআলা নং (চয়ন)-
৩
৬। মাসআলা নং (কিতাব)-
&
৭। পাঠের নামঃ
ভবঘুরে পাগল নারী ও অত্যাচারিত নারী
[দুনিয়াতে যাদের কেহ নাই, এমন চরম অত্যাচারিত বা বন্ধী নারী এবং এরূপ ভবঘুরে পাগল নারীর মাসআলা, পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হলো]
৮। পরিচিত নং-
#.*.১.১.৩.৩.&
৯। প্রশ্ন/মাসআলাঃ
দুনিয়াতে যাদের কেহ নাই, এমন চরম অত্যাচারিত বা বন্ধী নারী এবং এ ধরনের ভবঘুরে পাগল বা মানসিক রোগী নারী; এরূপ নারীকে উদ্ধার করে, তাকে বা তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, শিক্ষা দিয়ে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে দেশীয় বা ইসলামিক আদালতের রায় মোতাবেক পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ডানহাতের মালিকানায় নেয়া ও স্ত্রীর মতোই, তার বা তাদের সারা জীবনের দায়িত্বভার গ্রহণ করা এবং তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা জায়েজ হবে কিনা!?
(দুনিয়াতে যাদের কেহ নাই, এমন চরম অত্যাচারিত বা বন্ধী নারী এবং এরূপ ভবঘুরে পাগল নারীর মাসআলা, পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
১০। উত্তর/সমাধান/রায়/হুকুমঃ
জ্বী, যে বা যারা অত্যাচারিত শিশু ও নারীদেরকে উদ্ধার করবেন, তাদের যদি অন্য কোন দূরভিসন্ধি না থাকে, এবং দেশীয় আদালত কর্তৃক যদি ঐ নির্যাতিত শিশু ও নারীদেরকে এফিডেভিটের মাধ্যমে তার বা তাদের মালিকানা দেয়া হয় এবং একই সাথে যদি ঐ মজলুমা শিশু ও নারীগণ এতে রাজি ও খুশি থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে এটি জায়েজ হবে।
তবে অত্যাচারিত ঐ মজলুমাদেরকে উদ্ধার করতে কখনোই আপসে অথবা অর্থের বিনিময়ে উদ্ধার করা যাবে না। অবশ্যই স্বদেশী আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জালিমদের আস্তানা নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে এবং জালেমদেরকে পাকড়াও করে তবেই মজলুমাদেরকে উদ্ধার করতে হবে! এক্ষেত্রে জালেমদের কাছ থেকে যদি অর্থের বিনিময়ে অথবা ঐ জুলুমের আস্তানাকে পরাভূত না করে বা না করার নিয়তে মজলুমাদেরকে উদ্ধার করা হয় তবে তা কিছুতেই জায়েজ হবে না!
এককথায় ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়, সেভাবে অভিযান চালিয়ে জুলুমের আস্তানা নিঃশেষ করে দিতে হবে, অথবা নিঃশেষ করার নিয়ত থাকতে হবে এবং এভাবেই কেবল অত্যাচারিত শিশু ও নারীদেরকে উদ্ধার করতে হবে! আর এভাবে হলে তাহলেই শুধুমাত্র জায়েজ হবে! নতুবা নয়!
অন্যদিকে কারো যদি শক্তি-সামর্থের অভাবে জালিমদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, কিন্তু সে বা তারা আন্তরিকভাবে জালিমদেরকে ঘৃণা করে এবং যে কোন কৌশলে, তবে বাস্তবিক ভাবে কিছুতেই টাকার বিনিময়ে নয়, এভাবে অত্যাচারিত শিশু ও নারীদেরকে উদ্ধার করে, তবে অন্যান্য বিষয় সমূহ ঠিক থাকলে, তাহলে তার বা তাদের জন্যেও জায়েজ হবে!!
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই শিশু ও নারীদের বয়স 18 বছর পূর্ণ হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের স্টেটমেন্ট এক্সেপ্টেবল নয় বিধায়, তাদেরকে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করা যাবে না!
