বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
![]() |
| group sex |
পোস্টটির প্রকাশকালঃ ৭ আগস্ট ২০২৬
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!
একাধিক স্ত্রী এবং ডানহাতের মালিকানায় অধিকার প্রাপ্ত একাধিক নারীর সংঙ্গে, সকলেই সম্পূর্ণ উলঙ্গ ভাবে, মানে আনলিমিটেড নারীর সাথে তাদের মালিকের গ্রুপ সেক্স জায়েজ
(ইহা একটি রিভিউ ফতোয়া, তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোনকিছু বাদ না দিয়ে একটানা পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো)
২। বিশেষ বুলেটিনঃ
লজ্জ্যা নয়, জানতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সের ছেলে-মেয়েদেরকে বা অবিবাহিতদেরকে এ মাসআলাটি না পড়ার জন্য এবং কোন ধরনের কমেন্টস না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
৩। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ
আপাতদৃষ্টিতে আমার অনেকগুলো কর্ম বা ফতোয়া প্রদান আপনাদের কাছে খারাপ মনে হবে বা হতে পারে, তবুও এ কর্মগুলো কেন আমার রব সরাসরি নিষেধ করেননি, বা কী রহস্য লুকিয়ে আছে এতে, এবং কেন করেছেন; এ দু'য়ের মাঝে মানুষের কী উপকারীতা বা কী অপকারীতা রয়েছে; মূলত আমি তা বুঝতে চেষ্টা করছি বা করেছি এবং ভবিষ্যতেও হয়তো এভাবেই আমি বুঝতে চেষ্টা করবো। তাই, আপনাদের অনেকে আমার এ ধরনের কর্ম বা ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি হয়তো নাও বুঝতে পারেন। আমি মনেকরি, আদেশের সাথে সাথে মান্য করা, এটা উচ্চতর ঈমান, কিন্তু এর বিপরীতে ঐ আদেশের কারণ জানা থাকলে বা জানতে চেষ্টা করা, সেটা আরো উচ্চতর ঈমান! এবং আমার মতে, এভাবে আমার ঈমান আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে ইনশা'আল্লাহ!
তাই প্লিজ আমাকে কেউ অসৎ বা আল্লাহবিমুখ বা আল্লাহর দুশমন ভাববেন না! ইনশা'আল্লাহ আসলে আমি আল্লাহর বন্ধু ছাড়া আর কেউ নই!
৪। দৃষ্টি আকর্ষণঃ
'ফতোয়ায়ে আরিফ' কিতাবের মাসআলা হিসেবে এর উপরোক্ত বিষয়ের যে উত্তর নিম্নে লিখা হয়েছে এর মধ্যেকার কোনরূপ সংশোধনী আছে কিনা, এ উদ্দেশ্যে এর ২য় ধাপের অফলাইন মিটিংয়ের এজেন্ডা হিসেবে প্রশ্নটি নির্ধারিত!
৫। মাসআলা নং (চয়ন)-
২
৬। মাসআলা নং (কিতাব)-
&
৭। পাঠের নামঃ
বিয়ে-সাদী/সহবাস
[বৈধ স্ত্রী ও আনলিমিটেড বৈধ নারীর সংঙ্গে গ্রুপ সেক্স জায়েজ, পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হলো]
৮। পরিচিত নং-
#.*.১.১.৩.২.&
৯। প্রশ্ন/মাসআলাঃ
একাধিক স্ত্রী বা ডানহাতের মালিকানায় অধিকার প্রাপ্ত একাধিক বা আনলিমিটেড নারীর সাথে গ্রুপ সেক্স জায়েজ কিনা!?
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
১০। উত্তর/সমাধান/রায়/হুকুমঃ
জ্বী, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি জায়েজ।
একই সময়, একই সাথে, একই বিছানায় ৪ জন অথবা ৩ জন অথবা ২ জন স্ত্রীর সাথে অথবা ডানহাতের মালিকানায় অধিকার প্রাপ্ত আনলিমিটেড নারীর সাথে শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে বা হাসিতে হাসিতে বা খেলিতে খেলিতে বা কারো শারীরিক-মানসিক কোন ক্ষতি হবে না এমন ভাবে এবং এ ধরনের যে কোন সেক্স পজিশনে, স্ত্রীর বা বৈধ নারীর সামনে দিয়ে অথবা পিছন দিয়ে, তবে শুধু যোনী পথে অথবা জায়েজ গান গাইতে গাইতে বা জায়েজ গান শুনিতে শুনিতে অথবা রসাত্মক কথা বা কৌতুক করিতে করিতে এবং ইনারা সবাই সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে সহবাস করা জায়েজ হবে। শরীয়তে এতে কোন বাধা নেই। সহবাসের সময় স্বামী উপস্থিত থাকা কালীন স্ত্রীদের সকলেই সকলের অথবা মালিক উপস্থিত থাকা কালীন সকল বৈধ নারী, সকল বৈধ নারীর সর্বাঙ্গ নগ্নাবস্থায় দেখতে পারে।
এতে স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতিও নেই। ‘স্বামী স্ত্রীর বা বৈধ নারীদের একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখতে নেই, বা দেখিলে চোখের জ্ব্যতি কমে যায় বা আয়ু কমে যায় বা হযরত আয়েশা (রাঃ) তাঁরা কখনও তাঁদের পরষ্পর গুপ্তাঙ্গ দেখেননি, উলঙ্গ হয়ে গাধার মত সহবাস করো না, বা উলঙ্গ হয়ে সহবাস করলে সন্তান অন্ধ হবে। সঙ্গমের সময় কথা বললে সন্তান তোৎলা বা বোবা হয়’ ইত্যাদি বলে যে সব হাদীস বা মতাদর্শ বর্ণনা করা হয়, তার একটিও সহীহ ও শুদ্ধ নয়। (দেখুন, তুহফাতুল আরুশ ১১৮ – ১১৯ পৃঃ)। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর বা বৈধ নারীদের সম্পূর্ণ উলঙ্গ গ্রুপ সেক্স, শুধুমাত্র যখন মালিকের সহবাস করার সময়, যখন তিনি উপস্থিত থাকেন তখন, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি জায়েজ। তবে স্বামী-স্ত্রীর মাঝেও অথবা মালিক ও বৈধ নারীর ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনে দেখলে বা সেক্স্যুয়াল সময় ব্যতীত অন্য সময়ে উলঙ্গ থাকলে এর একটি ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া হায়েজ-নেফাস অবস্থায় সহবাস করা হারাম। এবং স্ত্রীর মলদ্বারে সহবাস করা (এবং মলদ্বারে আঙুল ঢোকানোও) হারাম আবার স্বামী যখন স্ব-শরীরে উপস্থিত থাকবে না, তখন বাস্তবে কিংবা মোবাইল বা প্রজেক্টর বা এ ধরনের কোন কিছু দেখিতে দেখিতে হোক বা না হোক বা দূর থেকে এভাবে স্বামীর সাথে অডিও বা ভিডিও লাইভে দেখিতে দেখিতে বা কথা বলিতে বলিতে হোক বা না হোক বা যে কোন অবস্থাতেই হোক, তখন একজন স্ত্রী, তার সতীন বোন অন্য যে কোন স্ত্রীকে তার সতর দেখানো, বা মালিকের একজন বৈধ নারী, অন্য নারীকে তাদের পারষ্পরিক সতর দেখানো, ইহা অবশ্যই কবীরা গুনাহ ও নাজায়েজ হবে। তখন অন্য মহিলাদের সাথে, যে রূপ সতর মান্য করা তার উপর ফরজ ছিলো, নিজেদের মানে প্রত্যেক সতিন বোনের ক্ষেত্রেও ঠিক সেরূপই বর্তাবে।
আবার সর্বাবস্থায় কোন স্ত্রীকে বা বৈধ নারীকে, অন্যকোন রুমে বা বাড়িতে থাকার সু-ব্যবস্থা করে দিয়ে এবং তাদের কাউকে পারষ্পরিক সতর দেখার সুযোগ না দিয়ে শুধু ১ জন স্ত্রীর সাথে বা বৈধ নারীর সাথে ঘুম যাওয়া বা সহবাস করা অথবা সুন্নাতি সহবাস করা, সেটি আরো উত্তম হবে।
কিন্তু একটি জায়েজ কাজকে (এবং ক্ষেত্র বিশেষে সুন্নাতি সিস্টেমকে খাটো মনে না করলে, তাহলে এটিও, মানে উপরে বর্ণিত ২/৩/৪ স্ত্রীর সাথে বা বৈধ নারীদের সাথে একসাথে সহবাস করা, কারো কারোর জন্য অতি উত্তম হতে পারে), নাজায়েজ মনে করা বা নাজায়েজ মনে করে আমল করা বা যে বা যারা এভাবে আমল করে তাদেরকে ঘৃণা করা বা খাটো মনে করা বা পাপী মনে করা, সেটি একেবারেই নিকৃষ্টতম কাজ।
আর বর্তমানকার এ ফতোয়ার বিষয়ে কেউ যদি, স্ব-জ্ঞানে বুঝে-শুনে ২/৩/৪ স্ত্রীর সাথে বা আনলিমিটেড বৈধ নারীর সাথে একসাথে উপরে বর্ণিত ভাবে সহবাস করাকে নাজায়েজ মনে করে, তাহলে ঐ ব্যক্তি বা ব্যক্তি গণের অবশ্যই একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বা একটি কবীরা গুনাহ বা ওয়াজিব তরকের গুনাহ বা মাকরুহে তাহরীমী পর্যায়ের গুনাহগার হতে হবে তাদেরকে।
যা তাওবা ব্যতিত কখনোই মাফ হবে না।
উক্ত রায়ের পক্ষে নিম্নোক্ত বিচার-বিশ্লেষণ অনুযায়ী আলেমগণ এতোদিন সতর দেখে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে স্বামী ও একাধিক স্ত্রীর বা বৈধ নারীদের গ্রুপসেক্স ও সহবাসকালীন এক সতীনবোন, আরেক সতীনবোনের সতর দেখে যাওয়া যে নাজায়েজ বলতেছিলেন, তা ভূল বলে প্রমাণিত হলো।
[সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর বা বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে]
১১। বিস্তারিত আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ বা রায়ের পক্ষে যুক্তি সমূহঃ
উপর্যুক্ত এ মাসআলাটি বুঝার জন্য প্রথমে আমরা কুরআন ও হাদীসে এর স্বপক্ষে কী রয়েছে বা আল্লাহু তা'য়ালা এ বিষয়ে কী বলেছেন তা দেখি।
এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে কারীমের ৬টি আয়াত নিম্নে পেশ করছি-
১। ২ : ২২৩ نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُواْ حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْۖ
২। ২ : ১৮৭ أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمْۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّۗ
৩। ৪ : ৩ وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُواْ فِى ٱلْيَتَـٰمَىٰ فَٱنكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثْنَىٰ وَثُلَـٰثَ وَرُبَـٰعَۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُواْ فَوَٲحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْۚ ذَٲلِكَ أَدْنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُواْ
৪। ৪ : ২৪ ۞ وَٱلْمُحْصَنَـٰتُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُكُمْۖ كِتَـٰبَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَآءَ ذَٲلِكُمْ أَن تَبْتَغُواْ بِأَمْوَٲلِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَـٰفِحِينَۚ فَمَا ٱسْتَمْتَعْتُم بِهِۦ مِنْهُنَّ فَـَٔـاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةًۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَٲضَيْتُم بِهِۦ مِنۢ بَعْدِ ٱلْفَرِيضَةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
৫। وَالَّذِيۡنَ هُمۡ لِفُرُوۡجِهِمۡ حٰفِظُوۡنَۙ ٥
اِلَّا عَلٰٓى اَزۡوَاجِهِمۡ اَوۡ مَا مَلَـكَتۡ اَيۡمَانُهُمۡ فَاِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُوۡمِيۡنَۚ ٦
(সূরা মুমিনুন আয়াত ৫ ও ৬)
উপরে উল্লেখিত ১ নং আয়াতে মহান আল্লাহু তা'য়ালা বলছেন যে, "তোমাদের স্ত্রী গণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র"।
এ আয়াতে কারীমায় মহান রব স্ত্রীগণ বলে উল্লেখ করেছেন। মানে এখানে স্ত্রী একজন নয় বা এখানে স্ত্রী একাধিক হতে পারে এ রকম।
উপরের ৩ নং আয়াত অনুযায়ী একজন পূরুষ, সর্বোচ্চ ৪টি বিয়ে করতে পারে (সক্ষমতা/অক্ষমতার বিষয়ে পরে অন্য মাসআলাতে বর্ণনা করা হবে)।
তাই ধরুন এখানে চারজন স্ত্রী। আর এই চারজন স্ত্রীকেই মহান রব শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন। যেহেতু স্ত্রীগণ বলেছেন।
[সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর ও বৈধ আনলিমিটেড নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে]
আপনারাই বলেন, শস্যক্ষেতে শস্য সমূহ, একটি অপরটি থেকে দূরে দূরে থাকে (?), না নিকটে থাকে? নিকটেই থাকে, তাই না? তাহলে স্ত্রীগণও যেহেতু শস্যক্ষেত্র, তবে তারা কেন একজন, একজনের সাথে থাকতে পারবে না? আপনি না হয়, তাদেরকে বেশি সম্মানি করে হোক বা সুন্নাতে আমল করতে গিয়ে হোক বা তাদের পারস্পরিক হিংসা বা স্বার্থবাদিতার কারণে হোক অথবা আপনি নিজে তাদের প্রতি ন্যায় বিচার ও হক প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না এ ভয়ে হোক বা আপনার যে কোন যোগ্যতা বা অযোগ্যতার কারণেই হোক না কেন, আপনি হয়তো তাদেরকে আলাদা বাড়ি বা রুম করে সেখানে রেখেছেন।
কিন্তু, যেহেতু আল্লাহু তা'য়ালা সকল স্ত্রীকেই শস্যক্ষেত্র বলে উল্লেখ করেছেন, আর শস্যক্ষেত্রে যদি শস্য একটি একটির সাথে মিশে থাকে, তাহলে স্ত্রী গণ কেন একজন, একজনের সাথে থাকতে পারবে না, এটি কেন?
আবার উপরের ৪ ও ৫ নং আয়াতে যাদের ডানহাত, কোন নারীর বা অসংখ্য নারীর মালিক হয়েছে, তাদের সকলের সাথে ঐ মালিকের যৌন মিলনকে বৈধ করা হয়েছে!
আয়াতের পরিভাষা অনুযায়ী এখানে একজন মালিক ঠিক কতজন অসহায় নারীর মালিক হতে পারবে, তার কোন সীমারেখা নির্দিষ্ট করা হয়নি!
তার মানে কোন মালিক স্বদেশী বা ইসলামি আদালতের রায় মোতাবেক এবং তার অর্থ, শক্তি, সামর্থ ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী আনলিমিটেড অসহায় নারীর মালিক হতে পারবে; এতে কোন বাধা নেই!
তাহলে কথার কথা ধরুন একজন মালিক তার অর্থ আছে, এবং আদালতের রায় অনুযায়ী সে ১০০০ নারীর ডানহাতের মালিকানা পেয়েছে!
এখন যেহেতু এ ১০০০ নারীর যৌনমিলন, মানে তার মাতৃত্ব, যৌনক্ষুদা, এসব শুধুমাত্র তাদের মালিকের সাথেই বৈধ; তাহলে এ ১০০০ নারী তাদের জীবনের প্রয়োজনে যৌনমিলন করতে কার কাছে যাবে?
এ অবস্থায় একজন মালিক যদি সামর্থবান হয়, তাহলে তাকে গ্রুপসেক্স না করে, তার জন্য বিকল্প কোন পথ খোলা নেই!