আবার উদ্ধারকৃত এইসব শিশু ও নারীদেরকে ডান হাতের মালিকানায় পেতে হলে, তাদেরকে উদ্ধারের পর জাতীয় পত্রিকায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করতে হবে এবং এতে যদি তাদের কোনো মালিক বা অভিভাবক যোগাযোগ করে এবং উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারে তবে তাদেরকে তাদের সঠিক ও নায্য অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করতে হবে!
জাতীয় পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরও কেউ যদি তাদের মালিকানা বা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে যোগাযোগ না করে বা তাদের কোনো মালিক বা অভিভাবক খুঁজে পাওয়া না যায়, তখন প্রার্থীত ব্যক্তির জন্য তাদেরকে ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করা জায়েয হবে!
অপরদিকে ডান হাতের মালিকানা বলতে শুধুমাত্র যুদ্ধলব্ধ দাসী এবং ক্রয়কৃত ক্রীতদাসী, এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বিধায়, ভবঘুরে পাগল বা মানসিক রোগী এবং এ ধরনের শিশু ও নারীদেরকে দেশীয় আদালতের রায় ও এফিডেভিট অনুযায়ী যথোপযুক্ত অভিভাবকের নিকট হস্তান্তরের নিয়তে, কোন ধরনের দুরভিসন্ধি না করে, গ্রহণ করার জন্য তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, শিক্ষা এবং জীবন ধারণের আবশ্যকীয় উপকরণ যদি দেয়া হয়, তবে তাদের জন্য ভবঘুরে পাগলী বা মানসিক রোগীদেরকে, যাদের দুনিয়াতে কেউ নেই, এবং যাদের ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, ও যারা তাদের মালিকের প্রতি রাজি-খুশি রয়েছে, তাদেরকে ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করা জায়েজ হবে!!
পবিত্র কুরআনের সূরা নিসা এর ২৪ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েজ!
এ ডান হাতের ব্যাখ্যায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৩'টি উৎসের কথা ব্যক্ত করে গেছেন।
১। যুদ্ধ লব্ধ দাসী ২! ক্রয়কৃত দাসী ৩। দানকৃত দাসী
কিন্তু ডান হাতের মালিকানা, এই ৩টি উৎসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা, এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশনা দেন নাই, বা এ বিষয়ে কোনরূপ নিষেধাজ্ঞামূলক কিছুই বলে যাননাই! বা নিষেধ করেন নাই!
সুতরাং, এই ধরনের অন্য কোন অসহায় নারীকে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ডানহাতের মালিকানায় শামিল করা যাবে না, এ ধরনের ফতুয়ার কোন ভিত্তি নাই!
মানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যদি প্রয়োজন পড়ে তবে এই ধরনের অসহায় নারীদেরকে উপরোক্ত ৩'টি উৎসের সাথে একই বিবেচনায় শামিল করা যাবে!
তাহলে কথা হচ্ছে এ ক্যাটাগরিতে আর কাদের শামিল করা যাবে এবং কে শামিল করবে!
আসুন, উপরোক্ত প্রশ্নে যে ২টি ক্যাটাগরির কথা উল্লেখ রয়েছে প্রথমে এগুলোকে কে শামিল করবে ও শামিল করা যাবে কিনা সে বিচার করি!
এবং বিবেচনা করি এ ২টি ক্যাটাগরি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ডানহাতের ব্যাখ্যায়, তিনি যে উদাহরণ দিয়েছেন, তার সমতুল্য বা সমমানের কিনা!! বা এর আওতায় শামিল করা যাবে কিনা!!
আমরা এখন সেই বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ করি!
উপরের প্রশ্নে একটি ক্যাটাগরি হলো কোন জালেম কর্তৃক নিরীহ অসহায় শিশু ও নারীদেরকে যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট দিয়ে বা নিপীড়ন নির্যাতন করে অথবা বন্দি করে তাদেরকে দিয়ে যে কোনো অমানবিক কাজ করতে বাধ্য করা! যেমন পতিতালয়ে বা আবাসিক হোটেলে বা কোন আবদ্ধ ঘরে যৌন কর্মে বাধ্য করা অথবা কোকোফার্ম বা ব্ল্যাক চকোলেট ইন্ডাস্ট্রি বা এ ধরনের যে কোন ফার্মে অমানবিক নির্যাতন করা, অথবা কাউকে বিকলাঙ্গ করে বা অন্য যেকোনো অপকৌশলে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা!
আবার উপরোক্ত প্রশ্নে একটা কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে বলা রয়েছে, দুনিয়াতে যাদের কেহ নাই!
মানে মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী-সন্তান অথবা তাদেরকে রিসিভ করার মত বা তাদের বিষয়ে দায়িত্ব নেয়ার মত কেউ নেই!
এখন বিচার করব এ ক্যাটাগরিটি যুদ্ধলব্ধ দাসি অথবা ক্রয় ক্রীতদাসীর সমতুল্য কিনা!
প্রাথমিক বিবেচনায় আমরা এটিকে যুদ্ধলব্ধ দাসীর সাথে তুলনা করছি!
যুদ্ধলব্ধ দাসীকে পেতে যেমন ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়, ঠিক তেমনি জালিমের কাছে বন্দী এ চরম অত্যাচারিত নারীকে পেতে, এখানেও ঐ জালেমদের সাথে একটা যুদ্ধ বা জেহাদ পরিচালনা করতে হয়! আবার ইসলামের শত্রুদেরকে পরাজিত করার পর এ নারীরা যেমন অসহায় হয়ে যায় এবং তাদের যেমন অভিভাবক প্রয়োজন হয়; ঠিক তেমনি এ জালেমদেরকেও পরাস্ত করার পর তাদের দ্বারা অত্যাচারিত বা এ মজলুম নারী বা নারীগণও তখন অসহায় হয়ে পড়ে এবং তাদেরও তখন অভিভাবক প্রয়োজন হয়!
এ উভয় বিবেচনায় উপরোক্ত প্রশ্নে উল্লেখিত এ ক্যাটাগরির নারীদেরকে আমি যুদ্ধলব্ধ নারীদের সমমানের বিবেচনা করছি!
আমি সবাইকে একটি বিষয় চিন্তা করতে বলব, জালিমের অত্যাচারে কিছু নারী আর্তনাদ করবে যে, আমাদেরকে বাঁচাও, আল্লাহ্ আমাদেরকে বাঁচাও, আর তাদেরকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে যাবে না বা বাঁচাবার কোন পথ থাকবে না এটাতো কাম্য নয়!
এখন কথা হলো, কেউ একজন বা একদল সৎ লোক জালিমদেরকে পরাস্ত করে অসহায় এ নারীদেরকে উদ্ধার করলো, কিন্তু এরপর উদ্ধারকৃত এ নারীদেরকে, যাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-সন্তান, কেউ নেই বা থাকলেও পরিস্থিতির শিকার হতে হতে তাদেরকে আজ অস্বীকার করে; তার মানে, দুনিয়াতে এখন তাদেরকে রিসিভ করার মতো, বা তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করার মতো কেউ নেই!
এমতাবস্থায় পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডানহাতের মালিকানায় কোন ধনাঢ্য ভালো মানুষকে তার আবেদন ও দেশীয় আদালতের রায় অনুযায়ী তাদেরকে প্রদান করা যেতে পারে!
হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক দেখানো যুদ্ধলব্ধ দাসীর সাথে এ ক্যাটাগরিটি মিলে যাওয়ায় এ মজলুম অসহায় শিশু, নারী বা নারীদেরকে পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডানহাতের মালিকানায় দেশীয় আদালতের রায় অনুযায়ী যে কোনো সক্ষম ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারবে এবং যা সম্পূর্ণ জায়েজ হবে!
দেখেন, এখন যদি আপনারা এ মাসআলাকে নাজায়েজ বলেন, তাহলে এই অসহায় নারীদেরকে, তাদের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে কাকে দিতে চান!? আর যদি শুধু নাজায়েজ বলতে থাকেন, তাহলে তাদেরকে উদ্ধার করতেইবা কে আসবে বলেন!?