আমি হয়তো এখানে ফতোয়া বোঝানোর স্বার্থে নারীদের সংখ্যা একটু বেশি বসিয়ে ফেলেছি! কারণ এ মাসআলা শুধু মানুষদের জন্য নয়, এটি জিনদের জন্যেও! যেহেতু জিনদের শক্তি-সামর্থ কী, তাতো আর আমরা জানিনা! অতএব অবস্থা মতে বিষয়টা বিবেচ্য হবে!
এখানে সবাইকে ভালোকরে মনে রাখতে হবে, শরীয়তের কোন আইন বা মাসআলা জ্ঞান-বিজ্ঞান বা মানুষের শক্তি-সামর্থ বা মানুষের উর্বর মস্তিষ্কককে ভিত্তি করে করার কোন অনুমোদন কোরআন-হাদীস থেকে নাই!
সুতরাং, স্বামী বা মালিকদের সথে বৈধ নারীদের গ্রুপসেক্স নাজায়েজ বা হারাম, এ মাসআলা পবিত্র কোরআন হাদীস থেকে দেয়ার কোন সুযোগ নাই!
এছাড়া দেখুন, জায়েজ এক কথা, আর উত্তম জায়েজ আরেক কথা।
আপনি উত্তম জায়েজে আমল করতে করতে, জায়েজকেই এখন নাজায়েজ বলবেন, এটাতো হতে পারে না।
আবার কারো কারো জন্য আপনি বা আমরা যেটিকে নিকটতম ২য় জায়েজ মনে করছি, সেটিই তার বা তাদের নিকট উত্তম জায়েজ হতে পারে।
একটু চিন্তা করুন, যদি স্ত্রীগণ একজন একজনের সাথেই না থাকতে পারে(?), তাহলে তাদেরকে শস্যক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার মানে কি? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ উপমা, উদাহরণ দিতেও কখনো বা কোন আয়াতেই অযুক্তিক বা অসত্য উপমা দেননি।
যদি তাই হয়, তাহলে আল্লাহ কেন তাদেরকে শস্যক্ষেত্র বললেন? স্ত্রীদের ক্ষেত্রে বহুবচন ব্যবহার করা এবং তাদেরকে শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করার অর্থ কী? যেখানে শস্যক্ষেত্রের শস্য কখনোই আলাদা আলাদা বা দূরে দূরে থাকেনা।
এখানে আপনারা অনেকে স্ত্রীদের মধ্যে পরষ্পর পরষ্পরের সাথে সতর দেখানোর বিষয়টিকে নাজায়েজ মনে করে, তাদেরকে তাদের এ ন্যায্য হককে অস্বীকার করেছেন বা বাধা দিয়ে রেখেছেন বা হরণ করে রেখেছেন। আর এ জন্যে আপনারা স্ত্রীদের সাথে একসাথে সহবাস করাকে নাজায়েজ বলে ফতোয়া দিচ্ছেন।
এক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষ করতে হবে, তারা পরষ্পর পরষ্পরের সাথে কী সম্পর্কে রয়েছে? উপরোক্ত ২ নং আয়াতে কারীমায় আল্লাহু তা'য়ালা বলছেন, "তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোষাক"
এ আয়াতে আল্লাহু তা'য়ালা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে এভাবে বলেননাই যে, সে তোমার বা সে তোমাদের পোশাক। এখানে তারা, মানে স্ত্রীর বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে।
তাহলে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে, একজন পূরুষের যে কয়জন স্ত্রী থাকে, তাদের সবাই তার জন্য পোষাক। এবং সে নিজেও তাদের জন্য পোষাক। আবার সবাই যদি একজন স্বামীর পোষাক হয়, তাহলে এখানে স্ত্রীদের কারো নিকট কাপড়ের পোষাক থাকবে না বা না থাকাই স্ত্রীদের বৈশিষ্ট্য হবে; আলোচ্য আয়াতেতো এ রকমই বুঝাচ্ছে তাই না? যেহেতু স্ত্রীদের বলা হয়েছে, স্ত্রীর পোষাক বলা হয়নি।
আর যদি সকল স্ত্রী পোষাকই হয়, তাহলে তারাতো একটি দেহের মতোই হবে। তাহলে স্বামী যতক্ষণ সামনে থাকবে, ততক্ষণতো তারা পরষ্পর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারবে না বা এ সময় চোখ বন্ধ করে রাখার সময়ও না। ফলে সতর দেখতে হবে তাদেরকে এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তখন দেখাটা প্রয়োজনীয়ও হবে। তাই আলোচ্য আয়াতে কারিমা দ্বারা স্বামীর বা মালিকের সামনে প্রত্যেক সতীন বোনগণ বা বৈধ নারীগণ পরষ্পর পরষ্পরের সতর দেখতে পারবেন বলেই প্রমাণিত।
হয়তো বিষয়টি আমাদের অনেকের বুঝে আসেনা এ জন্যে যে, আমাদের নিকট চার বিয়ের বা মালিকদের বৈধ নারীর মালিক হওয়ার প্রচলন পূর্বেও যেমন ছিলো না, এখনও নেই।
যদিও কেউ কেউ, কোথাও কোথাও ২/৩/৪ বিয়ে করছেন, তাতেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে বহু বিবাহ করেছেন, তাদের বেশির ভাগই সে রকম কোন উদ্দেশ্য-আদর্শ নিয়ে বহু বিবাহ করছেন বলে আমার মনে হয় না।
আবার আমাদের অনেকে ভিতরে ভিতরে এটিকে শরিয়তের অন্যায় সিদ্ধান্ত বলেও মনে করছেন (চোরের হাত কাটা, যেনার মৃত্যুদন্ড, সুদ নিষিদ্ধ, পর্দা ফরজ এগুলোও আমাদের মাথায় ঠিক মতো ধরে না)।
আপনার যদি বিশ্বাস না'ই হয়, তাহলে বেশি দূরে নয়, অন্তত আপনার ধার্মিক বউটাকে বইলেন যে, আপনি আরেক বিয়ে করবেন; তখন দেইখেন, উনি যদি আপনার এ বিয়ে বন্ধ করতে আপনাকে পতিতালয়ে যাওয়ার পরামর্শ না দেয়, তখন আমাকে বইলেন। অবশ্য সবাই এ রকম হবে, এ কথা আমি বলছি না। তবে বেশির ভাগই হয়তো এ রকম, এ কথা বলছি।
আপনি কি লক্ষ করেননি(?), গুগলে এ রকম গ্রুপ সেক্স এর অনেকগুলো ভিড়িও রয়েছে? আপনার ছেলে, আমার ছেলে এ রকম আমল করছে বিধায়তো গুগল এগুলো আপলোড় করে রেখেছে। এবং এগুলো প্রচুর ভিউ হচ্ছে।
বলুন তাহলে, আমাদের যুবসমাজ এ রকম রিলাক্স্যাবল আমল করছে (?), না করছে না? অথবা করছে কিনা?
অথচ আলকোরআন এ বিষয়টিকে অনুমতি দিয়েছে; আর আপনারা সেটিকে নাজায়েজ ফতোয়া দিয়ে আমাদের যুব সমাজকে পাপে নিমজ্জিত হতে বাধ্য করছেন?
আমি যদি এভাবে বলি, সুদ থেকে বেঁচে থাকার বিকল্প কিছু রাখেননাই বিধায়, মানুষ আজ সুদ খাচ্ছে; পাপ থেকে বেঁচে থাকার কোন বিকল্প ওয়ে দেননাই বিধায়, মানুষ পাপ করছে। তাহলে আমার কি খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে?
মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি। তাহলে মানুষের সহজ জীবন ধারনের ওয়ে, আল্লাহকে সহজে পাওয়ার ওয়ে কে করবে বলেন?
অপরদিকে কোরআন অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী যখন পরষ্পর পরষ্পরের পোষাক, তাহলে এখানে কাপড়ের অন্য আর কোন পোষাক আবশ্যক নয়। আপনি যদি নিজ থেকে বাড়তি সম্মানার্থে কাপড়ের পোষাক ব্যবহার করেন, তবে সেটি আরো উত্তম; যেহেতু সুন্নাত।
এছাড়া, ৪ জন স্ত্রীর সাথে একসাথে সহবাস করাকে নাজায়েজ বলতে বলতে তা এমন ভাবে মাথায় বসে গেছে যে, এটা যে জায়েজ, যার উপর গবেষণা করার, চিন্তা করার, বিশ্বাস করার স্টোরেজও মাথায় হয়তো আর নেই। তারউপর এটি লজ্জার বিষয়। যার জন্যেও এ বিষয়ে হয়তো মানুষের ভূল মাসআলার প্রচলন ছিলো এবং যে কারণে এ বিষয়টি মানুষের সহজে বোধগম্য হয়তো হয়নি বা হবে না।
তারউপর সুন্নাত হচ্ছে স্ত্রীগণ আলাদা আলাদা থাকবে। আল্লাহ মাফ করুক তাঁরা পরষ্পরের সতর দেখা গিয়েতো দূরে থাক, তাঁরা [রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর স্ত্রীগণ] একসাথে এক বিছানাতে শুধু শুয়েছেন কিনা, যা আমার জানা নাই।
এখন কথা হলো, আমি কেন তাহলে তাঁদের বিপরীত আমলকে জায়েজ বলছি।
দেখুন, যে বিষয়ক সুন্নাত, সেটি আরো উত্তম। কিন্তু মানুষের কোন কর্মে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমল করেন নাই বা যে কোন কারণেই হোক না কেন, আমল করতে পারেন নাই, শুধু এ কারণটি উল্লেখ করে মানুষের অন্য কোন কর্মকে নাজায়েজ বলার কোন ফতোয়া দেয়ার বিধান ইসলামী শরিয়তে নেই।
মানুষের কোন কর্মকে নাজায়েজ বলতে হলে, সংশ্লিষ্ট ঐ কাজের উপর কোরআন অথবা হাদিস হতে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা মূলক বাণী থাকতে হবে।
যেহেতু এ বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই নিজকে নিজে যৌক্তিক তর্ক-বিতর্ক করে বুঝতে পারলাম যে, এটি জায়েজ।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর বা বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
আর তাই বিষয়টি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আমি জানি না আপনাদেরকে আমি বোঝাতে পারবো কিনা। না সবই আমার ফন্ড শ্রম হবে তাও জানি না। না জানি আপনারা আমার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবেন, সে বিষয়েও ভয় করছি।
তবে অনুরোধ করবো, কষ্ট হলেও পুরো মাসআলাটি পড়ে আপনি এর একটি সুচিন্তিত মতামত প্রদান করবেন। যদি আপনার কাছে বিষয়টি জায়েজ মনে হয়, তাহলে সাথে সাথে তা কমেন্টস করুন। কারণ বর্তমানে প্রচলিত একটা নাজায়েজকে জায়েজ করা, এটা আপনাদের পজিটিভ সমর্থন ছাড়া কিছুতেই করা সম্ভব হবে না। এবং এতে অশেষ সাওয়াব পাবেন ইনশা'আল্লাহ।
তাছাড়া আপনি কমেন্টস করবেন না কেন(?); আল্লাহ্ কি আমার একার? আমি কি একাই মুসলিম। আপনি কি মুসলিম না? আর যদি আপনি মুসলিমই হয়ে থাকেন, তাহলে প্লিজ পুরো প্রবন্ধটি (মাসআলাটি) পড়ুন ও আপনার বিজ্ঞ মতামত প্রদান করুন।
চলুন কথা না বাড়িয়ে মাসআলার এ প্রবন্ধটি পড়তে থাকি।
ভায়েরা, সকলের জানা থাকা উচিত, সুন্নাত কখনো কোন ফরজ বা ওয়াজিবকে রহিত বা বিলোপ সাধন করতে পারেনা; যদি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন ধরনের বিপরীত আমল করতে না বলেন বা বিপরীতধর্মী কোন আয়াত নাজিল না হয়।
চার স্ত্রীর সাথে বা বৈধ নারী সকলের সাথে, একসাথে সহবাস করা যাবে না, এ ধরনের আয়াত বা হাদীস, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর ইন্তেকাল পর্যন্তও আমরা দেখতে পাইনা।
আবার স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কাপড়ের আর কোন পোষাক অনাবশ্যক হিসেবে কোরআন আপনাকে অনুমতি দিয়েছে।
বুঝতে চেষ্টা করুন, যদি স্ত্রী গণ (মানে একাধীক) স্বামীর শস্যক্ষেত্র হয় এবং সকল স্ত্রীই যদি স্বামীর পোষাক হয়, আর স্বামীর বিছানাটিই যদি হয় তার শস্যক্ষেত; তবে প্রত্যেক স্ত্রীই হবে এর শস্য।
তাহলে স্বামীর প্রত্যেকটি শস্য (প্লিজ কেউ মাইন্ড করবেন না; বুঝানোর স্বার্থে এভাবে ভেঙ্গে-চুরে বলছি) তার শস্যক্ষেতে থাকবে, বা থাকতে পারবে এটিতো স্বাভাবিক। এবং শস্যদেরও এটি অধিকার!
যেহেতু কোরআন-হাদীসের কোথাও এ বিষয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই যে, স্ত্রীদের সকলের সাথে একই বিছানায় একসাথে সহবাস করা যাবে না। তাই এ নিষেধাজ্ঞা না থাকাটাই এটি জায়েজ হওয়ার একটি যুক্তি বা কোরআন-হাদিসের বড় দলিল বা শরীয়তেরই একটি প্রমাণপত্র। (3)
আবার কিছু শস্য এ বিছানায়, আর কিছু শস্য আরেক বিছানায় থাকা, বা কাউকে অন্য বিছানায় থাকতে বাধ্য করা, এরুপ করাকে আবশ্যিক করার অধীকার ১ম স্ত্রীকে বা অন্য যে কোন স্ত্রীকে আরেক বিছানায় যেতে শক্তি প্রয়োগ করা বা স্বামী কর্তৃক বাধ্য করা, বা কোন বৈধ নারী কর্তৃক আরেক নারীকে বাধ্য করা, পবিত্র কোরআন ও হাদীস থেকে এরুপ করার অধীকার বা হক কাউকে দেয়া হয়নি।
এছাড়া, স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের পোষাক এবং স্ত্রীগণ স্বামীর শস্যক্ষেত্র, এটি একজন স্ত্রীর অল্পক্ষণের অধীকার নয়, (বা বৈধ নারীদের ক্ষেত্রেও) বরং জীবনের যে কোন সময় স্বামীর সাথে তার বিছানায় থাকা, বা স্বামীর জীবন বিছানায় থাকা এটা একজন স্ত্রী, বা একজন বৈধ নারী, তার স্বামীর নিকট বা তার মালিকের নিকট সে দিনে ২৪ ঘন্টা করে, সে সারা জীবনই পাবে।
এখন কথা হলো ২য়, ৩য় বা ৪র্থ বিয়ে করা বা আনলিমিটেড বৈধ নারীর মালিক হওয়ার বিষয় নিয়ে!
২য়/৩য়/৪র্থ বিয়ে করার কারণে ১ম স্ত্রীকে বা অন্য যে কোন স্ত্রীকে, যখন সে নিজে রাজী না থাকে, তখন তার স্বামীর বিছানাতে এক অনুক্ষণের জন্যে হলেও তাকে যেতে না দেয়া বা তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার এ অধিকার ইসলাম কোরআন ও হাদীসের কোথাও স্বামীকে কিংবা তার অন্য কোন স্ত্রীকেও দেয়নি। ফলে ১ম স্ত্রী যদি ঐ বিছানাতে আগ থেকেই থাকে, তাহলে ২য়/৩য়/৪র্থ স্ত্রীও ঐ বিছানাতেই অনু-প্রবেশ করবে। বা করার অধীকার রাখবে! বিষয়টা কি এ রকম নয়?
বৈধ দাসীদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই হুকুম প্রযোজ্য হবে!
সুতরাং স্বাভাবিক ভাবে এবং পরোক্ষ ভাবে ইসলাম একই বিছানায় একাধিক স্ত্রীকে নিয়ে রাত্রী কাটানো বা সহবাস করার বিষয়টি জায়েজ করে রেখেছে।
যেহেতু হাদীস মোতাবেক যখন কোন কিছুতে বা কাউকে নিরব পাওয়া যাবে, তখন হ্যাঁ উত্তরই শরীয়তের বিধান বলে বিবেচ্য হবে।
এ সূত্রেও প্রমাণ করা যায় যে, একই সাথে, একই সময়ে, একই বিছানায় একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাস করা জায়েজ। যেহেতু কোরআন-হাদীসে এ বিষয়ে হ্যাঁ/না কিছুই বলা নাই বা কোন নিষেধাজ্ঞা বা কোন শাস্তির ঘোষণা, কিছুই নেই।
কোন কাজকে গুনাহের বা নাজায়েজ প্রমাণ করতে হলে, আপনাকে আমাকে কোরআন হাদীস হতে ঐ কাজের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক আয়াত বা হাদীস জানা থাকতে হবে; শুধু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করেন নাই বা কোরআন ও হাদীসে ইনডারেক্টলি কিছু একটা রয়েছে, শুধু এর উপর ভিত্তি করে, আপনি সংশ্লিষ্ট ঐ আমলটি হারাম বলতে পারেন না বা মাকরুহে তাহরীমী বললে, সেটিও হয়তো ভূল প্রমাণিত হতে পারে। কারণ আপনার বা আপনাদের কেয়াস মূলক সিদ্ধান্তটি পরবর্তীকালে হয়তো ভূলও প্রমাণিত হতে পারে।
আমি মনে করি আজকের আলোচ্য এ মাসআলাটিও এ পর্যায়েরই একটি মাসআলা বা সমস্যা। যা মানুষ নিজেদের অসমর্থতার কথা চিন্তা করে, নিজেদের উর্বর ব্রেন অনুযায়ীই করেছে!
কোরআন-হাদীসে এ ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই!
বরং ইবলিশের পরিণতি দেখে আমার ভয় হচ্ছে যে, ইবলিশ যেমন নিজকে মহাজ্ঞানী মনে করে, এবং সে আদম (আঃ) এঁর চাইতে বা মানুষের চাইতে অনেক সম্মানিত বা বড় মনে করে, নিজ জ্ঞান থেকেই, আল্লাহু তা'য়ালার হুকুম অমান্য করেছে, আর হয়েছে চির অভিশপ্ত! তেমনি আমার আলেম ভায়েরা কোরআন-হাদীসে নেই, তবুও মুসলিম জাতিকে এমন মাসআলা দিয়া, ঠিক ইবলিশের মতোই আল্লাহু তা'য়ালার হুকুম করেছে অমান্য! ফলে আলেমদের এরূপ মাসআলার কারণে আমি শুধু যে চরম কষ্ট পাচ্ছি তা নয়; আমি অনেক অনেক ভয়ও করছি যে, কখন আল্লাহু তা'য়ালার রোশানল পুরো মানব জাতির উপর বর্ষিত হয়!! আল্লাহু তা'য়ালার হুকুমের বিপরীত হুকুম দেয়ার মানে হলো, ইবলিশের মতোই চির অভিশপ্ত হওয়ার বা কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার যুক্তি থাকা!!
মহান আল্লাহু তা'য়ালা একজন পূরুষকে চার বিয়ে করার ও আনলিমিটেড বৈধ নারী রাখার অনুমতি দিয়েছেন। অথচ তাদের সাথে একসাথে সহবাস করা যাবে কিনা, মানুষের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোথাও কোনরুপ নিষেধাজ্ঞা গিয়েতো দূরে থাক, বিরোধীতা পর্যন্ত করেননি।
যদি এ বিষয়টি নাজায়েজই হতো, তাহলে শরীয়তের এমন একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন মানুষকে ইন্ডাইরেক্টলি বুঝতে হবে? মহান রব চার বিয়ের অনুমতি দিতে পারলেন(?); আর বিষয়টি নাজায়েজ হলে, তাহলে বিয়ে পরবর্তী বিয়ের মূল কাজের ক্ষেত্রে কিছুই বলবেন ন!? গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কেন ইন্ডাইরেক্টলি বুঝতে হবে!? তাছাড়া আনলিমিটেড নারীকে যৌনসুখ দিতে হলে, গ্রুপসেক্স এর বিকল্প, নরমাল সিস্টেম দ্বারা কি সম্ভব!?
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর বা বৈধ নারী আর তার মালিকের মধ্যকার প্রধান কাজই হলো সেক্স্যুয়াল বা মানবের আগমন।
স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করা যাবে না, মাসিক চলা কালীন সহবাস করা যাবে না! এ আইন গুলো তো পবিত্র কোরআনে ঠিক মতোই উল্লেখ করা হয়েছে! তাহলে চার বিয়ে করার ও সীমাহীন বৈধ নারী রাখার অনুমতি দিয়ে, তাদের যৌন জীবনের কী হাল হবে, তা বলার বিষয়টি কি উপরের গুলো থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিলো!?
তার মানে বৈধ নারীদের সাথে গ্রুপ সেক্স জায়েজ, এ জন্যেই এ বিষয়ে কোরআন হাদীসে কিছুই বলা হয় নাই!
আর এ বিষয়ে কিছু না বলার অর্থই হলো, যা বলা হয়নি, তা অবশ্যই হ্যাঁ। যেহেতু ইসলামী আইন এ রকমই!
আজ যদি কোন ছোট-খাট বা সাধারণ বিষয় হতো, তাও ধরে নিতাম যে, অন্য আয়াতের স্বাপেক্ষে কেয়াস করে বুঝে নিতে হবে!
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর বা অনেক গুলো বৈধ নারীর মালিকানার মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মেইন কাজে কেন অন্য অধ্যায়ের অন্য একটি আয়াতের স্বাপেক্ষে বুঝতে হবে? সেক্স্যুয়াল বিষয়টি এমনিতেই লজ্জতের, শরমের!
তাই এখানে চুপ থাকাটাই কি হ্যাঁ বোধক উত্তর হতে পারে না!?
তাছাড়া স্ত্রীদেরকে বা বৈধ নারীদেরকে স্বামীর জন্য শস্যক্ষেত্র ও তারা পরষ্পর পরষ্পরের পোষাক বলে দেয়াই হয়েছে। কেন, এতটুকু বলে দেয়া কি মাসআলাটি সমাধানের জন্য যথেষ্ট হয়নি!?
তাহলে এটি কেন নাজায়েজ হবে; যা আমার বোধগম্য নয়।
লজ্জ্যা বুঝি স্বামী-স্ত্রীর বা বৈধ নারীদের মাঝে এসে ঢুকেছে শুধু! নেগেট ছবি দেখা, পতিতালয়ে প্রবেশ করা, বিভিন্ন ভাবে জুলুম করা, অপরের হক মারা, সুদ খাওয়া ইত্যাদির মাঝে আল্লাহর প্রতি লজ্জা নেই বুঝি আমাদের!?
এই, আল্লাহ কি এতো নিষ্ঠুর যে মানুষকে জ্ঞানের মারপ্যাঁচে আটকিয়ে শুধু আগুনে পোড়ানোর বুদ্ধি করবেন? আর শুধু শুধু ইসলাম সহজ ধর্ম বলবেন?
আল্লাহ্ মাফ করুক। আস্তাগফিরুল্লাহ। আমার রব এমন নয়। তিনি সবিস্তার বর্ণনা করেন তার আয়াত সমূহ। তিনি রহীম; তিনি রহমান; তিনি দয়ালু।
বিয়ের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মাসআলা বা সংবিধান অন্য অধ্যায় থেকে প্রণয়ন করতে হবে বা মানতে হবে, এর কোন যুক্তি নেই।
তাহলে ইহা স্পষ্ট যে, ২/৩/৪ স্ত্রীর সাথে, বা আনলিমিটেড নারীর সাথে, একসাথে সহবাস, কোরআন-হাদীস দ্বারা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
আবার হাদিসে রয়েছে ইসলাম সহজ ধর্ম।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর বা আনলিমিটেড বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
তাহলে সহজ ধর্মের মানেতো এই না যে, মানুষের কাজকর্মের কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, সরাসরি আয়াত থাকবে না, আর মানুষকে তখন অন্য একটি আয়াতের স্বাপেক্ষে শুধু কেয়াস নির্ভর বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে?
যেহেতু চারজন স্ত্রীর সাথে একসঙ্গে একই সময়ে একই বিছানায় সহবাস করতে কোরআন-হাদীসের কোথাও কোনরুপ নিষেধাঙ্গা নেই।
যেহেতু স্বামী ও স্ত্রীগণ বা বৈধ নারী গণ সকলেই, সকলের পোশাক এবং যেহেতু স্বামীর সকল স্ত্রীই বা বৈধ নারীরাই স্বামীর বা মালিকের শস্য, আর যেহেতু স্বামীর বিছানাটিই স্বামীর শস্যক্ষেত এবং যেহেতু এ শস্যক্ষেত থেকে তাদের কেউ (স্ত্রী গণের) নারাজি থাকলে, তখন কেউ কাউকে আলাদা করার ক্ষমতা বা অধিকার বা এখতিয়ার রাখেনা, যে অধীকার কোরআন হাদীস কাউকে দেয়নি; আবার যেহেতু প্রত্যেক স্ত্রীই বা বৈধ নারীই একই স্বামীর বা মালিকের স্ত্রী বী বৈধ নারী; অতএব স্বামীর বা মালিকের স্বাপেক্ষে এটি প্রমাণিত করা যায় যে, স্বামী বা মালিকের সহবাসের সময়ে, তাহলে স্বামীর বা মালিকের স্ত্রীদের সতীন বোনগণ বা বৈধ নারীগণ পরষ্পর পরষ্পরের সতর দেখতে পারবে এবং তখন পরষ্পর সতর না দেখে সহবাস করার কোন সুযোগই নাই তাদের কারো।
সতর না দেখার যে নিষেধাজ্ঞা তা তাদের জন্য, মানে স্ত্রী বা বৈধ নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বা ধর্তব্য হবে না তখন।
তখন সতর দেখাটাই, মানে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো স্বামীকে বা মালিককে সহযোগিতা করাটাই প্রত্যেক সতীন বোনের বা বৈধ নারীর আবশ্যিক বা রিলাক্স-এবল কর্ম হবে।
যেহেতু এখানে সতর দেখার অনুমতির কারণই হচ্ছে এ সময়টিই হচ্ছে সহবাসের সময় এবং স্বামী বা মালিকের উপস্থিতিতে সকলেরই একই কাজ এবং এটি একটি আনন্দ, একটি উপভোগ, একটি নবসৃষ্টি।
যেখানে যে কাজ, সেখানে সে রকম আমল। মানুষ মারা মহাপাপ; কিন্তু জেহাদের ময়দানে মানুষ মারাটাই ফরজ। তাই যার সাথে যে রূপ সম্পর্ক, তার সাথে সে রূপ আমল করতে হবে।
নবসৃষ্টির আগমনি কর্মই যদি হয় সকলের কাজ, তাই সতর না দেখা নয়, সতর দেখাটাই ও নবসৃষ্টির আগমন মূলক কর্মই হবে সকল সতীন বোনের ও সকল বৈধ নারীর উপর ওয়াজিব।
নবসৃষ্টির আগমনি কর্মই যখন স্বামী সহ সকল সতীন বোনের কাজ ও সকল বৈধ নারীর এবং স্বামীর বা মালিকের উপস্থিতিতেই ও এ কাজে স্বামীকে বা মালিককে সহযোগিতা করাই যখন মূখ্য তখন সকল সতীন বোনকে ও সকল বৈধ নারীকে এখানে একটি দেহ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
অর্থাৎ প্রত্যেক স্ত্রীই বা প্রত্যেক বৈধ নারীই তখন স্বামীর জন্য একটি পোষাকের মতো।
অংক-বিজ্ঞানের ছাত্ররা আশা করি এ লজিক গুলো ভালো বুঝবেন।
এ যুক্তিতে সতীন বোন গণ ও বৈধ নারীগণ পরষ্পর পরষ্পরের সতর দেখা ও পরষ্পরের সাথে যৌন উত্তেজনা মূলক কাজ করা জায়েজই হবে না শুধু, ওয়াজিব হিসেবেই ধর্তব্য হবে।
ধরুন একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী উদোম বা কাপড় বিহীন হয়ে তাদের বিছানাতে ঘুমোচ্ছে। যেহেতু রব কর্তৃক স্ত্রীকে স্বামীর সাথে উদোম হয়ে ঘুমানোর অধীকার দিয়েছে এবং যেহেতু রব কর্তৃক তাকে কাপড় পরতে বা অন্য কোন বিছানাতে যেতে বাধ্য করার অধীকার কাউকে দেয়নি। তাই সে কাপড়ও পরতে রাজী না এবং অন্য বিছানাতে যেতেও রাজী না। বা স্বামী যে বিছানায় থাকবে, সে বিছানায় সেও থাকবে, এ রকমই তার দাবী।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর বা বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
স্বামীর সাথে তার উদোম বিছানায় থাকা, এটা তার অধিকার অর্থাৎ বিষয়টা এমন যে, স্বামী-স্ত্রীর জীবন বিছানাটাই উদোম।
এখন ধরুন ২য় স্ত্রী আসায়, স্বামী ১ম স্ত্রীকে বলছে, অন্য বিছানায় গিয়ে ঘুমোতে। কিন্তু ১ম স্ত্রী স্বামীকে বলছেন, সে যাবে না। কারণ স্বামীর সাথে উদোম হয়ে ঘুমানোর এ অধীকার আল্লাহু তা'য়ালা তাকে দিয়েছেন এবং এখান থেকে অন্যত্র গিয়ে ঘুমাতে বাধ্য করার অধীকার স্বামী বা ২য় স্ত্রীকে বা অন্য কাউকেই দেয়া হয়নি। ১ম স্ত্রী তার স্বামীকে এ রকমই উত্তর দিলেন।
তখন যেহেতু স্বামী এ বিষয়ে আইনগত অধীকারহীন, তখন সে ১ম স্ত্রীকে এ বিষয়ে আর কিছু বলতে পারছে না।
এখন ২য় স্ত্রী ১ম স্ত্রীকে বললেন তোমার সতর দেখে যাচ্ছিতো, অন্যত্র গিয়ে ঘুমাও না? তখন ১ম স্ত্রী ২য় স্ত্রীকে বললেন, এটি আমার স্বামীর বিছানা। এখানে আমি পূর্ব থেকেই উদোম। এখানে উদোম থাকতে আমার কোন দোষ নেই, এটা আল্লাহর হুকুম।
এবং এও বললেন, তুমি বরং সতর না দেখতে পারলে তুমি আসিও না।
তখন সে বলল, তোমার স্বামীতো আমারও স্বামী। স্বামিই আমার পোষাক। আমারও এখানে কাপড় পরার প্রয়োজন নাই।
এবার ১ম স্ত্রী বললেন, তুমিওতো তাহলে উদোম, আমিওতো তোমার সতর দেখে যাচ্ছি। তখন ২য় স্ত্রীও ঠিক ১ম স্ত্রীর মতোই উত্তর দিলেন। তখন ২য় স্ত্রীও উদোম হয়ে, উদোম বিছানাতে ১ম স্ত্রীর সাথে প্রবেশ করলেন। এভাবে ৩য় ও ৪র্থ স্ত্রীরও আগমণ ঘটলো।
এখন স্বামী যে বিছানাতেই যায়, তার স্ত্রী গণ সবাই ঐ বিছানাতেই যায়। কেউ কাউকে বিতাড়ন করার অধিকারী নয় বিধায়, সকল স্ত্রী উদোম ভাবে ঘুমায় ও কোরআন হাদিসের কোন দলিল খুঁজে পায়না বিধায় কেউ কাউকে বিতাড়ন করতে পারে না।
এক্ষণে একসতিন বোন একসতিন বোনকে বলে, কাপড় পরে ঘুমাতে; তখন তার সতীন বোনটি পাল্টা উত্তর দেয়, তার মাতৃত্ব প্রয়োজন এবং বলে, এখনতো সতর দেখছো ও এটিকে বড় মনে করছ, কিন্তু মাতৃত্ব না হলেতো সারা জীবনটাই অন্ধকার দেখবে। এভাবে কেউ কাউকে সতর না দেখিয়েও পারেনা এবং কাউকে অন্যত্রও পাঠাতে পারে না।
আর তাই আমি বর্তমান আলেম সমাজকে বলছি, সতীনবোনদের নিকটও বা বৈধ নারীদেরও জায়েজ তরীকা নাই যে, তারা অন্য সতীন বোন দেরকে অন্য বিছানায় পাঠাবে এবং নিজের সতর দেখাবে না।
আবার আমার কাছেও কোরআন-হাদীস থেকে কোন আইন নাই যে, সতীনদের উপর শক্তি প্রয়োগ করে তাদেরকে পৃথক করা যায়।
আমার সম্মানীত আলেম ভাইগণ আপনাদের নিকট কোন আইন আছে কী (?); থাকলে এর দলীল সহ উল্লেখ করে, সতীন বোনদেরকে আলাদা করবেন ও স্ত্রীদের সাথে গ্রুপ সেক্স, এটি নাজায়েজ এ বিষয়টি প্রমাণ করবেন।
অবশ্যই এ বিষয়টির সমাধান দিয়ে, কমেন্টস লিখবেন। আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।
আসুন এক্ষণে আলোচনা করবো সহবাসের উত্তম তরীকা কোনটি।
এটা অবশ্যই সত্য যে, সহবাস এটি নিঃসন্দেহে একটি শরম বা গোপনের বিষয়। আর এ গোপন বিষয়টি গোপনে সমাধা করতে পারলে সেটি নিশ্চয় সম্মানের।
এতে আপনি স্বামী হিসেবে আপনার এখতিয়ার রয়েছে, আপনার সকল স্ত্রী বা বৈধ নারী যদি রাজী থাকে, তাহলে আপনি তাদেরকে আলাদা রুমে বা বাড়িতে রেখে ইনসাফ ও হক অনুযায়ী তাদের সাথে ঘুমানো।
দেখুন, দিন দিন মানুষের স্বার্থপরতা ও হিংসার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবন হয়ে যাচ্ছে জটিল মূখী। কালের পরিবর্তন হচ্ছে। এবং তার সাথে সাথে মানুষের শরীর, মন, নফস ও রীপুর চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে। সমাজ সংস্কৃতি আজ আর আগের মতো নেই।
এ অবস্থায় সুন্নাত অনুযায়ী আমল করাটা যদিও অনেক বেশি নিরাপদের। তবুও মানুষ সুন্নত নয়, এ রুপ আমল করে শরীর ও মন-মগজে পরিতৃপ্তি নিচ্ছে ও এগুলো করতে গিয়ে মানুষ পাপেও নিমজ্জিত হচ্ছে।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
এরুপ কিছু আমল যদি জায়েজ হয়, তাহলে আমাদেরকে কি তা জানিয়ে দেয়া উচিৎ নয়?