যুগে যুগে দেশে দেশে অনেক অনেক ধনী লোক ছিল; কিন্তু এই ধরনের কোন ফতোয়া না থাকায়, অত্যাচারিত এইসব শিশু ও নারীকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসার কোন সুযোগ বা আইনগত কোনো ওয়ে বা ভিত্তি পায়নি!
ফলে মজলুমাকে হয়তো তার মৃত্যু পর্যন্ত অত্যাচার সয়ে যেতে হয়েছে! এবং এভাবেই হয়তো তার মৃত্যু হয়েছে!
আমি জানি, এখন আপনাদের একদল মানুষ আমার বিরোধিতা করে হয়তো বলবেন, তাহলেতো সন্ত্রাসীরা এবং জালেমেরা আরো বেশি করে শিশু ও নারীদের উপর অত্যাচার করবে এবং তাদেরকে মজলুম বানাবে!
কারণ তারা এদেরকে বিক্রি করলে অর্থ ইনকাম করতে পারবে!
আসলে অর্থের বিনিময়ে বা আপোষে কেউ যদি কোন মজলুমাকে গ্রহণ করতে চায়, তবে তা যে জায়েজ হবে না, এ কথা ফতোয়ার শুরুতেই বলা আছে! তাই আপনাদের এই ধরনের যুক্তি এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না!
এখন আসুন প্রশ্নোক্ত দ্বিতীয় ক্যাটাগরির বিষয়ে! এখানে একটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে যে, এ ক্যাটাগরিটি জায়েয হওয়ার জন্য, যুদ্ধলব্ধ দাসী কিংবা ক্রয় ক্রীত দাসীদের সাথে হুবহু মিলতে হবে এমন কোন কথা নেই!
এগুলোর মূল উদ্দেশ্যের সাথে মিললেই জায়েজ হবে!
পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ডানহাতের মালিকানা বলতে শুধু এ ৩ ক্যাটাগরিকে বুঝায় না! যা উপরে ব্যক্ত করেছি!
এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোন অসহায় শিশু ও নারীর জীবনের দায়ভার গ্রহণ করার জন্য কেউ না থাকা! বা যে কোন কারণেই হোক না কেন, কোন আপনজন না থাকা! আর এ ধরনের শিশু ও নারীদেরকে দেশীয় বা ইসলামিক আদালতের রায় অনুযায়ী, যথোপযুক্ত, ধনাঢ্য ও কোন ভাল মানুষের মালিকানায় হস্তান্তর করার মানেই হচ্ছে,পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ডানহাতের মালিকানা!
তবে প্রথমে এ ধরনের কোনো শিশু বা নারীকে যে নিয়তে গ্রহণ করবেন বা করতে চাইবেন, পরবর্তীকালে তাকে গ্রহণ করার পর তিনি তার পূর্বোক্ত নিয়ত আর কখনো পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং তখন যদি তিনি চান যে আমি এনেছিলাম লালন পালন করব শুধু ইয়াতিম হিসেবে বা অসহায় হিসাবে, কিন্তু এখন আমি তাকে ডানহাতের মালিকানায় নিয়ে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করতে চাইবো; সেটা কখনো জায়েজ হবে না!! এ বিষয়টি উপরের প্রশ্নোক্ত দুটি ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে!
সুতরাং ভবঘুরে মানসিক রোগী বা পাগলি মেয়ের কোন আপনজন বা কোনো পরিচয় এবং ঠিকানা নাই বিধায়, উপরে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী এবং জাতীয় পত্রিকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর কেউ যদি তাদের মালিকানা বা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে কেউ যোগাযোগ না করে বা তাদের কোনো মালিক বা অভিভাবক খুঁজে পাওয়া না যায়, তখন প্রার্থীত ব্যক্তির জন্য তাদেরকে ডানহাতের মালিকানায় গ্রহণ করা জায়েয হবে!
--: সমাপ্ত :--
ণন

0 Comments