অপরদিকে সুন্নাতকে শ্রদ্ধা করার নিয়তে যদি সুন্নাত অনুযায়ী সহবাস করে, তাহলে কোন সন্দেহ নাই, অবশ্যই এতে বেশি সাওয়াব পাবে।
তাই অস্বীকার করার মতো কিছু নেই যে সম্মান ও ভদ্রতা বজিয়ে চলতে যেমন প্রয়োজন সুন্নাত অনুযায়ী সহবাস; ঠিক তেমনি নিজের দূর্বলতা, স্ত্রীদের স্বার্থপরতা ও হিংসার মাঝে নিজেদের সম্মানজনক জীবন-যাপনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সুন্নাত অনুযায়ী সহবাস।
তাছাড়া বলাই বাহুল্য যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে তরীকা দেখিয়েছেন এর চাইতে উত্তম তরীকা আর কোনটি হতে পারে না। এটা প্রশ্নাতীত ভাবে সত্য যে, কেয়ামত পর্যন্ত, জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের মধ্যে শীর্ষ্যে থাকবেন আমাদের নবী (সাঃ)।
তাই তিনি যে আমলটি করেন নাই, এমনকি এ বিষয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়ে যাননাই, সেই আমলটি এবং যা বর্তমানে নাজায়েজ অবস্থায় আছে, এমন একটি আমলকে জায়েজ বলতে আমাকেও বার বার চিন্তা করতে হচ্ছে।
কিন্তু এ কথার অর্থ এই না যে, একটা জায়েজ কাজকে আপনি নাজায়েজ বলবেন। দেখেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর সহাবীগণ (রাঃ) কিন্তু স্ত্রীদের গ্রুপ সেক্স এর এ বিষয়টি নাজায়েজ বলেননি বা করতে নিষেধ করেননি।
যা শুধু আপনারা বলেছেন।
আমি যুক্তির কষ্টিপাথরে পর্যালোচনা করে, এরপর আমার মন-মগজ দ্বারা বিষয়টি জায়েজ উত্তর পাওয়ার পরই কেবল আপনাদের জ্ঞাতার্থে ও আপনাদের বিজ্ঞ বিচার-বিবেচনার প্রত্যাশায় বিষয়টি সকলের নিকট তুলে ধরছি।
অবশ্যই এ পুরো প্রবন্ধটি মনযোগ সহকারে পড়বেন ও কমেন্টস করবেন।
বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে আমি পবিত্র কোরআন শরীফ এর, বই আকারে সংকলনের একটি ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরছি, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা করেননি, তা মানব মন্ডলি ও জ্বীন সম্প্রদায়ের যদি প্রয়োজনীয় হয় ও পবিত্র কোরআন থেকে যদি এর পক্ষে সাপোর্ট থাকে তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর ওফাতের পর কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এর যে কোন যুগে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ কর্তৃক তা করা যাবে, এ বিষয়টি থেকে তা বোঝা যাবে।
যদিও পবিত্র কোরআন সংকলনের বিষয়ে ইসলামি স্কলার বা আলেম সমাজের মাঝে অনেক গুলো ব্যতিক্রমি অভিমত রয়েছে, তবুও এ বিষয়ে সবচাইতে গ্রহণযোগ্য অভিমত আমরা এটিই মনে করি যে,
(যা আমি নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরলাম)
হযরত আবু বকর (রাঃ) 'লিখিত আকারে কুরআন' সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৬৩২ সালে ইয়ামামার যুদ্ধের পর হযরত উমর (রাঃ) দেখেন যে, কুরআন স্মরণকারী প্রায় পাঁচশো হাফেজে কোরআন শহীদ হয়েছেন।
আল্লাহু তা'য়ালার এ কালামে শরীফে ত্রুটি-বিচ্ছুটি হতে পারে বা কলুষিত হতে পারে এই ভয়ে হযরত উমর (রাঃ), হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে, তখন অনুরোধ করেছিলেন যে পবিত্র এ কালামকে তিনি যেন কিতাব আকারে সংকলন করেন এবং এঁর সংরক্ষণের অনুমোদন দেন।
খলিফা প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তিনি ওমর ফারুক (রাঃ)-কে বলেন, "আমরা কীভাবে তা করতে পারি; যা আল্লাহর রাসূল (সাঃ), নিজে করেননি?" কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তিনি নমনীয় হন এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আয়াতগুলো একত্রিত করার জন্য জায়েদ ইবনে সাবিতকে (রাঃ) নিযুক্ত করেন। যিনি পূর্বে মুহাম্মাদ (সাঃ) এঁর অন্যতম লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
চারদিক থেকে তখন টুকরো গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল; যার মধ্যে ছিল খেজুরের ডালের পাঁজর, চামড়ার স্ক্র্যাপ, পাথরের ট্যাবলেট এবং "পুরুষদের হৃদয় থেকে।" সংগৃহীত কাজটি শীটে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং কুরআন স্মরণকারী বা হাফেজে কোরআন ভাইদের সীনায় রক্ষিত কোরআনের সাথে তুলনার মাধ্যমে যাচাই করে তা সম্পন্ন করা হয়েছিলো। যাকে কোডেক্স বা মুস'হাফ বলা হয় এবং যা হযরত আবু বকর (রাঃ) এঁর নিকট উপস্থাপন করা হয়েছিল। যাকে তিনি সঠিক ও নির্ভূল হিসেবে সার্টিফাই করে গ্রহণ করলেন।
এবং এটি তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর উত্তরসূরি উমর (রাঃ) এঁর কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
উমর (রাঃ) এঁর নিজের মৃত্যুর পর আল কুরআনের এই পান্ডুলিপি বা মুস'হাফ তাঁর মেয়ে হাফসা (রাঃ) হেফাজত করেন।
যিনি মুহাম্মাদ (সাঃ) এঁর অন্যতম স্ত্রী ছিলেন। হাফসা (রাঃ) থেকে প্রাপ্ত এ ভলিউমটিই উসমান (রাঃ) পাঠের জন্য আধুনিক ও সহজীকরণ করে এবং টাইপ করে বর্তমানে আমাদের নিকট রক্ষিত এ কিতাবের আকারে প্রস্তুত করেন। এবং এর পরবর্তীকালে এ কিতাবের সমস্ত কপি ও সংস্করণ হযরত উসমান (রাঃ) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এ মূল কিতাবটির অনুরুপ করে বা একে কেন্দ্র করেই প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়।
আপনাদের সকলের জানা থাকা উচিত যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত উমর (রাঃ), ইসলামের এ দুই শায়েখ-কে মেনে চলতে পবিত্র হাদিস শরীফ থেকে গাইড লাইন দেয়া হয়েছে। যেমন-
হজরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমার পরে তোমরা আবু বকর (রাঃ) ও ওমরের (রাঃ) অনুসরণ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৬২)
আরেক হাদিসে হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদিন রাসূল সা.-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, জানি না কতদিন আর তোমাদের মাঝে আছি। এরপর আবু বকর (রাঃ) ও ওমরের (রাঃ) দিকে ইশারা করে বললেন, আমার পরে যারা থাকবে তাদের অনুসসরণ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬৬৩)
তাহলে ইহা স্পষ্ট যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত উমর ফারুক (রাঃ) যা করেছেন তা আমরা করতে পারি এবং কালের পরিক্রমা ও বিবর্তনের কারণে হয়তো তা করতে হবেও আমাদেরকে। তাহলে আজকের এ মাসআলায় আমি যে পরিবর্তন আনতে চেয়েছি তা মূলত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর হাদীস শরীফের বিপরীত নয়।
পবিত্র হাদীস শরীফ অনুযায়ীই আমি উক্ত মাসআলাটির বিষয়ে সবাইকে এ পরিবর্তনের আহবান জানাচ্ছি।
তবুও কথা থেকেই যায়, আপনারা বলতে পারেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ), কেন করে দেখালেন না?
ভায়েরা আমার, আমি আপনাদেরকে উদাহরণ হিসেবে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, দেখুন, সেকালে মানুষ যবের রুটি খেত, আটার রুটি খাওয়ারও খুব একটা সুযোগ ছিলো না তাদের। আজ কি মানুষ যবের রুটি খায়?
খায় না। তাহলে তখনকার সময়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনাদের মিনিকেট চাউল কোথায় পাবেন যে, তা আপনাদেরকে দেখিয়ে যাবেন? আর সে যুগে যখন মানুষের মস্তিষ্কই হলো যবের রুটি খাওয়া, তখন মিনিকেট চাউল খাওয়ার বিষয়টি দেখিয়ে যাওয়ার, তাঁর কী প্রয়োজন ছিলো বলুন? আর সেটি ব্রেনে আসবেইবা কিভাবে? এবং তা বললেও কি তখনকার মানুষেরা সেটি বুঝতো?
নিকটতম ৫০ বছরের একটা উদহারণ দিই শুনুন, যার মাধ্যমে বিষয়টি আপনারা আরো সহজে বুঝবেন।
ধরুন আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৭৫ সনের দিকে যখন মানুষ মোবাইলের ব্যবহার শিখেনি, যখন মানুষ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেত, তখনকার সময়ে ধরুন কয়েকজন বন্ধু স্কুলে যাচ্ছে; তখন একবন্ধু, একবন্ধুকে বলছে, দাঁড়া সিএনজি আসবে, সিএনজি করে যাবো। অথবা এমন বললো, এই কালকে মোবাইলে কোন ছবিটা দেখছিলি? অথবা বলল, স্যারের কালকের পাঠের বিষয়টি বুঝিনি, মোবাইলে সার্চ দেয় একটু।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর ও বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
অথবা যখন বিমান আবিষ্কৃত হয়নি, তখন যদি একবন্ধু, একবন্ধুকে বলে, কালকে আমার ফ্লাইট, বিমান আকাশের অনেক উপর দিয়ে উড়বে, অনেক মজা হবে, তোরা শুধু মোবাইলে দেখবি, কিভাবে আকাশ দিয়ে বিমান উড়ে, আর আমি উপভোগ করবো!
তখনকার সময়ে, এ রকম কথা কোন ছাত্র কিংবা কোন মানুষের মুখ দিয়ে কি আসবে? না আসতে পারে? আর আসলেও তাকে কি লোকে পাগল বলবে না?
তাহলে আপনারা আমার রাসূলের (সাঃ) বিষয়ে এ রকম প্রশ্ন তুলবেন কেন? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৪ স্ত্রীর সাথে একসাথে সহবাস করে যাননাই কেন? যা তখনকার তাঁর (সাঃ) ব্রেনে (হয়তো), বা মানুষের ব্রেনে তখন এসব ছিলো না, যা মানুষ বুঝতো না, এমন একটি বিষয়ে আমার রাসূল (সাঃ) কিভাবে বলবেন, কিভাবে দেখাবেন এবং এটি তখন বলার বা দেখানোর কী প্রয়োজন ছিলো তা আপনারা বলুন? অথবা তখন এ বিষয়টি বলার বা দেখিয়ে যাওয়ার কোন পরিস্থিতি ছিলো কিনা?
অন্যদিকে আজকের দিনেও আমি প্রায় নিশ্চিত যে, আজকের যুগের বিজ্ঞানীরা যা করছেন, এর অনেক কিছু আমার দেশের গ্রাম্য লোকদেরকে (ধরুন আমার গ্রামের লোকদেরকে, যেমন করে তারা আমায় না বুঝে বা ভূল বুঝে কষ্ট দিচ্ছে) বললে এরা কি এসব বিশ্বাস করবে? বিশ্বাসতো করবেই না, উল্টো যে বলছে, তাকে পাগল সাব্যস্ত করেই ছাড়বে।
তাহলে আমার রাসূল (সাঃ) কেন, প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর পরের মানুষের মন-মগজের একটি বিষয় তাঁদেরকে বলে, তাঁদের মাঝে নিজকে অগ্রহণ যোগ্য করে রাখবেন?
তাছাড়া আপনারা কি মনেকরেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) গায়েব জানতো? তিনি শুধু তাই জানতেন, মহান রব কর্তৃক যা তাঁকে জানানো হতো।
তাহলে তাঁকে যদি আজকের মানুষদের মানসিকতা নাই'ই জানানো হয়, তবে তিনি (সাঃ) কি গণক যে, তিনি আজকের মানুষদের মানসিকতা অনুযায়ী, এদের কর্ম সমূহ দেখিয়ে যাবেন?
এই, আপনারা কি তাঁকে (সাঃ) গণক মনে করেন?
বার বার শুধু আপনারা প্রশ্ন করবেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দেখাননি কেন, দেখিয়ে যাননি কেন?
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একই বিছানায়, একাধিক স্ত্রী নিয়ে ঘুমাননি কেন?
[সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে]
যার প্রয়োজনীতা ছিলো না, যা মানুষ বুঝতো না তখন, এমন একটি বিষয়ে, কেন তাঁর প্রতি শুধু শুধু প্রশ্নের বান মারবেন আপনারা? আপনারা কি যুক্তি বলতে কিছুই বোঝেন না?
আবার বিষয়টি প্রায় সবগুলো মানুষের ক্ষেত্রেই সত্য যে, এটি নিকৃষ্টতম জায়েজ; শুধুমাত্র বর্তমানকার কেবলমাত্র কিছু কিছু বড় মাপের আলেমের জন্য উৎকৃষ্ট জায়েজ হতে পারে। যাদের এরুপ আমল করার কারণে, এটি যে জায়েজ, সমাজ ও দেশ-বিদেশের মানুষের এ বিষয়ে যাতে স্বচ্চ ও সন্দেহাতীত জ্ঞান ও বিশ্বাস থাকে এ জন্যে। এবং সমাজ ও দেশে বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যস্ত, যাদের সময় বাঁচানো প্রয়োজন অথবা ন্যায়-পরায়ন রাজা-বাদশা ও অন্যান্য নেক নিয়তকারীদের এদের জন্য তাদের নিয়ত ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী উৎকৃষ্ট জায়েজ হতে পারে।
আবার ধরুন, এটি একটি মেহেতরী কাজ, যেহেতু নিম্নতম জায়েজ। তাহলে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উৎকৃষ্টতম মানব হয়ে, নিম্নতম কাজ করবেন কেন? তিনি তাঁর নিকটতম নিচের ১ম বা ২য়/৩য় স্তরের আলেমগণ দ্বারা সমর্থন দিয়ে করে দেখাবেন; নিজে করবেন কেন?
আবার এমনও হতে পারে রাসূল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীদের (রাঃ) পরবর্তী যুগ সমূহে আগত ভালো মানুষদের সাওয়াবের পাল্লা ভারী করার উদ্দেশ্যেও মহান রব এ জাতীয় আমল সমূহ সংরক্ষিত রেখেছেন। যাতে পরবর্তীতে আগত আল্লাহু তা'য়ালার নিকটতম লোকেরা সন্তুষ্ট থাকার একটি ওয়ে খুঁজে পান।
আসুন, আরো একভাবে বুঝতে চেষ্টা করি। বলুন, মেহেতরী কাজ জায়েজ কিনা? ধোপা, নাপিত, জেলে ইত্যাদি আরো অনেক অনেক পেশার কাজ রয়েছে এগুলো জায়েজ কিনা? যদি জায়েজ হয়, তাহলে এ কাজ গুলো কি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করে দেখিয়েছেন?
দেখাননি।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর বা বৈধ নারীদের একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
তাহলে শুধু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করে দেখাননি, তাই এটি নাজায়েজ হবে; এ যুক্তি আপনারা কোথায় পেলেন?
বলুন না (?), সে যুগে কি গ্রুপ সেক্স এর এ বিষয়টি বা একই বিছানায় একাধিক স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমানোর বা একই সাথে সহবাস করা, এ বিষয়টি ছিলো? কোন সাহাবী কিংবা কোন মানুষ কর্তৃক কি নবীজী (সাঃ), এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন? তখনকার অবস্থা কি এ রকম ছিলো আসলে? তাহলে যা তিনি জানতেন না (হয়তো), কেউ যে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেননি এবং যে অবস্থাটি সৃষ্টি হয়নি, এমন একটি বিষয়ে নবীজী (সাঃ) কেন বলবেন, কিভাবে বলবেন?
এই, আপনারা যে বার বার আমার দিকে, আমার নবীজীর (সাঃ) দিকে এ প্রশ্ন ছুঁড়ছেন, কেন নবীজী (সাঃ) করে দেখায়নি?
আপনাদের এ ধরনের প্রশ্নের কোন অর্থ হবে তাহলে?
আমার নবীজী (সাঃ)-কে কি মেহেতর মনে করেন আপনারা? উম্মতের জন্য বুঝি তিনি (সাঃ) মেহেতরও হতে যাবেন? সব কাজই শুধু আপনাদেরকে করে দেখাতে হবে তাঁকে (সাঃ)?
বলুন, নবীজী (সাঃ) কোন কাতে ঘুমাতেন? কি পরতেন? মাথা কি খুব বেশি খোলা থাকতো? রাস্তার কোন পাশে হাঁটতেন?উনি কি ফরজ নামাজের জামাতের পর হাততুলে সম্মিলিত মুনাজাত করেছেন? নতুন ঘর বা দোকানপাঠ উদ্ভোধন করা কালীন দরুদ শরীফ পড়ানোর যে রীতি ভারতীয় উপমহাদেশে চালু আছে, তা কি রাসূল (সাঃ) করতেন? ইত্যাদি।
তাহলে আপনি কি নবীজীর (সাঃ) এঁর মতো আমল করেন (?); না এর বিপরীত?
হ্যাঁ নবীজী (সাঃ) ডানকাতে ঘুমাতেন। বেশির ভাগ সময়েই ছেলাই বিহীন লুঙ্গি পরতেন। মাথায় বেশির ভাগ সময়তেই থাকতো পাগড়ি। রাস্তার ডান পাশে হাঁটতেন। তিনি ফরজ নমাজের পর হাত তুলে সম্মিলিত মোনাজাত করেননি। নতুন ঘর বা দোকান পাঠ উদ্ভোধন করা কালীন, মিলাদ বা দরুদ শরীফ পড়েননি। ইত্যাদি।
তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে তরীকায় আমল করেছেন, ঐ আমলগুলো তার বিপরীত তরীকায় এখনো চালু আছে, তাইনা?
তার মানে, কোরআন অথবা হাদীস থেকে অনুমতি থাকলে, তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেভাবে আমল করেছেন, সেভাবে না করে অন্য ভাবেও আমল করা যাবে এইতো?
তাহলে আমি যখন এ আমলটি এভাবে করতে বলি, তখন সেটি নাজায়েজ হবে কেন?
এতো কিছু নবীজী (সাঃ) এঁর বিপরীত আমল করায় আপনাদের কোন পাপ হয় না; শুধু আমি এ আমলটি এভাবে করতে বলায় বুঝি শুধু পাপ হবে?
একই মেথড়ে সমাজে প্রচলিত অনেকগুলো আমল জায়েজ হবে, আবার সেই মেথড়েই এই আমলটি নাজায়েজ হবে, এরতো কোন মানে নেই।
আমি জানি, এখন আপনারা আমায় আবার হয়তো বলবেন যে, হ্যাঁ বুঝলাম; তিনি (সাঃ) হয়তো দেখাতে পারেননি বা দেখাননি, এর হয়তো কোন কারণ ছিলো; কিন্তু এখন আপনার কি প্রয়োজন পড়লো যে, এভাবে আমল করতে বা দেখাতে বা জায়েজ করতে বা বলতে?
এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বলতে চাই যে, বর্তমানে আপনার ছেলে, কিংবা আপনার মেয়ে, এ রকম গ্রুপ সেক্স করছে কিনা? আমাদের ছেলে-মেয়েদের মন-মগজে এর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে কিনা? যদি হয়েই থাকে, তাহলে এদের চাহিদা আপনি কিভাবে পূরণ করবেন এখন?
কেন কোরআন-হাদীস অনুযায়ী কি অনুমতি দেয়া হয়নি আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে?
আর আপনি যদি গ্রুপসেক্স আমাদের ছেলে মেয়েরা চায়না বা তাদের মন-মগজে এটি সৃষ্টি হয়নি বলতে চান, তাহলে গুগলে আপলোডকৃত এ ভিডিও গুলো এতো বেশি করে কে দেখে, আর কেনইবা দেখে?
মানুষের শরীর, মন, মগজ ও রিপুতে যদি একটা ক্ষুধা থাকে, তাহলে সে ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা কি আপনাদেরকে দিতে হবে না? ক্ষুধা তৈরী করবেন, কিন্তু খাদ্য দিবেন না। এটা কি রবের থিওরি, না মানুষের?
আর ধরুন আপনাদের কথা মতো বিষয়টি নাজায়েজ করে রাখা হলো,।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর বা বৈধ নারীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
তাহলে মানুষের শরীর, মন, নফস ও রিপুর বর্তমানকার যে চাহিদা, জাতিকে তা পূরণ করতে দিবেন কিভাবে? পাপ করিয়ে করিয়ে? এ দায় কে নিবে তাহলে? আপনাকে যে জ্ঞান দেয়া হয়েছিলো, তবে আপনার কোন দায় থাকবে না এতে?
আমার রব মানুষকে কষ্টে ফেলতে চাননা। তিনি মানুষের এমন কোন অভাব বা চাহিদা বা রোগ সৃষ্টি করেননি বা করবেননা; সে চাহিদা/অভাব পূরণের বস্তু বা শেপা তৈরী না করে।
তাহলে রব যদি জায়েজ করে, তবে আপনারা সেটিকে নাজায়েজ করে রাখবেন কেন?
আপনাদের ধৈর্যের বাঁধ আমি মনে হয় ভেঙ্গে ফেলছি।
কী করবো, যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করে দেখাননি। তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ করে দেখাননি, এমনকি তাঁদের কেউ জায়েজও বলে যাননি। এরপর আজ প্রায় ১৪০০ বছর এটি নাজায়েজ হিসেবেই স্বীকৃত। আমার চাইতে হাজার-কোটিগুণ বড়, কোরআনের আলেম ও বিশেষজ্ঞগণ যে বিষয়টির বিষয়ে কিছুই বলেননি ও নির্দিধায় মনে-প্রাণে নাজায়েজ হিসেবেই আমল করলেন এবং মানুষদেরকেও নাজায়েজ হিসেবেই আমল করতে বললেন।
(কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নাজায়েজ বলেননি, হয়তো তিনি (সাঃ) এভাবে আমল না করে অন্যভাবে আমল করেছেন।)
তার উপর বিষয়টি লজ্জ্যত অধ্যায়ের। প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর যে মাসআলাটি মুসলমানদের নিকট নাজায়েজ হিসেবে আমলকৃত, স্বীকৃত ও পরিচয়কৃত; এমন একটি নাজায়েজ কাজকে, ইসলামি সংবিধানকে আজ আমি জায়েজ হিসেবে ফতোয়া দিচ্ছি।
তাহলে এ মাসআলাটি এতোদিন কেন নাজায়েজ ছিলো, আর এটি কেন এখন জায়েজ হতে যাবে, তা পুরোপুরি বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে না বললে, আমার কি পরিচয় ঠিক থাকবে!? আমি কি সভ্য ও ভদ্র হিসেবে থাকতে পারবো!? আমি কি সকলের নিকট মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারবো আর!!
হয় মানুষগণ আমাকে পাগল বলবে ও আমাকে কিভাবে দাবিয়ে রেখে খতম করা যায়, এ ধান্দা করবে; কারণ তাদের ভয় আমিতো প্রতিষ্ঠিত হলে উদভট কিছু করে বসতে পারি হয়তো!
যেহেতু তাদের ধারনা মতে হয়তো, আমি শক্তিমান হলে তাহলে আমার নিকট যে জিন আছে তাকে আর হয়তো কন্ট্রোলই করা যাবে না।
যা আমার নিজ বাড়ির, নিজ রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়-স্বজনেরাই করেছে আজ সু-দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে। বার বারই আমি উঠতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাদের দমন, পীড়ন আর নির্যাতনে উঠতে পারিনি।
আবারো যদি এ ধরনের বা আরো ভয়াভহ কোন আগ্রাসন আমার উপর চলে!!
তাই আপনারা কি বুঝতে পারেননি, কেন আমি এতো বিস্তারিত ভাবে এ মাসআলাটি লিখেছি।
এখন কথা হচ্ছে আমি কেন একই বিছানায় একই সাথে ৪ জন স্ত্রীর বা অধিকার ভূক্ত বৈধ নারীদের সাথে সহবাসের পক্ষে এভাবে জোরালো ভূমিকা রাখছি।
দেখুন, প্রথমেই আমার মনে হয়েছে, এটি জায়েজ। আর একটি জায়েজ কাজকে নাজায়েজ ফতুয়া দিয়ে রাখা হয়েছে। হয়তো জায়েজের প্রেক্ষাপট আসেনি; তাই কেউ হয়তো এটি জায়েজ কিনা, তা ভাবতে শুরু করেনি। আর তাই আল্লাহু তা'য়ালা এ বিষয়ে যা বললেন, মানুষগণ এখনো হয়তো তা বুঝতে পারেননি, বা বোঝার চেষ্টাও হয়তো কেউ করেনি এখনো।
মূলতঃ বর্তমানকার এ আনপিউর বা নাজায়েজ অবস্থাকে জায়েজে রুপান্তর করতেই আমার এ প্রচেষ্টা।
২য়'ত আমি যখনই ভাবী যে, আল্লাহু তা'য়ালা আমাকে চার বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন, তাই ধরুন আমি আরেক বিয়ে করেছি বা করছি। এ অবস্থায় আমার অন্তর হু হু করে কেঁদে উঠে এই ভেবে যে, ২য় স্ত্রী নিয়ে আমি বিছানায় সুখে আছি অথবা খুশিতে আমার দিন যাচ্ছে; অথচ আমার ১ম বা অন্য স্ত্রীগণ হয়তো বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছে বা তারা এখন কিভাবে আছে?
তাহলে আমিতো হয়তো তাদেরকে কষ্ট দিচ্ছি!!
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
তাহলে এ অবস্থায় আমার ১ম স্ত্রীকে ফেলে আরেক বিয়ে আমি কিভাবে করবো?
আর তাই আমি ভাবতে থাকলাম, একাধিক স্ত্রীকে নিয়ে একই বিছানায় ঘুমানো যায় কিনা এবং বিয়ের সময় আমার ১ম স্ত্রীকেও সাজানো যায় কিনা বা সম্ভব হলে একেবারে নতুন বিয়ের মতো তাকে অনুষ্ঠান করে বাবার বাড়ি থেকে তুলে আনার ব্যবস্থা করা যায় কিনা?
এখানে আপনাদেরকে বলে রাখি, প্রতিদিন যে শুধু সহবাস করবো বা প্রতিদিন যে শুধু চারজনকে নিয়ে ঘুমাবো, তা কিন্তু না। কথা হচ্ছে জায়েজ কিনা বা কেন জায়েজ নয়?
এ মাসআলাটির বর্তমানকার সময়ের সঠিক সমাধান দেয়া ও এর বাস্তবায়ন ঘটিয়ে সমাজে তা দেখিয়ে যাওয়াই হচ্ছে আমার মূল কাজ।
তাছাড়া নাজায়েজ হলে আমি আরেক বিয়ে করবোইবা কিভাবে?
কারণ আমার যে হৃদয় বড়, আকাশের মতো ভালোবাসা আর সাগরের মতো বুক আমার।
একস্ত্রীকে অন্যত্র রেখে, আরেক স্ত্রীকে নিয়ে আমি আনন্দ উপভোগ করতে পারবো না।
আমার হৃদয়ে বাধবে, আমার নিজেরই মন কাঁদবে। তখন আমি বিয়েই করতে পারবো না। চার বিয়ে গিয়ে দূরে থাক, দুই বিয়েও করতে পারবো না।
কারণ একজন স্ত্রীকে শোক সাগরে ভাসিয়ে, আরেকজন স্ত্রীকে নিয়ে ফূর্তি করবো, এটা আমি জীবন-যিন্দিগীতেও পারবো না।
এখন দেখেন আপনারা এ মাসআলাতে, আপনাদের বিচার কোনদিকে নিবেন।
আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি যে, আমার সাথে একদল মহিলা জিন থাকে! তাই মাসআলাটি হয়তো আমার খুব প্রয়োজন হতে পারে!
অন্যদিকে আরেক বিয়ে বা চার বিয়ে না করলে, এবং অসংখ্য বৈধ নারীর মালিক না হলে, আর আমার অনেক অনেক সন্তান না থাকলে, তাহলে আমার বংশে ঈমাম মাহাদী (আঃ) আসার যে দোয়া আল্লাহু তা'য়ালার নিকট করে যাচ্ছি, তা কিভাবে বাস্তবায়িত হবে, তাও বুঝতেছিনা? কিন্তু আমি যে চাই!!
আবার আমার বংশে আমি যে শুধু হাফেজ-আলেমের আধিক্য চাই! ঈমাম মাহাদী (আঃ) এঁর অনুগত ফাইটার, সমাজ সেবক ও দানবীর চাই! আমার বংশে এতো হাফেজ-আলেম কিভাবে আসবে, সে পথ কীভাবে সৃষ্টি হবে তাহলে!!
যাক, সবমিলিয়ে আপনারা ভালো করে চিন্তা করে আজকে যে সমস্যাটি উত্থাপন করেছি এর সমাধান করুন।
আমি মাসআলাটি সবিস্তার বর্ণনা করেছি এবং আপনাদের পজিটিভ কমেন্টস এর দিকে তাকিয়ে আছি!
আমি কথা দিচ্ছি, আপনারা যদি আমাকে এ বিষয়টি জায়েজ বলেন বা জায়েজ বলে সাব্যস্ত করেন অথবা আমি যদি মানব মনে এটি জায়েজ হিসেবে প্রমাণ বা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে মহান রব তাওফিক দিলে তবে, চার বিয়ে করে এবং তাদের সবাইকে নিয়ে একই বিছানায় ঘুমিয়ে সাম্যতা, উদারতা, হৃদ্যতা, বন্ধুত্ব আর মহানুভবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো এ পৃথিবীতে ইনশা'আল্লাহ।! এবং আশাকরি কেয়ামত পর্যন্ত তা আদর্শ ও এক অপরূপ মডেল হিসেবে উপস্থিত থাকবে আপনাদের নিকট!!
(এ কিতাব, এ পোস্ট এবং এর লিখককে আরো ভালো ভাবে বুঝতে গুগলে 'ফতোয়ায়ে আরিফ এর লিখকের বাণী' লিখে সার্চ দিন এবং ওপেন হলে তা মনোযোগ সহকারে পড়ুন ও আজকের এ পোস্টটি পড়ুন। আশাকরি সব জানতে পারবেন।)
১২। রোকনের তুল্যমান বা পর্যায়ঃ
স্ত্রীগণ শস্যক্ষেত্র এবং তারা পরষ্পর পরষ্পরের পোষাক, স্বামী-স্ত্রীর এ বৈশিষ্ট্যটি পবিত্র কিতাব, আল কোরআন কর্তৃক দেয়া হয়েছে। আয়াতদ্বয় (উপরে উল্লেখিত ২:২২৩, ২:১৮৭) স্বামী-স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য প্রদায়ক। কোন প্রকার নির্দেশ প্রদায়ক নয়।
মানব জীবনে পোষাকের প্রয়োজনীয়তা ও গুণাগুণ লিখে শেষ করা যাবে না।
তেমনি স্ত্রীর জন্য স্বামী ও স্বামীর জন্য স্ত্রীর প্রয়োজনীয়তাও পোষাকের মতোই হবে।
তবুও এদের প্রধানত দুটি অর্থ হবে, (১) পোষাক যেমন শীত, গ্রীষ্ম ইত্যাদি প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতির স্বাপেক্ষে একজন মানুষকে সুরক্ষা দেয়, ব্যক্তিত্ব ও আভিজাত্য প্রকাশ করে, ঠিক তেমনি স্বামীর জন্য স্ত্রী এবং স্ত্রীর জন্য স্বামী অনুরুপ কাজই সম্পন্ন করে বা করতে হবে। পোষাক যেমন নিজের শরীরকে ঢেকে রাখে, গোপন বা লুকিয়ে রাখে নিজের যত দূর্বলতা ও লজ্জ্যা; স্বামীর জন্য স্ত্রী এবং স্ত্রীর জন্য স্বামীও তদ্রুপ নিজেদের সমস্ত দূর্বলতা গুলো ঢেকে রাখবে বা রাখতে হবে। অর্থাৎ তারা একে অপরের পরিপূরক থাকবে বা থাকতে হবে। পোষাক যেমন একজন মানুষের একেবারেই নিকটতম, এরচাইতে নিজ শরীরের নিকটতম আর কিছুই নেই, তেমনি তারা দু'জন এতোই নিকটতম হবে যে, তারা পরষ্পর অন্তরঙ্গ বন্ধু হবে বা হতে হবে এবং এর চাইতে আন্তরিক ও মুহাব্বতের বন্ধু আর কেউ হবে না বা থাকতে পারবে না। পোষাকবিহীন যেমন একজন মানুষ ভদ্র সমাজে বাস করতে পারেনা, মানে সে বন্য হিসেবে পরিচিত হয়; ঠিক তেমনি পূরুষ নারীবিহীন, অথবা নারী পূরুষবিহীন কখনোই ভদ্র ভাবে জীবন অতিবাহীত করতে পারবে না।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
(২) উপরোক্ত আয়াত দ্বয়ের ২য় অর্থঃ স্বামী, স্ত্রীর পোষাক; আর স্ত্রী, স্বামীর পোষাক। অর্থাৎ তাদের সম্পর্ক এতোই ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বপূর্ণ হবে যে, একজন একজনের শরীরের যে কোন অংশ দেখাতে, বা উজাড় করে দিতে কোন ধরনের অপমানবোধ করবেনা এবং প্রয়োজন দেখা দিলে তখন শুধু তাদের দুজন, অন্যকেহ দেখবেনা এ রকম স্থানে সম্পূর্ণ কাপড় বিহীন অবস্থায় থাকতে পারবে ও তাদের একজন অপরজনের শরীরের যে কোন অংশ দেখতে ও দেখাতে পারবে ও ছুঁতে বা ধরতে বা ধরতে দিতে পারবে। কারণ স্বামীর জন্যতো স্ত্রী, আর স্ত্রীর জন্য স্বামীই পোষাক; এখানে আর পোষাকের প্রয়োজনীয়তা নেই। পোষাক যেমন শরীরে যে কোন উদোম অংশের সাথে লাগে; তেমনি স্বামী কিংবা স্ত্রীর শরীরের সাথে তাদের পরষ্পর শরীরের যে কোন উদোম অংশের সাথে লাগবে বা লাগতে দিতে হবে বা দিতে পারবে।
মানুষকে আল্লাহ জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আর এ মানুষকে স্বামী-স্ত্রী এর সহবাসের মাধ্যমেই এ পৃথিবীতে আগমনের ব্যবস্থা করেছেন।
ইসলামি শরিয়তমতে, স্বাভাবিক অবস্থায় চার মাসে অন্তত একবার স্ত্রী সহবাস করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। আর যদি স্ত্রী যুবতী হয়, স্ত্রীর চাহিদা বেশি হয়, তাহলে কমপক্ষে চার দিনে একবার করা উচিত।
(তথ্যসূত্র: রদ্দুল মুখতার: ৪/৩৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৭/১৫২, নং: ১২৫৯৪; ফাতহুল মুলহিম: ৬/৫৯৯, নং: ৩৫২৪)
এবং তাদের এ একান্ত গোপন সময়, মানে স্বামী স্ত্রী সহবাসের সময়ে কিছু কাপড় পরবে, না নাপরবে এটা তাদের এখতিয়ারাধীন থাকবে। অন্যদিকে যেহেতু উপর্যুক্ত ঐ ২ আয়াতে উদোম থাকার জন্য তাদেরকে কোনরুপ নির্দেশ দেয়া হয়নি অথবা কাপড় পরিধান না করতে কোন ধমকও দেওয়া হয়নি, কিংবা কাপড় পরলে, তখন শাস্তি প্রদানের কোন ঘোষণা বা হুশিয়ারীও দেয়া হয়নি। যেহেতু আয়াত ২টি স্বামী-স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য বাচক; কোন রূপ হুকুম প্রদায়ক নয়। তাই এ সময়ে কাপড় পরিধান করা কিংবা না করা অথবা কটটুকু পরবে বা কটতুকু উদোম থাকবে এ বিষয়টি তাদের দু'জনের সহবাসের প্রয়োজনীয়তা, মানসিকতা বা যৌন উত্তেজনা বা তৃপ্তি আনয়নের বা তাদের দু'জনের যে কারো শরীরীক, মানসিক বা রিপুগত চাহিদার উপর নির্ভর করবে।
আবার চারজন স্ত্রীকে নিয়ে একই সময়, একই বিছানায় একসাথে সহবাস, এ তরীকাটি যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক আমলকৃত নয়, তাই এ তরীকাটি মুবাহ্ হিসেবেই নির্ণীত হবে।
তবে স্বামী যদি যে কোন সময় (এমনকি দৈনিক ৫ বার করে চাইলেও) চায় যে, ২/৩/৪ জন স্ত্রীকে একসাথে সহবাস করতে, তাহলে তাদের সকল স্ত্রীর এতে রাজী থাকতে হবে।
আবার স্ত্রীগণও যদি চায় যে (যত বারই চাওয়া হইউকনা কেন), গ্রুপ সেক্স করতে স্বামীকেও এতে রাজী থাকতে হবে। এবং এ রাজী থাকার বিষয়টি এ সময়ে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের জন্য ওয়াজিব হবে (যতবার চায় ততবারই)।
যেহেতু এ বৈশিষ্ট্যটি পবিত্র কোরআন কর্তৃক দেয়া হয়েছে। আর স্বামী চেয়েছে, অথচ স্ত্রী বা স্ত্রীগণ রাজী হয়নি; অথবা স্ত্রী বা স্ত্রীগণ চেয়েছে স্বামী রাজী হয়নি, তাহলে তাদের উভয়ের মধ্যকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওয়াজিব তরকের গুনাহ্, মানে মাকরূহে তাহরীমী পর্যায়ের গুনাহ্ হবে।
এ প্রসঙ্গে সবাইকে জানিয়ে রাখি যে, শরিয়তের যে সব আমল ফরজ, ওয়াজিব রূপে পূর্ব নির্ধারিত অবস্থায় আছে, অর্থাৎ ফরজ ও ওয়াজিব আমল সমূহ এবং কিছু কিছু সুন্নাতে মোয়াক্কাদাও রাসৃলুল্লাহ (সাঃ) যেভাবে করেছেন ঠিক সেভাবেই আমল করতে হবে, অন্য কোন তরীকায় আমল করার কোন সুযোগ, ইসলামী শরিয়তে নেই। অন্য কোন তরিকায় আমল করলে, তাহলে ফরজ, ওয়াজিব ও কিছু কিছু সুন্নাতে মোয়াক্কাদা পর্যায়ের কোন আমল, নিজেদের মন ও মর্জি মোতাবেক, এভাবে আদায় হবে না।
আজকের আলোচ্য আমলটি এ ধরনের কোন আমল নয়।
বুঝতে চেষ্টা করুন, ধরুন মিসওয়াক সুন্নাতে মোয়াক্কাদা। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দাঁত পরিষ্কার করা। তাই মানুষদের অনেকেই আজ মূল উদ্দেশ্যকে ঠিক রেখে ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাঁঝতেছেন। ব্রাশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাঁত মাঝেননি এবং ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাঝলে গুনাহ্ হবে, তা তিনিতো (সাঃ) শুধু নয় এবং এ পর্যন্তও কেউ বলেননি।
তেমনি সহবাসের মূল উদ্দেশ্য দাম্পত্য সুখ; তথা স্বামী বা স্ত্রীর শরীর, মন, ও রিপুগত খোরাক এবং সন্তান আগমনী কর্ম।
একসাথে সহবাস, এটি যদি কতক বা কোন অঞ্চলের মানুষের খোরাক বা চাহিদাই হয়, আর এতে সহবাসের মূল উদ্দেশ্য যদি পূর্ণই হয়, তাহলে গাছের ডাল ব্যবহার না করে যদি ব্রাশ ব্যবহার করলে কোন গুনাহ্ না হয়, তাহলে স্বামী ও স্ত্রীগণ মিলে এভাবে গ্রুপ সেক্স করলেও কোন গুনাহ হবে না। বরং স্বামী-স্ত্রীতে এভাবে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর কারণে বেশি সাওয়াব হবে।
মহান রব, মানুষের সেক্সুয়াল এ ক্ষুধাটি স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে মিটানোর ব্যবস্থা করেছেন।
তাহলে স্বামী হিসেবে অথবা স্ত্রী হিসেবে অথবা বৈধ নারী হিসেবে, আপনি যদি আপনার স্বামী কিংবা স্ত্রীকে কিংবা আপনার মালিককে, কিংবা আপনার মালিকানার বৈধ নারীকে ক্ষুধার্তই রাখেন, তাহলে এ দায় কি আপনার নয়? এবং ক্ষুধা নিবারণে অপরজন যাবে কোথায় এখন বলেন? তাহলে স্বামী কিংবা স্ত্রী কিংবা বৈধ নারী কিংবা মালিক যেই'ই হোক এবং যেভাবেই চাক, তৎক্ষণাত তাদেরকে সম্ভব ও জায়েজ মোতাবেক রাজী হয়ে যেতে হবে।
তবে মনে রাখতে হবে মহান আল্লাহ, সর্বাবস্থায় স্বামীকে স্ত্রীর উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই স্ত্রীর এমন কিছু করা উচিৎ হবে না, যে কাজে তার স্বামীকে অপমানিত বা খাটো হতে হয়।
আবার এ কথার অর্থ এই না যে, স্ত্রী বেচারী অভূক্ত থাকবে, বা স্বামী তার কথা শুনবে না।
[সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে]
প্রয়োজনে স্ত্রী, স্বামীর উপর দিয়ে উঠবে, এতে কোন সমস্যা নেই। বন্ধুতো, বন্ধুই; এখানে এতো দূরত্ব বা ইতস্তত আর লজ্জ্যা বা কাপড় নিয়ে টানাটানির মানে কি। বরং এখানে কেউ লজ্জ্যা দেখানো বা ইতস্তত করার একটা প্রধান মানে এই যে, সংশ্লিষ্ট মানুষটি তার স্বামী বা স্ত্রীর বা মালিকের বা বৈধ নারীর সঠিক বন্ধু হতে পারেনি এখনো। অথবা নতুন হলে, তবে এখনো লজ্জ্যা কেটে উঠতে পারেনি হয়তো।
যেহেতু মানুষের শরীর, মন, নফস, রিপু এগুলোরও ক্ষুধা রয়েছে। আর ক্ষুধা পূরণের ব্যবস্থা মহান রব এভাবে করেছেন।
আপনাকে আমাকে যদি এ ক্ষুধা পূরণের কোন বৈধ পথ না দেয়া হয়, তাহলে এটি অন্যায় পথে যাবেই। বা না গেলেও, তখন গুনাহ যে শুধু তার হবে, তা নয়; আপনারও গুনাহ হবে; কারণ তাকে অভূক্ত রেখে, এ কষ্টতো আপনিই দিচ্ছেন, তাই না? আর এ কষ্টের কারণেইতো সে এদিক সেদিক গেলো।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
১৩। যুক্তি খন্ডন ও বিপরীত যুক্তি প্রদানের আহবানঃ
যারা একই সাথে একই বিছানায় ৪জন স্ত্রীর সাথে বা আনলিমিটেড নারীর সাথে সহবাস করা নাজায়েজ মনেকরেন, তাদেরকে নিম্নলিখিত যুক্তি সমূহ খন্ডন বা এর বিপরীত যুক্তি প্রদান করতে আহবান জানাচ্ছিঃ-
(১) উপরে ৭ নং ক্রমিকে উল্লেখিত সূরাতুল বাকারার ২২৩ ও ১৮৭ নং আয়াতে লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী স্ত্রীদের ক্ষেত্রে বহুবচন ব্যবহার করে শস্যক্ষেতের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন? শস্যক্ষেতে কি শস্য আলাদা আলাদা থাকে, না একসাথে থাকে? তাহলে স্ত্রীগণ একসাথে থাকলে মানে একসাথে সহবাস করলে গুনাহ্ হবে কেন? আর যদি গুনাহ'ই বলেন, তাহলে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিবেন যে, স্ত্রীদেরকে বহুবচন ব্যবহার করে, মানুষকে বুঝাতে, তাদের সবাইকে পোষাকের সাথে তুলনা করা এবং তাদেরকে শস্যক্ষেত্রের সাথে উপমা দেয়ার পিছনে আল্লাহু তা'য়ালার কী উদ্দেশ্য ছিলো?
তাহলে উপরের ৭ নং ক্রমিকে লিখিত বর্ণনা মতে এটি জায়েজ হবে না কেন? আর যদি নাজায়েজই হয় তাহলেও উপরোক্ত বর্ণনা মতে বিষয়টি ভালো করে বুঝিয়ে দিন যে, স্ত্রীগণ স্বামীর পোষাক ও তার শস্যক্ষেত। এখানে স্ত্রীগণ, পোষাক ও শস্যক্ষেত এ কথাগুলোর অর্থ কী ছিলো?
(২) রোজার দিনে স্বামী সহবাস করা যাবে না, মৃত প্রাণীর মাংস খাওয়া যাবে না, সুদ খাওয়া যাবে না; মানুষের প্রতি পবিত্র কোরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ এ রকম অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে তরীকায় সহবাস করেছেন, সেখানে গুহ্যদারে সহবাস করবে না, হায়েজ-নেফাসের সময় সহবাস করবেনা, এ রকম নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাদীস শরীফে সহবাস বিষয়ে ছোট-বড় বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর কম করে হলেও প্রায় ২০টি হাদীস ও কয়েকটি কোরআনের আয়াত রয়েছে।
যে নিষেধাজ্ঞাগুলো রয়েছে, তা আমরা না মানলে অবশ্যই আমাদেরকে গুনাগার হতে হবে।
কিন্তু বিয়ের পর, তাদের প্রধান কর্মই হচ্ছে মিলন। অথচ এ ক্ষেত্রে স্ত্রীদের সাথে একসাথে সহবাস করা যাবে না, এ বিষয়ে কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা নেই একটি জয়িফ হাদীস এবং ছোট একটি কোরআনের আয়াত বা আয়াতাংশও নেই। এর কারণ কী? যদি স্বামীর সাথে স্ত্রীদের বা মালিকের সাথে বৈধ নারীর গ্রুপ সেক্স নাজায়েজই হতো, তাহলে স্বামী-স্ত্রীর বা মালিকের এ রকম একটি প্রধান কাজে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না কেন? এছাড়া কোনকিছুতে নিষেধ না থাকলে, সেটি হ্যাঁ হবে না কেন? ফলে স্বামী-স্ত্রীর গ্রুপ সেক্স কোন যুক্তিতে নাজায়েজ হবে (?), এবং এটি জায়েজ হবে না কেন?
(৩) উপরে উল্লেখিত সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে স্ত্রীগণ স্বামীর পোষাক। তাহলে কোরআন যেখানে স্ত্রীদের সবাইকে একসাথে পোষাক বলেছে, সেখানে তাদের সহবাসের ক্ষেত্রে সতরের বিষয়টি আসবে কেন? মুসলিমদের প্রতি সতরের যে নির্দশনা, তা কি বিয়ে সম্পর্কিত কোরআন হাদীসের সাথে বলা হয়েছে? না অন্যত্র? অন্যত্র হলে, বিয়ে সম্পর্কিত বিষয়ের সাথে কেন সতর জুড়ে দিবেন আপনারা? স্ত্রীগণ স্বামীর পোষাক। তো যেখানে স্বামী আছে, কোরআন বলছে সেখানেতো স্ত্রীগণ (কোরআনে এখানে সে তোমার পোষাক, এভাবে বলে নাই; স্ত্রীগণ বলেছে, মানে সকল স্ত্রীই স্বামীর পোষাক), মানে সকল স্ত্রীই একসাথে সেখানে স্বামীর পোষাক। তাহলে স্বামীর সামনে সবাই যদি পোষাক হয়; তাহলে তারা পরষ্পর সতর দেখলে দোষ হবে কেন? চোখ কি তখন তারা বন্ধ করে রাখবে? না শুধু আসমানের দিকে চেয়ে থাকবে তারা? তাছাড়া তাদের তখন কর্মটিই হবে সহবাস। কর্ম মুখ্য হবে, না ঘোমটা মানে সতর মূখ্য হবে, কোনটি? (এবং মালিক ও তার অধিনস্থ বৈধ নারীদের ক্ষেত্রেও উপরের কথাগুলো প্রযোজ্য হবে)
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
(৪) উপরোক্ত ৭ নং ক্রমিকে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রীদের কেউ স্বামীর বিছানা থেকে সরতে রাজী না। কোরআন ও হাদীস থেকে এমন কোন দলীল বা কাউকে এ বিষয়ে অধিকার দেয়া হয়েছে কি (?), শক্তি প্রয়োগ করে তাদের যে কাউকে বা তিনজনকে স্বামীর বিছানা থেকে অন্যত্র সরিয়ে শুধুমাত্র এক জন স্ত্রীর সাথে সেক্স করা যায় এ রকম? তো যদি শক্তি প্রয়োগের কোন বৈধ আয়াত বা হাদীস না পান, তাহলে তাদেরকে আলাদা করবেন কিভাবে? আর যদি তাদেরকে বৈধ ভাবে, আলাদা করা নাই'ই যায়, তাহলে স্বামী-স্ত্রীর গ্রুপ সেক্স অবৈধ হবে কেন? যুক্তি সহকারে বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করছি। অথবা তাদেরকে আলাদা করতে শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন প্রদান বিষয়ক পবিত্র কোরআন ও হাদীসের বাণী উপস্থিত করুন। প্লিজ এ কাজটি করে দেখান। আর যদি না পারেন, তাহলে শুধু শুধু খোঁড়া যুক্তি তুলে স্বামী-স্ত্রীর বা মালিকের গ্রুপ সেক্সকে নাজায়েজ বইলেন না।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
(৫) পবিত্র কোরআন শরীফকে, কিতাব আকারে সংকলন, এ অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করে যাননি, বর্তমান পাঠের উপযোগী করে এটি করলেন সাহাবীদের (রাঃ) কয়েকজন। কিন্তু রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে তাঁদের (রাঃ), মানে সাহাবীদেরকে (রাঃ), অনুসরণ করতে বলে গেলেন। যাতে বুঝা গেল তাঁর (সাঃ) ওফাতের পরে, ফরজ-ওয়াজিব নয়, এরূপ কিছু মোবাহ্ কাজে বা তরীকায় আমরা তাঁর উম্মত হিসেবে মুসলিম উম্মার সমর্থন নিয়ে পরিবর্তন আনয়ন করতে পারি। উপরে ৭ নং ক্রমিকে সহাবীদেরকে (রাঃ) অনুকরণ, অনুস্বরণ বা তাঁদেরকে (রাঃ) মান্য করা বিষয়ক হাদীস ও এর বর্ণনা রয়েছে, এছাড়াও এ বিষয়ক আরো হাদীস আছে। যা আপনাদের হয়তো জানা আছে; আমার কাছে চাইলে আমিও দিতে পারবো ইনশা'আল্লাহ। তাহলে আমাদের প্রস্তাবকৃত মাসআলার এ পরিবর্তন বা আপডেটতো রাসূল (সাঃ) থেকেই অনুমোদিত। তাছাড়া আমরাতো ফরজ ওয়াজিব নিয়ে কোন পরিবর্তনের কথা বলিনি। মোবাহ্ কাজতো আমরা আমাদের মতো করেই করতে পারি। তার উপর কোরআন-হাদীসের সীমারেখার বাইরেতো আমরা কিছু করতে চাচ্ছি না। পবিত্র কোরআন থেকে সাপোর্ট পেয়েইতো করছি। না আমি মিথ্যা বা ভূল বলছি। যেহেতু এটি একটি মোবাহ্ তরীকাকে কেন্দ্র করে। সুতরাং আমাদের এ পরিবর্তন, ইহা অবৈধ বা হাদীসের বিপরীত কিভাবে হবে? তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেননি, অথচ আমরা তাঁর দ্বীনে পরিবর্তন করছি বা হাত দিচ্ছি; আমাদের প্রতি এ রকম জঘন্য অভিযোগ কেন আপনাদের? তাই, যদি আপনি মনে করেন যে, আমাদের এ তরীকার পরিবর্তন, মোবাহ্ কাজটি হাদীসের বিপরীত হচ্ছে, বা কোনরূপ বেদআত বা পাপ কাজ হচ্ছে, তাহলে তা কিভাবে হচ্ছে, তা বুঝিয়ে লিখুন এবং উপরের বর্ণনা মতে এ বিষয়ক যুক্তি ও এর স্বপক্ষে কোরআন-হাদীসের বাণী উপস্থিত করুন। আর যদি না পারেন, তাহলে স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের ক্ষেত্রে আমাদের তরীকা মানে গ্রুপসেক্স এর বিষয়টি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী অনুমোদিত বা জায়েজ এর স্বীকৃতি প্রদান করুন।
(৬) কতগুলো লোক আমাদেরকে বলতে চান যে, স্বামী-স্ত্রীর বা মালিকের গ্রুপ সেক্স যদি অনুমোদিতই হতো, তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করে যাননি বা বলে যাননি কেন? তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তিনি কিভাবে বলবেন আগে আপনাদেরকে সে উত্তর দিতে হবে। যে কালে মানুষ গ্রুপ সেক্স সম্পর্কে কোন মানসিকতাই রাখতো না, যা তখনকার মানুষ বুঝতো না, ৭ নং ক্রমিকে বিষয়টি মোটামুটি বুঝিয়ে লিখেছি, সেখান থেকে মনোযোগের সহিত পড়ে নিয়ে, আপনারাই বলুন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক এটি বলা কিভাবে সম্ভব ছিলো? আর যদি না পারেন, তাহলে এ প্রবন্ধটি পুরো পড়ে, স্বামী-স্ত্রীর ও মালিকের গ্রুপ সহবাস জায়েজ, এ বিষয়ক স্বীকৃতি প্রদান করুন।
(৭) আমাদের যুবক-যুবতীদের শরীর, মন,নফস, ব্রেন ও রিপু যদি ক্ষুধার্ত হয় এবং ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী যদি তাদেরকে, সে ক্ষুধা মেটানোর কোন বৈধ ব্যবস্থা দেয়া না হয় ও নিকটেই যদি থাকে সে খাদ্য খাওয়ার অবৈধ ব্যবস্থা অথবা অবৈধ ব্যবস্থা না থাকলেও, আমাদের যুবক-যুবতীদের সে খাদ্যের আপনি কী ব্যবস্থা করবেন বা করতে চান? না শুধু পাপেই লিপ্ত করিয়ে রাখতে চান?
দেখেন, খাদ্যটি যদি নাজায়েজ না হয়, তাহলে তা কেন আঁটকিয়ে মানুষদেরকে কষ্ট দিবেন অথবা পাপাচারে লিপ্ত করাবেন।
উদাহরণ হিসেবে, ছোট্ট একটি ঘটনার দিকে আপনাদেরকে নজর দিতে অনুরোধ করছি-
হজরত বারা ইবনে আযেব (রা.) বলেন, ইসলামের সূচনা লগ্নে নিয়ম ছিলো ইফতারের পর শয্যা গ্রহণের আগ পর্যন্ত খাওয়া দাওয়া এবং স্ত্রী মিলন বৈধ। আর ঘুমানোর পর খাওয়া দাওয়া ও স্ত্রী মিলন নিষেধ ছিল পরের দিন ইফতার পর্যন্ত।
তাতে অনেক সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ভীষণ সমস্যায় পতিত হলেন।
একদিন ওমর (রা.) হুজুর (সা.) দরবার থেকে বাড়ি ফিরতে দেরী হয়ে গেল। বাড়িতে গিয়ে দেখেন বিবি সাহেবা (রাঃ) ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি সহবাস করতে চাইলে বিবি (রাঃ) বললেন আমি তো ঘুমিয়ে পড়েছি।
ওমর (রা.) বলেন, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ, কিন্তু আমিতো ঘুমাইনি। এই বলে তিনি সহবাস করলেন। পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়ে তিনি হুজুর (সা.) এঁর দরবারে গিয়ে বিষয়টি খুলে বললেন।
এরপর এবং এ ধরনের ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে সুরাতুল বাকারার ১৮৭ নং আয়াতের এ অংশ নাযিল হয়।
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَآئِكُمْ
অর্থ : রোজার রাতে স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ আর তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্মপ্রতারণা করেছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস কর (২:১৮৭)
(৮) মানুষের জন্য উপকারীতা ও অপকারীতার হিসেবেও আপনি স্ত্রীদের সাথে গ্রুপ সেক্স এটি জায়েজ বা নাজায়েজ, এ ফতোয়া দিতে পারেন। যা আমি এর পরবর্তী ক্রমিকে উল্লেখ করেছি। যেখানে আমি দেখিয়েছি এর রয়েছে অনেকগুলো উপকারীতা। যার জন্য সহবাসের এ তরীকাটি নাজায়েজ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। অনুগ্রহ পূর্বক পরবর্তী ক্রমিক, মানে ৯ নং ক্রমিকটি ভালো করে পড়ে, আপনি বিচার-বিশ্লেষণ করুন, এটি উপকার(?), না অপকার? যদি বর্তমান সময়ে এ তরীকায় সহবাসে একদল লোকের উপকারই হয়, এবং অন্যকোন যুক্তিতে এটিকে নাজায়েজ প্রমাণ না করতে পারেন; তাহলে কেন একটি কমেন্টস দিয়ে লিখবেন না যে, একই সাথে, ২/৩/৪ স্ত্রীর বা বৈধ নারীর সাথে স্বামী-স্ত্রীর গ্রুপ সহবাস, এটি জায়েজ। আবার যদি নাজায়েজই মনে করেন, তাহলেও কেন আমাদেরকে জানাবেন না যে, এটি এ কারণে বা এ যুক্তিতে নাজায়েজ হবে। মুসলিম হিসেবে আপনার কি কোন দায়িত্ব নেই?
[সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি শেয়ার করা যেতে পারে]
(৯) সেক্স, এটিও আসলে মনুষের এক প্রকারের খাদ্য। নরমালি সাধারন এ খাদ্যগুলো গ্রহনে ছিলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর অনেক গুলো অভ্যাস। যে অভ্যাসের মধ্যে, আমরা জীবন বাঁচাতে সাধারণ যে খাবার গুলো খাই, এখানেও রাসূল (সাঃ) এর সাথে আমাদের তেমন কোন মিল নাই। যেমন- উনি (সাঃ) বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে আনুমানিক প্রায় ১৫০ দিন রোজা রাখতেন। উনি কম খেতেন। খাওয়ার সময় তিনি একহাঁটু উঠিয়ে অথবা দোন হাঁটু উঠিয়ে অথবা আত্তাহিয়াতুর সূরতে বসতেন এবং টেবিল-চেয়ারে বসে তিনি খাওয়ার খেয়েছেন, এ রকম প্রমাণ আপনারা কেউ দিতে পারবেন বলে মনে হয় না। এগুলো ছিলো খাওয়ারের বিষয়ে তাঁর (সাঃ) কতগুলো অভ্যাস।
খাওয়ার খাওয়ায় শুধু এভাবেই খেতে হবে, এ রকম কোন ফতোয়ার বাধ্যবাধকতা তিনি কিন্তু তাঁর উম্মতদেরকে দিয়ে যাননি। এবং পবিত্র কোরআন শরীফ থেকেও সবকিছুতে মুমিনগণ শুধু তাঁর অভ্যাসেই জীবন-যাপন করবে বা করতে হবে এ রকম কোন বিধান আছে বলে আমার জানা নেই, মানে নেই।
ফলে আমরা তাঁর উম্মত হিসেবে, অনেক সময়, আমাদের তরীকায় খাওয়ার গুলো গ্রহণ করছি; যা নবীজীর (সাঃ) তরীকায় নয়। এবং যেহেতু নবীজীর (সাঃ) দেখানো ঐ তরীকা গুলো ফরজ-ওয়াজিব নয়, তাই এর বিপরীত তরীকায় আমরা খাদ্য গ্রহণ করে ইনশা'আল্লাহ আমরা গুনাহ্গার হচ্ছি না।
তেমনি করে সহবাস নামক খাদ্যটি কিভাবে গ্রহণ করবেন, তা কি নবীজীর (সাঃ) তরীকায় গ্রহণ করবেন (?), না আপনাদের মতো করে গ্রহণ করবেন; তাও আপনারা, খাদ্যাভ্যাসের মতোই আপনাদের মতো করে নিজ নিজ অভ্যাস মোতাবেক গ্রহণ করতে পারেন; যদি না পবিত্র কোরআন-হাদীস থেকে এর কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকে।
তাহলে স্ত্রীদের সাথে গ্রুপ সেক্স এর এ অভ্যাসটি, যেহেতু পবিত্র কোরআন-হাদীস থেকে নিষেধ করা নেই, তাহলে আমাদের ভালো লাগলে আমরা তা গ্রহণ করতে পারি।
এটি শুধু নবীজী (সাঃ) এঁর অভ্যাসের বিপরীত। আরতো কিছু নয়?
হয়তো নবী (সাঃ) এঁর সাথে মিল করে, তাঁর প্রেমে উদ্ভূদ্ধ হয়ে যে কোন কাজ করলে অনেক বেশি সাওয়াব হবে।
কিন্তু তিনি যে তরীকায় আমল করেছেন, এ তরীকায় আমল না করে, অন্য কোন তরীকায় আমল করলে এবং আমলকৃত ঐ তরীকাটির প্রতি কোরআন-হাদীস থেকে কোনরূপ বাধা-নিষেধ না থাকলে, বা আমলটি ফরজ-ওয়াজিব না হলে, বা এটি বিজাতীয়দের কোন ধর্মীয় ইবাদত না হলে, তাহলে এতে গুনাহ্ হবে কেন?
যদি এখনো গুনাহ্ হবে বলেন, তাহলে আপনাদের দাবীর স্ব-পক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করুন।
কিন্তু আমি নিশ্চিত, কোরআন-হাদীস থেকে এ ধরনের কোন বাণী বা প্রমাণ আপনারা দিতে পারবেন না।
তাহলে শুধু নবী (সাঃ) দেখাননি, নবী (সাঃ) করে যাননি, তাই করা যাবে না, গুনাহ্ হবে, এ রকম অযৌক্তিক যুক্তি এনে, শুধু শুধু প্রশ্নবানে জর্জরীত করবেন না, প্লিজ।
আবার যদি নবী (সাঃ) করে যাননি, এ প্রশ্ন তুলেন, তাহলে অবশ্যই আপনাকে টেবিল-চেয়ারে খানা খাওয়া, ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা, মাথায় পাগড়ী না পরে চলাফেরা ইত্যাদি আমল গুলো নবীজীর (সাঃ) এঁর মতো করতে হবে। মানে নিজের প্রতিদিনকার কর্ম থেকে বাদ দিতে হবে নিজেদের এ অভ্যাস গুলো। বাদদিতে পারবেন?
আবার অনেক সময়, সমাজ-সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি-নীতি, অভ্যাস ইত্যাদির কারণে কালের পরিক্রমায় আমলগুলো আমাদের মতো করেই করতে হয়, আমাদের দৈনন্দিন অনেকগুলো আমল। ইচ্ছে থাকলেও পারা যায় না, সুন্নাত মোতাবেক আমল করতে।
অতএব, এ আমলটিও, মানে স্ত্রীদের সাথে বা বৈধ নারীদের সাথে, গ্রুপ সেক্স, এটি শুধু নবীজী (সাঃ) করেননি বলে নাজায়েজ হবে, এটি বইলেন না আর।
বরং আপনার মতে অনুত্তম, এটি বলতে পারেন। আপনি পছন্দ করেন না, এটি বলতে পারেন। কিন্তু এ কারণে নাজায়েজ, এটি বইলেন না।
তাই এ বিষয়ে কথা হলো, যদি আপনি স্ত্রীদের বা বৈধ নারীদের সাথে গ্রুপ সেক্স, এটি নাজায়েজ বলেন, তাহলে নাজায়েজতো আপনার মন-মগজ বা পছন্দ-অপছন্দ বা অনুমান-ধারনা বা অভ্যাস-অনাভ্যাস এসবের উপর ভিত্তি করে হবে না। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এঁর অভ্যাস-অনাভ্যাসের উপরও এটি নির্ভরশীল নয়।
এরজন্য প্রয়োজন পবিত্র কোরআন-হাদীস থেকে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা মূলক বা শাস্তির ঘোষনামূলক বাণী।
আপনার বা আপনাদের প্রতি আহবান থাকলো, এ ধরনের কিছু যদি কোরআন ও হাদীসে থেকে থাকে, তাহলে প্লিজ, এর স্ব-পক্ষে প্রমাণসহ উপস্থাপন করুন।
আর যদি না পারেন তাহলে আমাদের উত্থাপিত আজকের বিষয়টি কেন নাজায়েজ হবে তা বলুন।
যদি তাও না পারেন, তাহলে জায়েজ কেন হবে না তা বলুন।
যদি এবারও না পারেন, তাহলে আমাদের সাথে একাত্ম হয়ে ঘোষণা করুন যে, একই বিছানায় একই সময়ে ২/৩/৪ স্ত্রীর সাথে ও আনলিমিটেড বৈধ নারীর সাথে সহবাস জায়েজ।
(এ কিতাব, এ পোস্ট এবং এর লিখককে আরো ভালো ভাবে বুঝতে গুগলে 'ফতোয়ায়ে আরিফ এর লিখকের বাণী' লিখে সার্চ দিন এবং ওপেন হলে তা মনোযোগ সহকারে পড়ুন ও আজকের এ পোস্টটি পড়ুন। আশাকরি সব জানতে পারবেন।)
১৪। একসাথে সহবাসের উপকারীতাঃ
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
প্রথমে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, যে বা যারা স্ত্রীদেরকে বা বৈধ নারীদেরকে আলাদা বাড়ীতে বা রুমে রেখে, স্ত্রীদের সাথে আলাদা সংসারের মতো জীবন-যাপন করছেন, বলা বাহুল্য তাদের নিয়ত ও কর্ম যদি ঠিক থাকে, তাহলে তারাতো উত্তম তরিকাতেই রয়েছেন, এটিতো আগেই বলা হয়েছে। তাই এখানে শুধু যারা আজকের মাসআলায়, আমি যে উত্তর বা সমাধান দিয়েছি, এর পক্ষে অর্থাৎ শুধুমাত্র একসাথে সহবাসের পক্ষে আছেন তাদের পক্ষে, এর উপকারীতা সমূহ তুলে ধরছি-
(১) প্রথমত যাদের মন-মানসিকতা এভাবে সহবাস করার পক্ষে, যারা এভাবে সেক্স করতে না পেরে বা যারা এভাবে সেক্স করার জন্যে, উপায় খুঁজছেন বা এ রকম পতিতালয়ের সন্ধান করতেছেন বা এভাবে সেক্স করে চলেছেন অথবা বান্ধবীদেরকে নিয়ে এনজয়েবল সেক্সপার্টি করার ধান্দা করতেছেন; তারা বৈধ একটি উপায় খুঁজে পাবেন। ফলে নারীদের যেমন সম্মান ও কদর বাড়বে, ঠিক তেমনি সমাজে পাপ-পঙ্কিলতাও কমে আসবে।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
(২) স্ত্রীদের বা বৈধ নারীদের সাথে এভাবে সহবাসের পর যে সন্তান হবে, তাদের মূল বা সূচনা বা জন্মের প্রারম্ভিকতা চার স্ত্রীর সাথেই বা সন্তানের চার মায়ের সাথেই, অথবা অনেক গুলো বৈধ নারীর সাথেই সম্পৃক্ত বিধায়, এক সংসারের সন্তান, আরেক ঘরের সন্তানের সাথে প্রাকৃতিকগত ভাবে; যে হিংসা, বিদ্বেশ ও শত্রুতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তা অনেকাংশে লোপ পাবে।
(৩) বর্তমানকার যে সব সতীনবোন অপর সতীনবোনের সতর দেখে যাওয়ার মিথ্যে অবৈধতার কথা তুলে, একসাথে সহবাসকে নাজায়েজ বলছে, আমি নিশ্চিত, এদের মধ্যেকার শতকরা ৮০ ভাগের মনের গহীনে হয়তো লুকিয়ে রয়েছে হিংসা ও স্বার্থপরতার বীজ। এ জন্য তারা একে অপরের সামনে, এভাবে উজাড় হতে পারবে না হয়ত।
সাধারণত একজনের সামনে, এভাবে কাপড় খুলে উদোম হতে পারে কে?
২ ধরনের মানুষই এটা পারে। নেগেটিভ মানুষদের কথা আমি এখানে উল্লেখ করছি না।
এ বিষয়ে পজেটিভ মানুষদের ব্যাখা হচ্ছে, যারা বা যেসব মুমেনা একজনের সাথে একজন একেবারেই আন্তরিক, হিংসা, বিদ্বেশ ও শত্রুতা বিহীন তারাই শুধুমাত্র একজনের সামনে একজন এভাবে উজাড় করতে পারবে।
ফলে এ সিস্টেমে যারা রাজী থাকবে, তাদের পরষ্পরের মধ্যে অহংকার, হিংসা-বিদ্বেশ ও অতিরিক্ত স্বার্থবাদিতা অনেকাংশেই লোপ পেতে পারে।
(৪) এভাবে পয়দাকৃত সন্তানদের জ্ঞান-বুদ্ধি ও স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো পর্যায়ের হতে পারে। মাইন্ড করবেন না; যেহেতু এরা শংকর সিস্টেমে সৃষ্ট।
(৫) বর্তমানে যে সব স্বামী একাধিক বিয়ে করছেন, তাদের প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারে স্বামীর সাথে একস্ত্রীর সম্পর্ক ভালো হলেও বাকী পরিবার বা পরিবার গুলোর মধ্যে মোটেই ভালো সম্পর্ক নেই। প্রায় বেশির ভাগ জায়গায়, এক স্ত্রীর সাথেও স্বামী বেচারার ভালো সম্পর্ক নেই। এমনকি এ সবকে কেন্দ্র করে, সন্তানের হাতে পিতা খুন কিংবা স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, এ জাতীয় ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।
কিন্তু তাদের হৃদ্ব্যতা যদি এ পর্যায়ে পৌঁছে যে, চারজন স্ত্রীকেই তিনি সম্পূর্ণ উদোম দেহে ও খুশিমনে সাম্যতা আর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ও সন্তুষ্ট রাখতে পারছেন; তাহলে এ তরীকায় সহবাসের কারণে চারজন স্ত্রীর সাথেই নিরঅহংকারমূখী একটা ভালো সম্পর্ক থাকতে পারে।
(৬) একই ভাবে অনেক স্থানে এমনও দেখা যায়, কোন কারণ নেই, এরপরও শুধু হিংসার বশবর্তী হয়েই, একসতীনের ছোট ছেলেকে সুবিধামতো পেয়ে হত্যা করেছে আরেক সতীন। আজ যদি ঐ সতীন বোনের সামনে নিজের ইজ্জত বা কাপড় খুলে সম্পূর্ণ উদোম দেহে বন্ধুত্বের বন্ধনে আরেক সতীন বোন মিশে যেতে পারতো, তখন হয়তোবা এতোটুকো হিংসা ও শত্রুতার বীজ অন্তরে দানা নাও বাঁধতে পারতো।
(৭) একজন মুমেন/মুমেনার সামনে এভাবে খুশিমনে পজিটিভলি আরেকজন মুমেন/মুমেনা উদোম হতে পারা ও সকলের এতে অর্গাজম হওয়া এবং সকলেই তৃপ্তি ও প্রশান্তি পাওয়া, শুধু এতেই প্রমাণিত হয় যে, তারা সকলেই পরষ্পর নিরহংকার ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। ফলে আমি মনে করি, একাধিক বিয়ে করার পরে যারা এ তরীকায় সহবাস করে, বা করতে পারে, বর্তমান সময়ের মানুষদের মানসিকতা অনুযায়ী তারাই সুখী ও সমৃদ্ধশালী হতে পারে সব চাইতে বেশী।
(৮) বর্তমান আধুনিক দিনে যেখানে এক সেকেন্ড সময়ের মূল্য মানুষের নিকট অনেক, সেখানে চারজন স্ত্রীর ও অধিকারভুক্ত বৈধ নারীদের আলাদা আলাদা বাড়িতে যাওয়া, এবং তাদের মাঝে সাম্যতা বজায় রাখা, চারজনকে এবং বৈধ নারীদেরকে আলাদা আলাদা বাজার করে দেয়া এবং তাদের পরিবার মেইনটেন্যান্স করা ও তাদেরকে সমান হারে সেক্সুয়াল সময় দেয়া, একজন পূরুষের পক্ষে অনেকটাই ডিফিকাল্ট, অতিরিক্ত সময় ক্ষেপন ও অর্থব্যয়ী স্বাপেক্ষ। সার্বিক ভাবে যা মানুষের সাফল্যের অন্তরায়। ফলে মানব জীবনের সাফল্যের জন্য স্ত্রীদের ও বৈধ নারীদের গ্রুপসেক্স অনেক বেশী কার্যকরি।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
(৯) চার বান্ধবী, একসাথে চলাফেরা করতে পারে, ঘুরতে পারে, আড্ডা দিতে পারে; কিন্তু একই স্বামীর বউ হতে রাজী নাই। এবং একসাথে সহবাসের বিষয়ে একেবারে মোটেই রাজী নাই।
এতে এই'ই প্রমাণিত হয় যে, তারা যতটা না সতর দেখে যাওয়ার ভয়ে এ রকম করছে, তার চাইতে হাজারো গুণ বেশি নারাজি হচ্ছে, তাদের স্বার্থবাদিতা, হিংসা আর অহংকারের কারণে। বিপরীতক্রমে যারা এ সিস্টেমে রাজী থাকে, তারা কিছুটা হলেও নিরঅহংকারী ও অহিংসুখ হতে পারে।
ফলে সবকিছুর বিবেচনায় এবং বর্তমানকার সময়, মন, রিপু ও পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে আমার মনে হয়, যদি কোন মুমেন একাধিক বিয়ে করার নিয়ত করে ও বৈধ নারীর মালিকানা পেতে চায় এবং সে যদি ব্যস্ত মানুষ হয়, তবে স্ত্রীদেরকে ও বৈধ নারীদেরকে আলাদা বাড়িতে রাখার চাইতে একই বাড়িতে রাখা এবং একসাথে সহবাস করাটাই তারপক্ষে উত্তম হবে হয়তো।
(১০) আবার যেসব মুমেন/মুমেনা পরষ্পর আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বের কারণেও এভাবে সবাই একত্রে মিলে সহবাস করে ও আনন্দ-উল্যাস করে; আর এভাবে সহবাসের কারণে তাদের মুহাব্বতের বন্ধন আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবে বা হতে পারে। ফলে তাদের জন্য, তাদের এ গ্রুপসেক্স একটি বেহেশতী পরিবেশ বয়ে আনতে পারে।
উপরোক্ত আলোচনা হতে এটিই বুঝতে পারা যায় যে, বর্তমানকার সময়ের ব্যস্ত মুমেনদিগের, যারা একাধিক বিয়ে করতে চান ও বৈধ নারী রাখতে চান, তাদের জন্যে আলাদা আলাদা সেক্স এর চাইতে গ্রুপ সহবাসই পারিবারিক উন্নতি, আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি প্রদায়ক বলে মনে হয়।
আর তাই গ্রুপসেক্স এর এ বিষয়টি মানবজীবনের জন্য কখনোই ক্ষতিকর নয়।
সুতরাং শুধু উপকারীতা / অপকারীতার দিক বিবেচনায় গ্রুপসেক্স কখনোই নাজায়েজ হতে পারে না।
(সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেহে যে কোন পজিশনে একাধীক স্ত্রীর একসাথে সহবাস জায়েজ (রিভিউ), পোস্টটি সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ রইলো)
--: সমাপ্ত:--

0 Comments